বেতন বৃদ্ধি ও সময় মতো বেতন দেবার দাবি সহ শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের অধীনে কর্মরত সাফাই কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা ও একাধিক দাবিকে সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখালো শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের পৌর কর্মচারী নির্মল সাথী, নির্মল বন্ধু, সুদার স্টাফ এবং অন্যান্য কর্মচারীরা। সিআইটিইউ দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি হয়। কর্মসূচিকে সামনে রেখে বাঘাযতীন পার্কের সামনে থেকে শুরু হয়ে পৌর কর্পোরেশনের প্রধান গেট পর্যন্ত মিছিল হয়। সেখানে দীর্ঘসময় বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর কর্পোরেশনের ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভে সামিল হন সব অংশের অস্থায়ী পৌর কর্মচারীরা। একই সঙ্গে এদিন চার দফা দাবিদাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি পৌর কর্পোরেশনের কমিশনারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের ১৭তারিখ পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত পৌর কর্মচারী নির্মল সাথী, নির্মল বন্ধু, সুদার স্টাফ এবং অন্যান্য কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়নি। অবিলম্বে সকল পৌর কর্মচারীদের মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যে নিয়মিতভাবে বেতন দিতে হবে, গত এক মাস ধরে পৌর কর্পোরেশন থেকে পৌর কর্মচারীদের মোবাইল ফোন মাধ্যমে অনলাইনে অ্যাটেন্ডেন্স দেবার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। তা না হলে সকলে মোবাইল দেবার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াটি সহজ করা যাতে কর্মীরা সহজেই তা সম্পন্ন করতে পারেন, নির্দিষ্ট কাজের সময়সীমা নির্ধারন করা, বাজারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমতা রেখে অবিলম্বে কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধি করা ইত্যাদি দাবি স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। এদিনের মিছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জয় চক্রবর্তী, বিমল পাল, তিলক গুন, তুফান ভট্টাচার্য, রাজেশ ছেত্রী, সৌরভ সরকার, কাজল পাল সহ অন্যান্যরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই বেতনে কাজ করে চলেছেন তারা। বছরের ৩৬৫ দিন ঝড় জল উপেক্ষা করে শহরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করে চললেও নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে তারা প্রাপ্য বেতন হাতে পান না। বেতন বৃদ্ধির কোন উদ্যোগ নেই। অবিলম্বে সমস্ত অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি এবং সময় মতো বেতন দেবার দাবিতে সোচ্চার হন তারা। অভিযোগ করেন, প্রতিদিন সকাল থেকে শিলিগুড়ির প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আমরা যে সমস্ত কর্মচারীরা ঝাড়ু দেওয়া, ড্রেন পরিষ্কার করে থাকি প্রত্যককেই সকাল সাড়ে ছয়টার সময় মোবাইল ফোনে অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাটেন্ডেন্স দিতে ছবি তুলে পাঠাতে বাধ্য করা হচ্ছে। আবার কাজ শেষে এই একই কায়দায় ছবি তুলে পাঠাতে হচ্ছে। ছবি তুলে না পাঠালে তাদের মাইনে পর্যন্ত কেটে নেওয়া হচ্ছে। মাত্র সাত আট হাজার টাকায় আমরা কর্মচারীরা কাজ করি। বেতন কেটে নিলে কিভাবে চলবে। এদিন পৌর কর্পোরেশন ভবনের গেট আটকে দিয়ে ধর্নায় বসেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ চলাকালীন সিআইটিইউ’র প্রতিনিধিদল ভেতরে গিয়ে কমিশনারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন জয় চক্রবর্তী, বিমল পাল, তুফান ভট্টাচার্য, তিলক গুন ও রাজেশ ছেত্রী। কমিশনারের অনুস্থিতিতে তার পিএ স্মারকলিপিগ্রহন করেন।
সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ বলেন, কর্পোরেশনের নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেবার পর পৌর কর্মচারীদের উপস্থিতি হাজিরা নথিভুক্ত করার জন্য মোবাইলের মাধ্যমে যে ব্যবস্থা করা হয়েছে তা ত্রুটিপূর্ণ। বেশীরভাগ কর্মচারীদের দামি মোবাইল ফোন কেনার সামর্থ্য নেই। শুধু তাই নয় কর্মচারীদের বেশিভাগই নিরক্ষর ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ না হওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের নামমাত্র বেতন থেকে বেতন কেটে নেবারও অভিযোগ এসেছে আমাদের কাছে। পাশাপাশি দীর্ঘসময় ধরে বেতন বৃদ্ধি না হবার কারনে এই কর্মী ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছেন। কাজের ঘন্টার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় কাজকর্ম বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে বিগত বাম বোর্ডের সময়কালে অস্থায়ী কর্মীদের প্রতি বছর ১০শতাংশ মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকরী করার দাবি জানান। এদিন স্মারকলিপি দিয়ে বেরিয়ে আসার পর সিআইটিইউ নেতৃবৃন্দ জানান, সাতদিনের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করা না হলে আগামীদিনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
Comments :0