Cooch Behar Colleges Admission

সিংহভাগ আসন ফাঁকা কোচবিহার জেলার কলেজগুলিতে

জেলা

ফাইল ছবি

স্নাতক স্তরের সিংহভাগ আসন ফাঁকাই পড়ে আছে কোচবিহার জেলার কলেজগুলিতে। কেন্দ্রীয় পোর্টাল তিন দফায় খুলেও লাভের লাভ কিছুই হয় নি কোচবিহারে। ফলে ফের আরেকবার স্নাতক স্তরে কেন্দ্রীয় ডিসেন্ট্রালাইজড পোর্টাল বুধবার থেকে খুলে দিল কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ শূন্য আসন ভর্তির কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
কারণ জেলার অধিকাংশ কলেজে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা পড়ে আছে। গ্রামীণ কলেজগুলির ভর্তির হাল আরো বেহাল! বকসিরহাট মহাবিদ্যালয়ে  তিন হাজারের বেশি আসন অথচ ভর্তি হয়েছে মাত্র ১৬৮ জন! আবার মেখলিগঞ্জ কলেজে দু হাজার আসন সেখানে দেড় হাজার আসন ফাঁকা পড়ে আছে! দিনহাটা কলেজের প্রায় ৫ হাজার আসনের মধ্যে  ৪০ শতাংশ আসন ফাঁকা পড়ে আছে! অন্যদিকে কোচবিহার শহরের বিটি এন্ড ইভিনিং কলেজের ২২৫৫ টি আসনের মধ্যে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৬৬০ জন। ঘোকসাডাঙার বীরেন্দ্র মহাবিদ্যালয়ে ১৬৪৯ আসনের মধ্যে ৪৮৪ জন ভর্তি হয়েছে।
চতুর্থ দফায় ফের পোর্টাল খোলা প্রসঙ্গে দিনহাটা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল আওয়ালের বক্তব্য, সেশন শুরুর এতদিন পর ফের পোর্টাল খুলে হয়তো কিছু পড়ুয়া আসলেও আসতে পারে কিন্তু ইতিমধ্যেই ফাস্ট সেমিস্টারের ক্লাস অনেকটাই এগিয়ে গেছে সেক্ষেত্রে সদ্য ভরতি হওয়া পড়ুয়াদের অসুবিধে হবে।
মাথাভাঙা কলেজ সূত্রে জানা গেছে ১৬-১৯ তারিখ পর্যন্ত পোর্টাল খোলা থাকবে। কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ দেবাশিষ দত্ত জানিয়েছেন, যারা আবেদন করবে তাদের ভর্তির জন্য ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসের ১৫ তারিখ থেকে ফাস্ট সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরে পরীক্ষা। ফলে এখন যারা ভর্তি হবে তাদের কিছুটা অসুবিধে হবেই। কারণ ইতিমধ্যে দুমাস ক্লাস হয়ে গেছে।
যে কোচবিহারের দিনহাটা,সিতাইতে কলেজের দাবিতে পড়ুয়ারা কয়েক বছর আগেও পদযাত্রা এমনকি রাজ্যপালের দ্বারস্থ হত সেই কোচবিহারে স্নাতক স্তরে পড়ুয়ার এই আকাল কেন? সেই তদন্ত করতে গিয়ে উঠে এসেছে এক ভিন্ন তথ্য! যা শুধু কোচবিহার নয় উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার স্নাতক স্তরে পড়ুয়ার আকালের অন্যতম কারণ।
প্রথমত উত্তরবঙ্গে পেশাদার ও আধুনিক কোর্স পড়ার সুযোগ নেই। তাই গত ৩/৪ বছরে ভিন রাজ্যে যাওয়ার প্রবনতা বেড়েছে। স্বচ্ছল পরিবারের পড়ুয়াদের গন্তব্য এখন বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, নয়াদিল্লীর মত শহরে। অন্যদিকে গ্রামের গরীব ঘরের পড়ুয়ারা চাকরি মিলবে না বুঝে উচ্চ মাধ্যমিকের পর ড্রপ আউট হয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হচ্ছে।
বিভিন্ন স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিকে এবারে যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তাদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াও এখন পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে এআই প্রযুক্তি, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, হাই ভোল্টেজ ডিসি ট্রান্সমিশন (এপ্লায়েড ফিজিক্স), এস্ট্রোফিজিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড মলিকিউলার বায়োলজি, ভাইরোলজি, গ্রাফিক্স ও এনিমেশন, মেরিন সায়েন্স, জিও ফিজিসের মত অসংখ্য বিষয়। এসব পড়ার সুযোগ উত্তরবঙ্গের কোথাওই নেই।
কোচবিহার সহ উত্তরবঙ্গে জেনারেল সায়েন্স বা আর্টস বাদে মাইক্রোবায়োলজি,বি-ফার্মা, ফিজিওলজি, টি-সায়েন্স, ফ্যাশান, বিবিএ, বিসিএ, আইন ও কৃষি নিয়ে পড়ার সামান্য কিছু সুযোগ আছে। সেখানেও তীব্র প্রতিযোগিতা। ফলে পড়ুয়াদের বড় অংশ আগামীতেও ছুটবে দিল্লী, পুনে, হায়দারাবাদ, চন্ডীগড়, কোটা, আমেদাবাদের মত শহরে।
আর যেসব পড়ুয়াদের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই তারাও বুঝে নিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের পর জেনারেল লাইনে সায়েন্স বা আর্টস নিয়ে পড়ে লাভ নেই। তাদের বড় অংশ আর স্নাতক পড়তেই যাচ্ছে না। হাতের কাজ শিখে আয়ের পথ খুঁজছে। কেউবা নাম লেখাচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকের খাতায়। তথ্য বলছে, উত্তরবঙ্গে ফি বছর উচ্চ মাধ্যমিকের পর দু লক্ষের বেশি পড়ুয়াদের অর্ধেক ভিন রাজ্যে পড়তে চলে যায়! ফি বছর এই প্রবনতা বাড়ছে।
বিগত সরকারের সময়ে রাজ্যে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছে। অথচ সেখানে ন্যুনতম পরিকাঠামো নেই। শিক্ষক নেই। আর পাঠক্রম সেই পুরনো ধাঁচের। স্নাতক স্তরে পড়ুয়া সংকটের কারণে স্নাতকোত্তর স্তরেও ভর্তি কমছে। খাঁ খাঁ করছে বিশ্ববিদ্যালয় আর কলেজ ক্যাম্পাসগুলি। পাঠক্রমের বৈচিত্র না আনলে পড়ুয়া কলেজ মুখো হবে না। বার বার পোর্টাল খুলে দিয়েও লাভ হবে না মানছেন কলেজ অধ্যক্ষরাও।

Comments :0

Login to leave a comment