Gangasagar 2024

কুয়াশার জন্য সাগরে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলো ফেরি পরিসেবা

রাজ্য

ঘন কুয়াশার জন্য মঙ্গলবার বেশ কিছুক্ষন গঙ্গা সাগরে বন্ধ রইলো ফেরি চলাচল। সোমবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যার জন্য প্রাব পাঁচ ঘন্টা বন্ধ ছিল ফেরি পরিসেবা। এদিনও দীর্ঘ সময় ফেরি পরিসেবা বন্ধ থাকার পর পরিস্থিতি কিছুটা ঠিক হলে ফের তা শুরু হয়। যার ফলে ফেরার সময় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অনেককে।

গঙ্গাসাগরে। গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে নানা ভাষাভাষীর লক্ষ লক্ষ মানুষের মহামিলন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে সাগরদ্বীপ। রাজ্য সরকারের তরফে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস দাবি করেছেন, ১ কোটি তীর্থযাত্রী গঙ্গাসাগর মেলায় এসেছেন। 

এদিকে রবিবার গঙ্গাসাগর মেলায় আসা হরিয়ানার সিরসার বাসিন্দা ওম প্রকাশ (৬৮) নামে আরও এক দর্শনার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে মোট ৩ জন দর্শনার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে সোমবার জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সোমবার উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা রাম সেবক (৬৫) নামে এক যাত্রীকে কলকাতায় আকাশপথে আনা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সাগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩৬ জন ও কলকাতায় বিভিন্ন হাসপাতালে ৪২জন যাত্রী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

রবিবার রাত বাড়তেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকেছিল গঙ্গাসাগরের আকাশ। সঙ্গে বাতাস থাকায় তাপমাত্রার পারদ ক্রমশই নামতে থাকে। তীব্র ঠান্ডায়, ঘন কুয়াশার মধ্যেই সারা রাত সমুদ্রের ধারে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন বহু যাত্রী, দর্শনার্থী। কুয়াশার তীব্রতা এতটাই ছিল যে পাশে থাকা কাউকে চেনা যাচ্ছিল না। সোমবার সকালে কুয়াশা ভেদ করে যখন সূর্যের আলো দেখা যায় তখন ঘড়িতে সময় প্রায় ৮টা। ঘন কুয়াশার কারণে রাতে প্রায় ৬ ঘণ্টা নদীতে ভেসেল, লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। কচুবেড়িয়া থেকে বাস চলাচলও বেশ কিছু সময় বন্ধ ছিল। সকাল ৮টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। জোয়ারের ঢেউয়ে সমুদ্রের পাড় ভেঙেছে। জল ঢোকায় সমুদ্রতট বলে কিছু নেই। পুরানো স্নানের ঘাট ভাঙনের ফলে এবারে গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণের ১, ২ ও ৩ নম্বর রাস্তার শেষে সমুদ্রে স্নানের ঘাট বন্ধ রাখা হয়েছে। এবারে ১ এ, , ৫ ও ৬ নম্বর রাস্তার শেষে সমুদ্রে দর্শনার্থীদের স্নানের ব্যবস্থা করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। স্নানের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিভিল ডিফেন্সর স্বেচ্ছাসেবকদের সুরক্ষা বলয়ের মাধ্যমে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা ছিল। সমু্দ্রে ছিল উপকূল রক্ষী বাহিনীর স্পিড বোটে টহলদারি। 

গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণ এ যেন চিরাচরিত এক গোলক ধাঁধা। মেলায় বহু মানুষের সমাগম। ভিড়ের মধ্যে বহু যাত্রী দলছুট হয়েছেন। সঙ্গী ছাড়া হয়েছেন। পুলিশ, মেলা প্রাঙ্গণে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় তাঁরা পৌঁছেছেন সূচনা কেন্দ্রে। এখনও পর্যন্ত ১২,৮৭৩ জন দর্শনার্থী তাঁদের পরিজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। এর মধ্যে মেলাতেই ১২, ৮১৭ জনকে তাঁদের পরিবার পরিজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে কেপমারির ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশ প্রশাসনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ৩১৪টি কেপমারির ঘটনা ঘটে। ৭৫২ জনকে কেপমারি সহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেলায় আসা যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সহ বিভিন্ন পরিষেবায় এবারেও ১৪০টি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। স্নানপর্ব সেরে নির্বিঘ্নে ঘরমুখী হতে শুরু করেছেন দর্শনার্থীরা। 

 

 

Comments :0

Login to leave a comment