November day special

নতুন প্রযুক্তির যুগে সমাজবাদই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক

বিশেষ বিভাগ স্পটলাইট

সাত্যকি রায় 
 

মানব সভ্যতার অগ্রগতি প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মনে রাখা দরকার শিল্প বিপ্লবের আগে পৃথিবীর গড় মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হতো প্রতি ছয় হাজার বছর পর যা শিল্প বিপ্লবের পর কমে পঞ্চাশ বছরে নেমে আসে। এর প্রধান কারণ হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি। প্রযুক্তি সর্বদা চলতি উৎপাদন কাঠামোকে বদলে দেয় এবং সেই বদলের সাথে সাথে উৎপাদন সম্পর্ক অর্থাৎ যে যৌথ সামাজিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে উৎপাদন সংঘটিত হয়ে থাকে তার ব্যবস্থাপনাও বদলে যায়। কখনো কখনো এই প্রযুক্তির পরিবর্তন উৎপাদনের দুনিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে যেমন বাষ্প শক্তির আবিষ্কার, বিদ্যুতের আবিষ্কার অথবা বৈদ্যুতিক ডায়নামোর আবিষ্কার এবং পরবর্তী কালে সেমিকন্ডাক্টর চিপসের আবিষ্কার এবং আজকের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি, ড্রোন ইত্যাদি উৎপাদনে গভীর পরিবর্তন ঘটাতে চলেছে । প্রযুক্তির বিকাশের লক্ষ্য হলো উৎপাদনে সরাসরি শ্রমের ভূমিকা কমিয়ে আনা। এটাই প্রযুক্তির লক্ষ্য—পুঁজিবাদেও তাই সমাজবাদেও তাই। বলা যেতে পারে গোটা মানব সভ্যতার ইতিহাস আসলে এই নতুন উৎপাদন  প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন ও তার উপযোগী সম্পর্ক তৈরি করার ইতিহাস। উৎপাদনের এই পরিবর্তন ও সরাসরি শ্রমের ব্যবহার কমে আসা বিভিন্ন ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ফলাফল তৈরি করবে। ধরা যাক ১০টি লোক প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা কাজ করে ১০০ ইউনিট জিনিস উৎপাদন করে। এবার যদি উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং যদি ধরে নিই যে মোট উৎপাদন অপরিবর্তিত থাকছে তাহলে দু’ধরনের ফলাফল হতে পারে: ৫ জন লোক প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা কাজ করে ওই একই ১০০ ইউনিট তৈরি করবে অথবা ১০ জন লোক প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা কাজ করে ওই একই উৎপাদন করতে পারে। এই দ্বিতীয় সম্ভাবনায় লোকের নিয়োগ কমবে না কাজের ঘণ্টা কমে যাবে। এই সম্ভাবনা আমাদের বিবেচনার মধ্যে কখনো আসে না কারণ তা পুঁজিবাদে অস্বাভাবিক হিসাবে প্রতিভাত হয়। মানুষ যন্ত্রের উদ্ভাবন ঘটিয়েছে তার নিজের সরাসরি শ্রমের ব্যবহার কমানোর জন্য অর্থাৎ তার নিজস্ব ব্যবহার্য সময় বাড়ানোর জন্য। কিন্তু শোষণ ভিত্তিক সমাজে এই সম্ভাবনাটা অবাস্তব কারণ উৎপাদনের উপকরণের মালিকানা কিছু মানুষের হাতে থাকে এবং বেশিরভাগ মানুষ তাদের শ্রমশক্তি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এছাড়া তাদের বিকল্প কোনও আয়ের রাস্তা নেই। যদি একই উৎপাদনের জন্য একই মজুরি হয়ে থাকে তাহলে একশো ইউনিট জিনিস উৎপাদন করার জন্য শ্রমিকের মজুরি সে পাঁচ ঘণ্টায় করল না দশ ঘণ্টায় করল তাতে ফারাক হওয়ার কোনও কারণ নেই। কিন্ত তা হয় না। আসলে পুঁজিবাদে শ্রমিকরা উৎপাদনশীলতা অনুযায়ী মজুরি পায় এই ধারণাটি ভুল। তাকে মজুরি দেওয়া হয় দশ ঘণ্টা কাজ করার মতো কায়িক ও মানসিক সামর্থ্য পুনরুৎপাদনের প্রয়োজনে যা সামাজিকভাবে ন্যূনতম দরকার সেইটুকুর সমান মূল্য মজুরি হিসাবে দেওয়া হয় । এই মূল্যের চাইতে বেশি