USA Leftism

আমেরিকার রাজনীতিতে‌ও উঠছে বাম ভাষ্য

আন্তর্জাতিক স্পটলাইট

অরিজিৎ উপাধ্যায় 
আমেরিকার রাজনীতিতে সমাজতন্ত্র বা বামপন্থা শব্দগুলো দীর্ঘকাল ধরে একধরনের রাজনৈতিক অপরাধ বা অচ্ছুত ট্যাবু হিসাবে দেখা হতো। এই একমাস আগেও সে দেশের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন ‘আমেরিকা কোনোদিন কমিউনিস্ট হবে না - আমেরিকা উইল নেভার বি কমিউনিস্ট।’ রাষ্ট্রপতির পোস্টের নিচে মার্কিন নাগরিকরা লিখে আসেন— কমিউনিস্ট হলে কী সকলের জন্য শিক্ষা, সকলের জন্য স্বাস্থ্য পাওয়া যাবে? পাওয়া গেলে আমি রাজি। এরকম একজন নয়, হাজারে-লাখে মানুষ নানা জায়গায় এই ধরনের মন্তব্য করেছেন। 
২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকালে এক অদ্ভুত রূপান্তর চোখে পড়ে। যে দেশটিকে বিশ্ব পুঁজিবাদের মক্কা বলা হয়, সেখানেই এখন প্রকাশ্য জনসভায় এবং ভোটের ময়দানে বামপন্থী ইস্যুগুলো মূল ধারার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এবারের নির্বাচনে প্রগতিশীল শিবিরের স্পষ্ট জয় এবং তাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর জনপ্রিয়তা সেটাই প্রমাণ করে। সাধারণ মানুষের জন্য নিখরচায় সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা বা 'মেডিকেয়ার ফর অল', কর্পোরেট মুনাফার হাত থেকে শিক্ষাকে মুক্ত করে সবার জন্য উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা, ইজরায়েলের মতো যুদ্ধপ্রিয় রাষ্ট্রকে ঢালাও মার্কিন অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনও যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার আগ্রাসী নীতির তীব্র বিরোধিতা— এই বিষয়গুলো এখন আর কোনও প্রান্তিক বামপন্থী গোষ্ঠীর স্লোগান নয়। এগুলোকে সামনে রেখেই এক ঝাঁক নতুন, প্রগতিশীল এবং ব্ল্যাক, ল্যাটিনো নারী ও তরুণ নেতা মার্কিন আইনসভায় নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন। মিশিগান, টেক্সাস, মন্টানা থেকে উইসকনসিন—সব জায়গাতেই এই মেহনতি মানুষের রুটি-রুজির মন্ত্রে ভর করে প্রগতিশীলরা জয়জয়কার তুলছেন, যা আমেরিকার প্রথাগত কর্পোরেট রাজনীতিকে গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। 
১) নির্বাচনের ফল এবং ইস্যুগুলি
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল বেরোতেই দেখা গেল, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুটো কক্ষই জিতে নিয়েছে। ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের হাতে এতদিন হোয়াইট হাউস, সিনেট আর হাউস, তিনটেই ছিল। সেই ত্রিফলা এবার ভেঙে গেল। সবচেয়ে বড় চমকটা এল টেক্সাস থেকে। ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো সেখানে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে দিয়েছেন, অথচ কয়েক দশক ধরে টেক্সাসে সিনেটের ভোটে ডেমোক্র্যাটদের খরা চলছিল। মিশিগানে জিতেছেন আবদুল এল-সাইদ যিনি প্রকাশ্যে গাজায় ইজরায়েলের ভূমিকাকে গণহত্যা  বলেছেন, মেইনে ট্রয় জ্যাকসন। এই জয়গুলোই সিনেটের হিসাব পালটে দিয়েছে। আমেরিকার আড়াইশো বছরের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ইতিহাসে প্রথম আদিবাসী গভর্নর হবেন নিউ মেক্সিকোর দেব হাল্যান্ড।
