CPI-M Party Congress

বেসরকারি সংগঠিত ক্ষেত্রে সংরক্ষণ চালুর দাবিতে প্রস্তাব পাশ পার্টি কংগ্রেসে

জাতীয়

মাদুরাইয়ে সিপিআই(এম) ২৪ তম পার্টি কংগ্রেসে তামিলনাডুতে জাতভিত্তিক বঞ্চনা এবং সংগ্রামের ওপর লেখা বই প্রকাশ করছেন পলিট ব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত।

সরকারি, আধা সরকারি, রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ হু-হু করে কমছে। নরেন্দ্র মোদী আসীন হওয়ার পর এই প্রবণতা চড়া মাত্রায় বেড়েছে। কাজে সংরক্ষণ নীতিকে সরকারি ক্ষেত্রের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠিত ক্ষেত্রেও প্রসারিত করতে হবে। 
এই দাবিতে প্রস্তাব পাশ হয়েছে মাদুরাইয়ে সিপিআই(এম) ২৪ তম পার্টি কংগ্রেসে। প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য রামচন্দ্র ডোম, সমর্থন করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইসফাকুর রহমান।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বেসরকারিকরণ এবং সঙ্কোচন নয়া উদারবাদের মৌলিক ভিত্তি। সংগঠিত ক্ষেত্রে কাজই কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে সমানে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসংগঠিত ক্ষেত্রের অংশ। জাতপাত ভিত্তিক বৈষম্যকে রোধ করার সুযোগও কমে যাচ্ছে। তফসিলি জাতি, আদিবাসী এবং অন্য অনগ্রসর অংশ (ওবিসি)-দের সংযুক্ত করে নেওয়ার সুযোগও কমে যাচ্ছে এই কারণেই। ফলে এই প্রান্তিক সামাজিক অংশগুলির জন্য বেসরকারি সংগঠিত ক্ষেত্রে সংরক্ষণ চালু করতে হবে।   
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সমাজের প্রান্তিক অংশগুলিকে সম্পদ, আয় বা জমির অধিকারের বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছে ব্যাপক মাত্রায়। বর্ণব্যবস্থা, জাতপাত এই আর্থিক বঞ্চনার ধারাকেই জোরালো করছে। এই সময়ে তা তীব্র হয়েছে। কাজের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ এই অংশগুলিকে জুড়ে নেওয়ার অন্যতম হাতিয়ার। সংবিধানের ১৫(৪), ১৬(৪), ৪৬ এবং ৩৩৫ কর্মক্ষেত্রে এসসি, এসটি এবং ওবিসি সংরক্ষণের ভিত্তি তৈরি করেছে। কিন্তু সংরক্ষণ কেবল প্রয়োগ করা হয় সরকারি ক্ষেত্রে। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গিয়েছে সরকারি ক্ষেত্রে কাজের সংরক্ষণও সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় না। সংরক্ষিত বহু পদ শূন্য থাকে। ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের ১০ লক্ষ পদ শূন্য ছিল। এর মধ্যে বড় অংশ সংরক্ষিত পদ। রাজ্য সরকার এবং রাষ্ট্রয়াত্ত ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে সংরক্ষিত পদ ফাঁকা রেখে দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ হচ্ছে না। 
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নয়া উদারবাদের সময়ে সরকারি চাকরি মারাত্মক মাত্রায় সঙ্কুচিত হয়েছে। ১৯৯০ সালে কেন্দ্র এবং সব রাজ্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন বা আধা সরকারি চাকরির হিসেবে দেখা গিয়েছিল মোট নিযুক্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। ২০১২-তে এই সংখ্যা ১.৭ কোটিতে নেমে এসেছিল। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি এবং আধা সরকারি ক্ষেত্রে চাকরি কমেছে আরও বেশি হারে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ১৯৯০’র দশকের মাঝামাঝি ১০ লক্ষ কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ অর্থবর্ষে তা নেমে হয়েছে ৭.৫ লক্ষ। রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে ২০১৪’র তুলনায় কর্মরতের সংখ্যা ৩৫ শতাংশ কমেছে। 
প্রস্তাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে নরেন্দ্র মোদী সরকার নিয়োগের বিশদ তথ্য প্রকাশের ধারা তুলে দিয়েছে।  
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্প কর্মীদের নিয়োগের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সংরক্ষণের নীতি প্রয়োগ করা হয় না।

Comments :0

Login to leave a comment