শ্রমিককে দিয়ে মূল্য উৎপাদন করাতে পারলে উদ্বৃত্ত মূল্য তৈরি হয়। শ্রমের সময় এক রেখে প্রযুক্তির ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে এই উদ্বৃত্ত মূল্যের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হয়। তাই পুঁজিবাদে প্রযুক্তির অগ্রগতির মানে হলো শ্রমিকের থেকে উদ্বৃত্ত মূল্য সংগ্রহের সম্ভাবনা বৃদ্ধি— তা কখনোই  শ্রমিকের নিজস্ব সময় বৃদ্ধি হিসাবে দেখা দেয় না। এই প্রক্রিয়াটি পুঁজিবাদে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্রিয়াশীল হতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত শ্রমের অবদানকে মাপা সম্ভব হয়।
শিল্প বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে যে উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল তার আসল লক্ষ্য ছিল গোটা উৎপাদন প্রক্রিয়াটাকে সাধারণ শ্রমের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা। অর্থাৎ মানুষের দক্ষতাকে যদি মেশিনের মধ্যে নিহিত করা সম্ভব হয় তাহলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শ্রমের নিয়ন্ত্রণ কমানো সম্ভব হবে। পুঁজিবাদের প্রথম দিকের কারিগররা পরবর্তীকালের কারখানার শ্রমিকদের চাইতে ব্যক্তিগতভাবে অনেক বেশি দক্ষ ছিল কারণ তাদের উৎপাদনের সামগ্রিক প্রক্রিয়াটির উপরে দখল ছিল। শিল্প বিপ্লব ও তার পরবর্তী কালে কারখানা ও বিশেষত অ্যাসেম্বলি লাইন এই উৎপাদন ব্যবস্থাপনা তৈরি করার আসল উদ্দেশ্য ছিল শ্রমের স্বাধিকার খতম করা। গোটা উৎপাদন ব্যবস্থাটিকে ছোট ছোট অংশে এমনভাবে ভেঙে দেওয়া হলো যাতে করে শ্রমিকের ব্যক্তিগত দক্ষতার গুরুত্ব উৎপাদনে কমে আসে এবং সহজেই একজন শ্রমিককে অপর শ্রমিক দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা সম্ভব হয়। উৎপাদনের এই ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তি শ্রমিকের অবদান শ্রমঘণ্টার দ্বারা পরিমাপ করা সহজ ছিল। 
আজকের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে উৎপাদনে জ্ঞানের ব্যবহার আনুপাতিক হারে অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। কোনও জিনিসের ভৌতিক পরিবর্তনের পরিবর্তে ব্যবহার মূল্য তৈরিতে মানসিক শ্রমের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। একটি পনেরো হাজার টাকার মোবাইল ফোনের সঙ্গে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোনের পার্থক্য ওই দুই মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত ধাতু, প্লাস্টিক অথবা তার ভৌতিক প্রকরণের উপরে আদৌ নির্ভরশীল নয় বরং এই দামের পার্থক্য ঘটে ফিচারের পার্থক্যের কারণে যেখানে সফটওয়্যা র বা মানসিক শ্রমের ভূমিকা অনেক বেশি। একই সাথে এ কথাও মনে রাখা দরকার যে বিংশ শতাব্দীতে মেশিন যেমন মানুষের কায়িক শ্রমের একটি অংশকে যন্ত্রে নিবদ্ধ করতে পেরেছিল, একবিংশ শতাব্দীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলে মানুষের কতগুলো চিন্তা নিঃসৃত অনুধাবনকে যন্ত্রে নিবদ্ধ করছে। এই জ্ঞান কেন্দ্রিক শ্রম বা কগনিটিভ লেবারের উৎপাদনে যত ভূমিকা বাড়ছে পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা তত বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। প্রথমত, উৎপাদনের উপকরণের উপরে মুষ্টিমেয়র ব্যক্তিগত মালিকানা থাকার কারণে নতুন প্রযুক্তির ফলে যে ব্যাপক উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেল তার প্রয়োগ কার্যত সীমাবদ্ধ থেকে যাবে মুষ্টিমেয়র দক্ষতা বৃদ্ধি ও চাহিদা বৃদ্ধির উপরে। এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে জ্ঞানকেন্দ্রিক প্রযুক্তি আগামী দিনে কোন দিকে চলেছে, কি তার ব্যবহারের বিস্তৃতি হতে পারে তা আজকে বসে ভবিষ্যৎবাণী করা সম্ভব না। কিন্তু একথাও ঠিক যে এই জ্ঞানকেন্দ্রিক উৎপাদন যে ধরনের শ্রমিকের চাহিদা তৈরি করবে তাতে বেশিরভাগ মানুষের সরাসরি উৎপাদনে অংশগ্রহণের সুযোগ ও প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। 