এবারের প্রচারের মূল সুরটা কী ছিল? সবার জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা, মানে 'মেডিকেয়ার ফর অল'। সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা আর ছাত্র ঋণের বোঝা কমানো। ইজরায়েলকে নির্বিচারে মার্কিন সামরিক সাহায্য বন্ধ করা। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতা। আর সবকিছুর ওপরে জীবনযাত্রার খরচ সামলানো। একটা সার্ভের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বার্নি স্যান্ডার্সের অর্থনৈতিক নীতি এখন ডেমোক্রেটিক পার্টির মূলস্রোতে ঢুকে গেছে। একসময় এগুলোকে প্রান্তিক বামপন্থীদের স্লোগান বলে উড়িয়ে দেওয়া হতো। আজ এগুলো নিয়েই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের দুর্গেও জয় ছিনিয়ে আনছেন। 
২. বামপন্থার উত্থান, স্যান্ডার্স আর ডিএসএ
গল্পটা শুরু ২০১৬ সালে। বার্নি তখন হিলারি ক্লিন্টনের কাছে প্রাইমারিতে হেরে গেছেন, কিন্তু তাঁর প্রচার থেকে একটা গোটা প্রজন্মের তরুণ কর্মী উঠে এসেছে। 'আওয়ার রেভোলিউশন', 'ব্র্যান্ড নিউ কংগ্রেস' এসব সংগঠন তখনই তৈরি হয়। আমেরিকার সবচেয়ে বড় সমাজতান্ত্রিক সংগঠন ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্টস অব আমেরিকা, সংক্ষেপে ডিএসএ, সেই হাওয়ায় ফুলে ফেঁপে ওঠে। যে দেশে 'সমাজতন্ত্র' শব্দটাই একসময় প্রায় গালাগালি ছিল, সেখানে হাজার হাজার তরুণ ডিএসএ-র সদস্য হলেন। আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ, রাশিদা তলাইব, ইলহান ওমরের মতো নেতারা মার্কিন কংগ্রেসে পৌঁছালেন। নিউ ইয়র্কে জোহরান মামদানি মেয়র হলেন। ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় আসার পর ৮৫ বছরের বার্নি 'ফাইটিং অলিগার্কি' সফরে নেমে পড়লেন, ওকাসিও-কর্তেজকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরলেন মিশিগান, মন্টানার মতো রাজ্যে। তাঁর কথায় সবচেয়ে জোরালো কথাটা হলো, অর্থনৈতিক ন্যায়ের লড়াই আর পরিচয়ের রাজনীতির লড়াই একসঙ্গেই করা যায়, শুধু বুকের পাটা থাকা চাই। টেক্সাসের তালারিকো বলেছেন, আমেরিকার আসল বিভাজন বাম-ডান নয়, ওপরতলা আর নিচুতলার।
৩. আমেরিকায় বামপন্থার ঐতিহ্য: ডেবস, লং আর অন্যরা
আমেরিকায় এটা কিন্তু একেবারে নতুন ব্যাপার নয়। ১৮৯০-এর দশকে 'পপুলিস্ট' আন্দোলন কৃষকদের ঋণ আর ব্যাঙ্ক-রেল কোম্পানির দাপটের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। ১৮৯৬ সালে ডেমোক্র্যাটরা তাদের নেতা উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ানকে প্রার্থী করে ওদের দাবিগুলো তুলে নিল। ফলে আলাদা পার্টিটাই শেষ হয়ে গেল।
