ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে সংসদের দুই কক্ষে। আইন করার জন্য এবার এই বিল পাঠানো হচ্ছে রাষ্ট্রপতির কাছে। এই বিল প্রত্যাহারের দাবিতে প্রস্তাব পেশ হয়েছে সিপিআই(এম) ২৪ তম পার্টি কংগ্রেসে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওয়াকফ সংশোধনী বিল সংসদে পাশ করা হয়েছে মুসলিমদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। ঠিক একই উদ্দেশ্য দেখা গিয়েছিল সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে। দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সব অংশকে একজোট হতে হবে। বিভাজনমূলক ওয়াক আইন প্রত্যাহারের দাবি জানাতে হবে।
বলা হয়েছে, এই বিল সংবিধান এবং সংখ্যালঘুদের অধিকারের ওপর আঘাত। ধর্মনিরপেক্ষ সব অংশের উচিত এই বিলের বিরোধিতা করা। দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার কাঠামোর ক্ষতি করে এই আইন সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ বাড়িয়ে তুলবে।
দেশে ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ এবং ধর্মীয় ও স্বেচ্ছামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য আইন ছিল। ওয়াকফ সম্পত্তির অপব্যবহার বা বিক্রি বন্ধ করার আইনি কাঠামো ছিল। সিপিআই(এম) বলেছে, আগের আইনের ভিত্তিকেই বদলে দিতে চাইছে এই সংশোধনী। বিজেপি সরকার হিন্দুত্ববাদী প্রচারকেই পুষ্ট করছে। বলা হচ্ছে যে আগের আইনে মুসলিমদের জমি দখল করে নেওয়ার অত্যধিক ক্ষমতা দেওয়া ছিল।
বাস্তবতা ব্যাখ্যা করেছে সিপিআই(এম)। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের কমিটিতে অ-মুসলিমদের বসানোর ব্যবস্থা করেছে সংশোধনী। ইসলামিক দৃষ্টিকোণে আপত্তি উড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত ধর্মপালনের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আঘাত।
বলা হয়েছে, মুসলিমদের দায়িত্ব নিতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে পাঁচ বছর ধর্মপালন করেছেন। তার ফলে মুসলিমদের হেনস্তা করার সুযোগ বাড়বে। বলা হয়েছে, মৌখিক ঘোষণা বা ব্যবহারের মাধ্যমে যে জমি বা সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে সেগুলিকে সরকার যাতে দখলে নিতে পারে সেই রাস্তা খোলা হয়েছে। আগের আইনের ৪০ ধারা বাতিল করা হয়েছে সে কারণে।
বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্নাটক, কেরালায় ওয়াকফ সম্পত্তি সবচেয়ে বেশি। এই রাজ্যগুলিতে ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার বিপদ সবচেয়ে বেশি হবে।
বলা হয়েছে যে ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সমীক্ষা কমিশনারের থেকে সরিয়ে রাজস্ব আধিকারিকদের হাতে দেওয়া হয়েছে সংশোধনীতে। উপাসনাস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং ভোকেশনার শিক্ষা কেন্দ্র কেড়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে সংশোধনীতে। ওয়াকফ ট্রাইবুনালের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে ওয়াকফ বোর্ডকে সংশ্লিষ্ট অংশের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
Waqf Party Congress
ওয়াকফ সংশোধনী বিল বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব পার্টি কংগ্রেসে

×
Comments :0