সমাজবাদী ব্যবস্থায় এই একই প্রযুক্তির অন্য ফলাফল হতে পারে। মানুষ একই উৎপাদন অনেক কম সময় করতে পারলে এবং তার সুফল যদি বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে বণ্টিত হয় তাহলে বর্ধিত আরও নতুনতর চাহিদা তৈরিতে কিভাবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার হতে পারে তার সম্ভাবনা বিকশিত হতে পারবে। দ্বিতীয়তঃ উৎপাদন ও প্রযুক্তির উপর ব্যক্তি মালিকানার অবসান ঘটাতে পারলে মুনাফার লক্ষ্যে উৎপাদন পরিচালিত হবে না। প্রযুক্তি মানুষের নিজস্ব ব্যবহার্য সময়ের বৃদ্ধি ঘটাবে। মার্কস বলেছিলেন যে মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতার শুরু হয় তার প্রয়োজনীয়তার অন্ত থেকে। সমাজের সব মানুষের প্রয়োজনীয়তাকে মেটানোর কাজে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলে অন্য মানুষের কাছে শ্রমশক্তি বিক্রি করার প্রয়োজনীয়তাটাই কমতে থাকবে। এটা বেকারত্ব নয় এটা মুক্ত সময়ের বৃদ্ধি— যাকে মার্কস প্রকৃত মানব উন্নয়নের সূচক হিসাবে উল্লেখ করেন।  দ্বিতীয়ত, কগনিটিভ লেবারের অবদানকে শ্রম ঘণ্টায় মাপা ক্রমাগত কঠিন হয়ে আসবে। উৎপাদনে প্রকৃত অর্থে যন্ত্রপাতি ইত্যাদির ভূমিকা ক্রমাগত কমে আসবে এবং মগজের ব্যবহার যত গুরুত্বপূর্ণ হবে তত প্রতিটি মানুষের সামাজিক অবদানকে একটি সাধারণ মাপকাঠিতে পরিমাপ করা কঠিন হতে থাকবে। মার্কস এই ভবিষ্যৎ প্রবণতাকে একশো সত্তর বছর আগে ভাবতে পেরেছিলেন এবং গ্রুন্ডরিসে বলেছিলেন যে সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা ‘জেনারেল ইন্টেলেক্ট’ নিজেই উৎপাদনের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হবে। সেক্ষেত্রে একজন মানুষের উৎপাদনশীলতা আলাদা করে মাপা ক্রমাগত কঠিন হয়ে আসবে। তার কারণ উৎপাদনে সামাজিক শ্রমের অনুপাত ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। ধরা যাক পঞ্চাশ জন শ্রমিক কোনও একটি মোটর গাড়ি তৈরি করছে এবং এই উৎপাদন প্রক্রিয়াটি বদলে গিয়ে দুটি শ্রমিক রোবটের সাহায্যে ওই মোটরগাড়িটি তৈরি করছে। এর ফলে কেউ যদি বলে যে ব্যক্তি শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা পঁচিশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে— এই কথাটার বিশেষ কোনও মানে নেই। আসলে উৎপাদনে সামাজিক শ্রমের পরিমাণ বা জ্ঞানের ব্যবহার যত বৃদ্ধি পাবে তত ব্যক্তিগত শ্রম সামাজিকৃত শ্রমকে প্রতিফলিত করবে। 
উৎপাদন দ্রুততার সাথে সামাজিক আকার ধারণ করছে। একটা ল্যাপটপ নিয়ে নিজের ঘরে বসে কাজ করলেও আমরা প্রতিমুহূর্তে কোটি কোটি মানুষের চিন্তাভাবনা ও জ্ঞানের স্রোতের সুযোগ নিচ্ছি এটাই আজকের উৎপাদনের বাস্তবতা। সামাজিকভাবে উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অবদান ভিত্তিক বণ্টনের প্রক্রিয়াটি ক্রমাগত অকেজো হয়ে আসছে। তৃতীয়ত, পুঁজিবাদের অপর সমস্যা হলো এই জ্ঞানের উপরে ব্যক্তিগত মালিকানা স্থাপনের অবাস্তবতা। একটি কয়লা খনি বা