এরপর ইউজিন ডেবস। রেল শ্রমিকদের ইউনিয়নের নেতা, ১৮৯৪-এর পুলম্যান ধর্মঘটের পর জেলে গেলেন। জেলেই সমাজতন্ত্রের পাঠ নিলেন, বেরিয়ে সোশালিস্ট পার্টির মুখ হলেন। ১৯১২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ছ'শতাংশ ভোট পেলেন, মিলওয়াকির মতো শহরে সমাজতন্ত্রীরা মেয়র পর্যন্ত হলেন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে বলায় দেশদ্রোহের মামলায় জেল হলো। সেই জেলে বসেই ১৯২০ সালে প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়িয়ে প্রায় ন'লক্ষ ভোট পেলেন। এর পরেই আন্দোলনটা ভাঙতে শুরু করে। যুদ্ধের দমনপীড়ন, রুশ বিপ্লবের পর কমিউনিস্ট পার্টির জন্ম, সেই থেকে আমেরিকা জুড়ে  'রেড স্কেয়ার' বা লাল-আতঙ্ক তৈরি করা, শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে নানা ধরনের ভাঙন, সব মিলিয়ে সোশালিস্ট পার্টি আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। তার ওপর আমেরিকার 'যে এক ভোটে বেশি পায় সে-ই জেতে' ব্যবস্থায় তৃতীয় দলের জায়গা প্রায় নেই।
এর পর আসেন হিউই লং, লুইজিয়ানার গভর্নর, পরে সিনেটর। ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দায় তিনি 'শেয়ার আওয়ার ওয়েলথ' কর্মসূচি তুললেন। ধনকুবেরদের সম্পত্তির ওপর সীমা বেঁধে দেওয়া, বয়স্কদের পেনশন, সবার জন্য একটা ন্যূনতম আয়। হাজার হাজার ক্লাব গড়ে উঠল। ১৯৩৫ সালে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়। তাঁর সমস্যাও ছিল, নিজের রাজ্যে কর্তৃত্ববাদী কায়দায় চলতেন, আর বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে কখনও সেভাবে দাঁড়াননি। এঁদের পাশে আরও কয়েকজনের নাম আসবে। ক্যালিফোর্নিয়ায় আপটন সিনক্লেয়ার ১৯৩৪-এ গভর্নরের ভোটে 'এপিক' আন্দোলন করে প্রায় জিতে গিয়েছিলেন। বৃদ্ধদের পেনশনের জন্য ডক্টর টাউনসেন্ডের আন্দোলন ছিল। আর সোশালিস্ট নেতা নর্ম্যান টমাস ডেবসের পর দলের মুখ হয়েছিলেন।
৪. অন্য প্রগতিশীল সংগঠন
আমেরিকার আন্দোলনগুলো যে শুধু ভোটের দলকে ঘিরে হয়নি, এটা বোঝা জরুরি। ১৯০৯ সালে তৈরি এনএএসিপি, মানে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালার্ড পিপল, আদালতের লড়াই দিয়ে বর্ণবৈষম্যের ভিত নাড়িয়েছে। নাগরিক অধিকারের জন্য আছে মার্টিন লুথার কিংয়ের এসসিএলসি, ছাত্রদের এসএনসিসি। নাগরিক স্বাধীনতার জন্য এসিএলইউ। শ্রমিকদের জন্য সিআইও, পরে এএফএল-সিআইও, আর এখন ইউএডব্লিউ-র মতো ইউনিয়ন, যার প্রেসিডেন্ট শন ফেন এবারের প্রচারে বার্নির পাশে ছিলেন। আর নতুন প্রজন্মের জন্য সানরাইজ মুভমেন্ট আর 'জাস্টিস ডেমোক্র্যাটস'।
এত আন্দোলন, তবু আমেরিকায় পরিবর্তন ধীর গতিতে ঘটে কেন? প্রশ্নটা পুরানো। এক জার্মান সমাজতাত্ত্বিক ১৯০৬ সালেই জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমেরিকায় সমাজতন্ত্র নেই কেন। এর একটা বড় উত্তর সংবিধানেই। ক্ষমতা ভাগ করা আছে প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস আর সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে। তার ওপর পঞ্চাশটা রাজ্যের নিজস্ব ক্ষমতা। সংবিধান বদলাতে লাগে কংগ্রেসের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ আর চার-পঞ্চমাংশ রাজ্যের সম্মতি। ফলে ঝড়ের মতো কোনও বদল সেখানে ঘটে না।
