‘বিজেপি এবং তৃণমূলের ছায়াযুদ্ধ হল কাকের বাসায় কোকিলের ডিম। কাক ভাবে এটা আমার ডিম। কাক তা দেয়। ডিম ফুটে কোকিল আবার নিজের বাসায় ফিরে যায়।’’

জায়গা নিয়েছে কাজ-শিক্ষার দাবি, চিন্তায় বিজেপি-তৃণমূল

রাজ্য লোকসভা ২০২৪

প্রচারে এমনই সাড়া পাচ্ছেন সিপিআই(এম) প্রার্থী অলোকেশ দাস।

সৌরভ গোস্বামী: রানাঘাট

‘বিজেপি এবং তৃণমূলের ছায়াযুদ্ধ হল কাকের বাসায় কোকিলের ডিম। কাক ভাবে এটা আমার ডিম। কাক তা দেয়। ডিম ফুটে কোকিল আবার নিজের বাসায় ফিরে যায়।’’ 
এভাবেই বিজেপি-তৃণমূলকে কটাক্ষ রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী অলোকেশ দাস।  রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চাকদহ বিধানসভা এলাকায় বামফ্রন্ট মনোনীত কংগ্রেস সমর্থিত সিপিআই(এম) প্রার্থী অলকেশ দাসের সমর্থনে বিরাট প্রচার র্যা লি বেরচ্ছে। কয়েকশো বাইক এবং টোটোর এই মিছিলে অংশ নিচ্ছেন কয়েকশো পার্টি কর্মী সমর্থক। 
কাজ নেই, সরকারি স্কুলগুলো প্রায় লাটে তুলে দেওয়া, প্রকৃতি ধ্বংস করার পাশাপাশি যুব বয়সিদের মধ্যে অনলাইন জুয়া এবং মাদকের নেশা ছড়িয়ে দিচ্ছে তৃণমূল এবং আরএসএস-এর চাষ বাড়াচ্ছে বিজেপি। রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী অলোকেশ দাসকে দেখে সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে বলছে, ‘‘এই পরিস্থিতি থেকে আমাদের বাঁচান।’’
জনসংযোগ করতে করতেই প্রচার থেকে দুই দলকে নিশানা করেন অলোকেশ দাস। এই এলাকার প্রাক্তন সাংসদও তিনি। তাকে দেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন অভাব, অভিযোগ জানাতে থাকেন মানুষ। অধিকাংশই ১০০ দিনের কাজ, বাড়ি নির্মাণের টাকা মেরে দেওয়ার, যুবদের বিপথে পরিচালনা করার অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দেড় মাসের প্রচারাভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘‘মানুষ বুঝতে পারছেন তৃণমূলকে ‘টাইট’ দেওয়ার জন্য বিজেপিকে ভোট দেওয়া বড় ভুল। তৃণমূল এখানে যা করে, একই কাজ আরও বড় আকারে বিজেপি করে দেশজুড়ে।’’  
তা’হলে এই কেন্দ্রে লড়াইয়ের চেহারা কিরকম? উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘এখানে বিজেপি-ও বলছে প্রধান লড়াই সিপিআই(এম)-র বিরুদ্ধে। ওদিকে তৃণমূলও বলছে প্রধান লড়াই সিপিআই(এম)-এর বিরুদ্ধে। অর্থাৎ ওরা আমাদের ভয় পাচ্ছে।’’ 
এই ভয়ের কারণ কী? 
অলোকেশ বলছেন, ‘‘আমরা তো আমাদের ভোট গত পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক রিগিং সত্ত্বেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত রায়ে বিগত পরিসংখ্যানের চেয়ে দ্বিগুণ করেছি। অন্যদিকে বিজেপির ভোট ১৬ শতাংশ কমে গেছে। সেই বিজেপি বলছে ‘অব কী বার ৪০০ পার’, লোকে শুনলে হাসছে। তৃণমূলেরও সামান্য ভোট বেড়েছে কিন্তু তা লুঠের মাধ্যমে।’’
