Farmers movement

প্রতিবাদী কৃষক খুন

সম্পাদকীয় বিভাগ

প্রতিবাদ চলছে দেশজুড়ে।

ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের দমন করতে এবার বিজেপি সরকারের পুলিশ খুনের পথ বেছে নিয়েছে। শান্তিপূর্র গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার কেড়ে নির্মম অত্যাচার চালিয়ে খুন করেছে এক তরুণ কৃষককে। অভিযোগ মাথায় রাবার বুলেটের আঘাতে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে মাথায় গুলির আঘাতেই যুবক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ফসলের ন্যূনতম সহায়কমূল্যের আইনি গ্যারান্টির দাবিতে হাজার কৃষকের সঙ্গে এই যুবক কৃষকও যোগ দিয়েছিল দিল্লি অভিযানে। নিরস্ত্র কৃষকের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বরদাস্ত করতে রাজি নয় মোদী-শাহদের সরকার। তাই পাঞ্জাব থেকে দিল্লি পৌঁছানোর আগেই হরিয়ানা-পাঞ্জাব সীমান্তের শম্ভু ও খানাউরিতে তাদের আটকে দেয় হরিয়ানার বিজেপি শাস্তি সরকার। একাজে হরিয়ানার পুলিশকে সাহায্য করতে আধা সেনাবাহিনী পাঠায় মোদী সরকার। শুধু পুলিশ, আধাসেনা নামিয়েই নিশ্চিন্ত হয়নি, দিল্লিমুখী জাতীয় সড়কে গড়ে তোলা হয়েছে বহু স্তরীয় ব্যারিকেড। কংক্রিটের গার্ডওয়াল, রাস্তায় গজাল পোতা, কাঁটাতারের আস্তরণ থেকে শুরু করে নানাভাবে নিশ্চিদ্র করা হয়েছে সড়ককে। তাতে কৃষক তো দূরের কথা মাছিও গলতে পারবে না।

স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের অন্নদাতারা রাজধানীতে গিয়ে তাদের দুর্দশা দূর করার দাবি জানাবেন। শান্তিপূর্ণ অবস্থান করবেন। মোদী-শাহদের স্বৈরাচারী সরকার সেটা হতে দেবে না। তাদের শর্তেই চলতে হবে কৃষকদের। তাই হরিয়ানাতেই তাদের আটকানো হয়েছে। বাধা পেয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ হাজারেরও বেশি কৃষক সেখানে অবস্থান করছেন। পথ আটকে দাঁড়িয়ে শতসহস্র পুলিশ-আধাসেনা।  মাঝে মধ্যেই হিংস্র হায়নার মতো কৃষকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে পুলিশ। কৃষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করতে চলছে কাঁদানে গ্যাস, জল কামান, রবার বুলেট ইত্যাদি। পুলিশি বর্বরতায় প্রতিদিন জখম হচ্ছে বহু কৃষক।

কৃষকদের সংগ্রামী মেজাজে শঙ্কিত সরকার তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পাঠায় কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করতে। চারদফা আলোচনা শেষ হবার পর কার্যত ভেস্তে যায় আলোচনা। কারণ সরকার কৃষকদের মূল দাবিটিকে অস্বীকার করে অন্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি দাবিপূরণে জুড়ে দিচ্ছে নানা শর্ত। আসলে দাবি না মানার অছিলা তৈরি করছে। ফলে ৮দিন অপেক্ষার পর ফের কৃষকরা দিল্লি অভিযান শুরু করে। আর তাতেই ক্ষিপ্ত পুলিশ-আধাসেনা বেপরোয়া হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কৃষকদের ওপর। আকাশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে নির্বিচারে ছোঁড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল। অতঃপর ছোঁড়া হয় মুহুর্মুহু রবার বুলেট। অভিযোগ এই বরাব বুলেটই নাকি ঢুকে যায় এক যুবকের মাথায়। মৃত্যু হয় তাঁর। এছাড়া আহত হয় দেড় শতাধিক কৃষক।

এই ঘটনায় বেআব্রু করে দিয়েছে আরএসএস-বিজেপি সরকারের চরিত্র। দেশের অন্নদাতাদের এরা কোন চোখে দেখে আন্দোলনরত কৃষক যুবককে খুন করে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে। মোদীর কৃষক দরদের নমুনা রাঙা হয়েছে কৃষকের রক্তে। কথায় কথায় বিজেপি দাবি করে মোদীর গ্যারান্টির কথা। কৃষকদের জন্য কোনও গ্যারান্টি নেই। কৃষকরা এমএসপি’র গ্যারান্টি চাইছে। কিন্তু তার বদলে সরকার দিচ্ছে কৃষক খুনের গ্যারান্টি। কৃষক দরদি সরকারের কাছে কৃষকরা এখন শত্রুপক্ষ। তাদের দমন-নিধনও সরকারের লক্ষ্য। তাদের সংগঠিত হবার অধিকার, দাবি করার অধিকার, আন্দোলনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাব থেকে দিল্লি যাবার রাস্তা বন্ধ করেছে হরিয়ানা সরকার। পুলিশ-আধাসেনা লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে কৃষক দমনে।

 

Comments :0

Login to leave a comment