তবু বদল যে হয়নি তা নয়, শুধু ধাপে ধাপে হয়েছে। গৃহযুদ্ধের পর দাসপ্রথা উঠল, সংবিধানে ত্রয়োদশ থেকে পঞ্চদশ সংশোধনী এল, যদিও কয়েক বছরের মধ্যেই দক্ষিণে জিম ক্রো বৈষম্যের আইন সেই অধিকারগুলো কেড়ে নিল। শ্রমিক আন্দোলন ১৯৩৫-এর ওয়াগনার আইনে ইউনিয়ন করার অধিকার আদায় করল, ১৯৩৮-এ ন্যূনতম মজুরি আর আট ঘণ্টার কাজের আইন এল। নারীদের ভোটাধিকার এল ১৯২০-র ঊনবিংশ সংশোধনীতে। নিউ ডিলের সময় এল সামাজিক সুরক্ষা বা সোশাল সিকিউরিটি। ১৯৬৪-র সিভিল রাইটস অ্যাক্ট আর ১৯৬৫-র ভোটাধিকার আইন কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের আইনি সমতা দিল। একই বছর এল বৃদ্ধদের জন্য মেডিকেয়ার আর গরিবদের জন্য মেডিকেইড। ঐতিহাসিকরা বলেন, আমেরিকায় বিপ্লবের বদলে হয়েছে এক ধরনের 'ভেতর থেকে সংস্কার'। আর এই কাহিনি মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটা জয়ের পেছনে দশকের পর দশক লড়াই ছিল, আর প্রতিটা জয়ের ওপর পালটা আঘাতও এসেছে।
৬. দুই দল কীভাবে বদল ঠেকায়
আমেরিকার দুই বড় দল প্রায়ই নতুন আন্দোলনকে ঠেকায় না, গিলে ফেলে। পপুলিস্টদের ক্ষেত্রে সেটা দেখা গেছে। হিউই লংয়ের ক্ষেত্রেও। লংয়ের প্রতিপত্তি যখন বাড়ছে, প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট ১৯৩৫-এ তথাকথিত 'দ্বিতীয় নিউ ডিল' আনলেন। সামাজিক সুরক্ষা, ওয়াগনার আইন আর ধনীদের ওপর বাড়তি কর তার অংশ। ঐতিহাসিকরা এ নিয়ে একমত নন যে লংয়ের চাপই এর কারণ কি না। তবে অনেকে বলেন, লং আর তাঁর মতো নেতাদের আন্দোলনের চাপ রুজভেল্টকে বাঁ দিকে ঠেলেছিল। ফল দাঁড়ালো, আন্দোলনটা ভোটের জমি হারালো, আর বদলের কৃতিত্ব গেল ক্ষমতাসীন দলের ঘরে। 
এখনও একই খেলা। দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বই বড় কর্পোরেট দাতা আর ওয়াল স্ট্রিটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানি বা অস্ত্র নির্মাতাদের স্বার্থে ঘা লাগে এমন প্রস্তাব উঠলেই দলের ভেতর থেকেই বাধা আসে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও তাই এই টানাপোড়েন, একদিকে স্যান্ডার্স-ঘরানা, আর অন্যদিকে শুমার-ঘরানার প্রতিষ্ঠান।
৭. বড় টাকার খেলা, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ
২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্টের 'সিটিজেনস ইউনাইটেড' রায়ের পর থেকে নির্বাচনে কর্পোরেশন আর কোটিপতিদের খরচের কোনও কার্যকর সীমা নেই। তৈরি হয়েছে 'সুপার প্যাক', যেগুলো প্রার্থীর হয়ে বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার ঢালে। প্রাইমারিতে প্রগতিশীল প্রার্থীদের হারাতে এআইপিএসি-র মতো লবি সংগঠনের বিপুল খরচও ২০২৪-এ নজর কেড়েছিল। এর উল্টোদিকের জবাব হলো ছোট অঙ্কের চাঁদা। বার্নি ২০১৬ থেকে বলে আসছেন, কর্পোরেট টাকা না নিয়েও জেতা যায়। এবার তাঁর প্রচারের সংগঠকরা বলছেন, টেক্সাসে রক্ষণশীলরা কোটি কোটি ডলার খরচ করে সংস্কৃতি যুদ্ধের ইস্যু তুললেও, প্রার্থীরা জীবনযাত্রার খরচের কথা বলে সেটা কাটিয়ে উঠেছেন। মানুষ বুঝতে শুরু করেছে, তাদের করের টাকা জনকল্যাণে না গিয়ে অস্ত্র কোম্পানি আর বিমা কোম্পানির পকেটে যাচ্ছে।
৮. কোন পথে বদল আসবে?