তিনি বলছেন, ‘‘মানুষের ক্ষোভের পারদ চড়ছে। রয়েছে অন্য দলের প্রার্থীদের নিয়ে বিভ্রান্তিও। তৃণমূলের প্রার্থী আবার একই সাথে বিজেপির বিধায়ক। মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া যে, আমরা তৃণমূলকে টাইট দেওয়ার জন্য বিজেপিকে ভোট দেব, সেই ব্যক্তি বিজেপিতে টিকিট না পেলে কি তৃণমূলে ঝাঁপ মারত না? নাকি বিজেপিকে টাইট দেওয়ার জন্য তৃণমূলের যাকে ভোট দেব, সে তৃণমূলে টিকিট না পেলে কি বিজেপিতে যেত না? অর্থাৎ তৃণমূল ভেবে যাকে ভোট দেব সে আগামীর বিজেপি, এবং বিজেপি ভেবে যাকে ভোট দেবো সে আগামীর তৃণমূল। এখানকার যিনি তৃণমূল প্রার্থী তিনি বর্তমানে বিজেপি’র বিধায়ক।’’
এদিন নির্বাচনী প্রচার শেষে  বামফ্রন্ট মনোনীত কংগ্রেস সমর্থিত সিপিআই(এম) প্রার্থী অলোকেশ দাসের সমর্থনে সুটরা হাটে নির্বাচনী সভাও হয়। সেই সভায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত হন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী। সভা থেকে তিনি মোদী-মমতার দ্বৈত ভাওঁতা নিয়ে কটাক্ষ করেন। বলেন, ‘‘২০১৪ সালে বলেছিল সুদিন আসবে, ১৯ সালের ভোটে পুলওয়ামার ৪০ জন জওয়ানের লাশের সাথে দেশপ্রেম এবং ধর্মকে মিশিয়ে বিক্রি করে ভোটে জিতেছে। এবার বেকায়দায় পড়েছে ইলেকটরাল বন্ড নিয়ে। কোনো কিছুই কাজ করছে না তাই এবার এনআরসির তাস নতুন করে বার করেছে। এ রাজ্যেও তৃণমূল বিজেপি ধর্মীয় এবং জাতিগত বিভাজনে প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে।’’ 
তিনি বলেন, ‘‘রুটি রুজি চাকরি লেখাপড়া ওষুধের দাম বিদ্যুতের দাম প্রভৃতি ইস্যু থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা সত্ত্বেও মানুষ এদের চালাকি ধরে ধরে ফেলেছে।’’ একই সঙ্গে দুর্নীতি নিয়েও দুই দলকে আক্রমণ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘ ইডি সিবিআইকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করছে বিজেপি। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে নিশ্চয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলে পশ্চিমবঙ্গে যাবতীয় দুর্নীতির উৎস ওই পাকা মাগুর দুটো জেলের বাইরে কেন? কেন কোনও তদন্ত এগোচ্ছে না? আসলে বিজেপি, তৃণমূলকে আটকাবে না। ওরা স্বাভাবিক বন্ধু। এক শক্তি এবং এদের সাধারণ শত্রু বামপন্থীরা।’’
তিনি বলেছেন, ‘‘এবারে ভোটে মূল ইস্যু ইলেকটরাল বন্ড, কৃষকের ফসলে ন্যায্য মূল্য, বেকারি, জিনিসপত্রের দাম। এবং এই যাবতীয় বিষয়ে সংসদে আওয়াজ আরও জোড়ালো করতে অলোকেশ দাসকে বিপুল ভোটে জয়ী ককরতে হবে। আইনসভায় বামপন্থীদের সংখ্যা কমে গেলে দেশের এবং রাজ্যের অবস্থা কী দাঁড়ায় বুঝছেন মানুষ।’’

Comments :0

Login to leave a comment