তামার খনির উপরে অথবা কোনও একটি শিল্প প্রকল্পের উপরে অধিকার স্থাপন করা সহজ কারণ এগুলি একটি ভৌগোলিক পরিসীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু তথ্য ও জ্ঞান প্রতিনিয়ত বিশ্বজোড়া ওয়েবে প্রবাহিত হচ্ছে— তাই আজকের সময়ের একচেটিয়া কর্তৃত্ব মানে তা ভুবনব্যাপী হতে হবে। গুগল,আমাজন, ফেসবুক এরা দুনিয়াব্যাপী এই কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য পরস্পরের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে। দুনিয়াব্যাপী জ্ঞান প্রবাহের উপরে ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা ক্রমাগত কঠিন হয়ে পড়ছে। সে কারণেই টেকপুঁজি জ্ঞানের প্রবাহ ও তা ব্যবহারের সুযোগের ক্ষেত্রে প্রাচীর তৈরি করে খাজনা আদায়ের রাস্তায় চলছে। অর্থাৎ মুনাফার স্বার্থে তথ্য ও জ্ঞান প্রবাহে বাধা তৈরি করছে যা নতুন প্রযুক্তি ভিত্তিক উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিকাশের পরিপন্থী।
সমাজতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা মার্কসবাদীদের কাছে একটি নৈতিক ইচ্ছার প্রকাশ নয়। কোনও একটি সমাজের প্রয়োজনীয়তা কোনও মানুষ বা রাজনৈতিক দলের প্রবল বিশ্বাস বা ইচ্ছার উপরে নির্ভর করে না— তা নির্ভর করে সমাজ প্রগতির প্রয়োজনে কোন কাঠামোটি উপযুক্ত তার উপরে। উৎপাদন প্রক্রিয়া আজকের পৃথিবীতে  যে পথে এগচ্ছে তার সাথে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্ক কোনোভাবেই খাপ খাওয়াতে পারবে না— এটাই সমাজতন্ত্রের বাস্তবতা তৈরি করছে। এ কথা ঠিক যে পৃথিবীর ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সমাজবাদের অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা গিয়েছে যা নতুন ধরনের সমাজে মানুষের অধিকার ও অংশগ্রহণ সম্পর্কে অজস্র ইতিবাচক ধারণা উপস্থিত করতে পেরেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে তা শেষ বিচারে সফল হয়নি। সঙ্গে এটাও সত্য যে এই নতুন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার একটি পিছিয়ে পড়া দেশ যেমন চীনকে বর্তমানে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ও অন্যতম প্রযুক্তির শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। সমাজবাদের কোনও আদর্শ রূপ নেই— ঠিক যেমন পুঁজিবাদেরও নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদ, ভারতের অথবা সৌদি আরবের পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এক নয়। ঠিক সেরকমই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমাজতন্ত্রের চেহারা কি হবে তা কোনও নৈর্বক্তিক মাপকাঠি দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সমাজ বদলের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অজস্র সাফল্য ব্যর্থতা একান্তই বাস্তব। এক্ষেত্রে কোনও ব্যর্থতা কতগুলো শিক্ষা উপস্থিত করে মাত্র— তা ওই নতুন সমাজের প্রয়োজনীয়তাকে নস্যাৎ করে দেড় না। মনে রাখা দরকার মানুষ শুধু বর্তমানের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের প্রবণতাগুলিকে দেখতে পায় তা নয়। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নিরিখে বর্তমানের সাফল্য ও ব্যর্থতাকে বিবেচনা করে। যারা সমাজবাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে দেখতে চায়না তারাই কেবলমাত্র বর্তমানের বাস্তবতার মধ্যে এই ভবিষ্যতের বীজকে দেখতে ভয় পায়।
 

Comments :0

Login to leave a comment