এক পক্ষ বলছে, এই জাগরণ সহজে মিলিয়ে যাবে না। তাদের যুক্তি, তরুণ ভোটাররা ঋণ আর বাড়ি ভাড়ার চাপে ক্লান্ত, আর বার্নির অর্থনৈতিক অ্যাজেন্ডা তাদের কাছে এখন সাধারণ জ্ঞান। রিপাবলিকান শিবিরেও জোশ হ্যাওলির মতো কেউ কেউ শ্রমিক-ঘেঁষা ভাষায় কথা বলছেন, যা বামপন্থার দক্ষিণপন্থী আত্মসাৎ বলা যেতে পারে। জেডি ভ্যান্সও মাঝে মাঝে শ্রমিকদের কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে আইন পাশ করানো আরেক কথা। প্রেসিডেন্ট এখনও ট্রাম্প, সিনেটে ফিলিবাস্টারের বাধা আছে, আর ২০২৮ পর্যন্ত 'মেডিকেয়ার ফর অল'-এর মতো বড় আইন পাশ হওয়া প্রায় অসম্ভব।
৯. আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়বে?
দ্বিতীয় পক্ষের যুক্তি ভিন্ন। তাদের মতে, এই জয়ের বড় কারণ ট্রাম্প-বিরোধী ক্ষোভ আর দ্রব্যমূল্যের চাপ, আর ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারে। সব জয়ীই সমাজতন্ত্রী নন। তালারিকো নিজে একজন প্রগতিশীল খ্রিস্টান, ডিএসএ-র সদস্য নন। ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরের মধ্যপন্থী নেতৃত্ব যদি প্রগতিশীলদের কণ্ঠরোধ করতে পারে, কিংবা দান-অনুদানের চাপে আপস করে, তাহলে এই জোয়ার ফের স্তিমিত হতে পারে। ২০২০-তে বাইডেনের সময় এমনটাই হয়েছিল। এই দুই ভবিষ্যদ্বাণীর মাঝখানে ২০২৮-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্টস ওকাসিও-কর্তেজের নাম এখন জোরালোভাবে ঘুরছে।
১০. জেন-জি-দের ভূমিকা
মিশিগানের নবনির্বাচিত সিনেট বিজয়ী আল-সায়েদ একটি দামি কথা বলেছেন , “সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর এই ধারা বার্নিই প্রথম স্বাভাবিক করে তুলেছিলেন। প্রচারের সময় মিশিগানের যেখানেই গিয়েছি, দেখেছি মানুষ ২০১৬ আর ২০২০ সালের সেই বার্নি স্যান্ডার্সের (রাষ্ট্রপতিপদের নির্বাচনের জন্য প্রচার) কথা এখনও ভোলেননি। তাঁরা বার বার জিজ্ঞেস করেছেন, আমি কি বার্নির ফলোয়ার? করারই কথা, ২০১৬ সালে যাদের বয়স ছিল ১৫ তারা আজ ২৫, এই দশ বছর একটা গোটা জেনারেশন বার্নিকে একই কথা বার বার সারা দেশ জুড়ে বলে যেতে দেখেছে। আমরা আসলে ওঁর মতো মহীরুহদের কাঁধে চড়েই এগিয়ে চলেছি।” 
ট্রাম্পের শুল্কনীতি আর তার প্রভাব, গর্ভপাতের অধিকার, মধ্যবর্তী সময়ে ভোটের এলাকা পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের বিক্ষোভ, ভোটাধিকার আইন নিয়ে আদালতের রায়, গাজা নিয়ে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ক্ষোভ, প্রযুক্তি-ধনকুবেরদের রাজনৈতিক ক্ষমতা, জলবায়ু নিয়ে প্রশ্ন, সব নিয়ে সেখানকার তরুণ প্রজন্ম বিক্ষুন্ধ, কিন্তু ধাঁধায়, কারণ বার্নি, বা তাঁর অনুগামীরা মূলত সামাজিক গণতন্ত্রী, বিপ্লবী নন, সব দাবিদাওয়া কী এই কয়েকটা প্রশ্নে থেমে যাবে নাকি লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হবে, আরও জোরালো কেউ এগিয়ে আসবেন। বলবে আগামীর আমেরিকা।

Comments :0

Login to leave a comment