Sujan Chakrabarty ED

ভোটের আগে বন্দোবস্ত, ফাইল নিয়ে পালানোর সমালোচনা করে বললেন সুজন

রাজ্য

ভোটের আগেই কেন্দ্রীয় সংস্থার দুর্নীতি দমনের তৎপরতাকে ‘বন্দোবস্ত’ আখ্যা দিলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। সেই সঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তল্লাশির মাঝে ঢুকে পড়ে নথিপত্র বের করে নিয়েছেন, সমালোচনা করেছেন তারও। 
বৃহস্পতিবার তৃণমূলের ভোট সামলানোর দায়িত্বে থাকা আইপ্যাকের দপ্তর এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যায় ইডি।  একাধিক জায়গায় তল্লাশি হয়েছে কয়লা পাচারে জৈনের যোগসাজশ ঘিরে জমা পুরনো একটি অভিযোগের তদন্তে।
চক্রবর্তী বলেন, "ভোটের আগেই ইডি, সিবিআই অতি সক্রিয় হয়। ভোট চলে গেলেই আবার সব ঘুমিয়ে পড়ে। এর আগে ২০১৯, ২০২১‘র ভোটের সময়ও হইহই করে নেমে পড়েছিল। ভোটের আগে এরকম না হলে খেলাটা ঠিক জমবে না! ফলে পুরোটাই ভোটের জন্য একটি বন্দোবস্ত।’’
তিনি বলেন, ‘‘যদি সত্যি সত্যি বিজেপি মনে করত তৃণমূলের দুর্নীতি, অপরাধের সব কাগজ খুঁজে বের করবে, তাহলে তার জন্য মাঝের পাঁচটা বছর ছিল, তখন চুপ করে ছিল কেন।’’
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী দফায় দফায় সংবাদমাধ্যমে তল্লাশি ঘিরে বক্তব্য রাখেন এদিন। তিনি বলেন, ‘‘ওরা পেপার লুট করে। লুট করে আর ঝুট বলে। আমাদের পেপার , স্ট্রাটেজি, ভোটার সব লুট করতে চায়। পশ্চিমবঙ্গটাকেই লুট করে নিতে চায় ওরা। এসব করে কি হবে ভবিষ্যৎ? যে পরিমান আসন আপনাদের পাওয়ার কথা তার তুলনায় দেখবেন শুন্যে নেমে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করুন।’’
মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতা প্রসঙ্গে চক্রবর্তী বলেন, "যেভাবে আইপ্যাকের কর্ণধারের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী গেছেন তারপর অফিসে গেছেন এবং আইপ্যাকের অফিসের ফাইল তুলে নিয়ে চলে এসেছেন তা ছিনতাই'র সমান। ভোট যখন সামনে তখন নানা নাটকবাজি হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ‘ফাটাফাটি খেলার’ জন্য নানা তালগোল হয়ত চলবে।’’
চিট ফান্ড তদন্তের প্রসঙ্গ টেনে চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমরা এরআগেও দেখেছি রাজীবকুমারের বাড়িতে তল্লাশি। কিন্তু অপরাধের তদন্তের কিচ্ছু হয়নি। অভিষেকের বাড়িতেও ইডি তল্লাশি চালায়। তখনও মুখ্যমন্ত্রী চলে গেছিলেন। তারপর তো রাজ্য-দিল্লি, মোদী-দিদি বোঝাপড়া হয়ে গেল। এখনও চলছে সেই বোঝাপড়া।’’
চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ইডি রেড করার সময় তো কর্ডন থাকবে। সেটা নেই। মুখ্যমন্ত্রী চলে গেলেন সোজা, কোনো বাধা নেই।‘‘ তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি সবসময় অপরাধীদের পাশে থাকে।’’
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী গোটাটাকে ‘বাংলার ওপর আক্রমণ’ বলেছেন একেবারে রাজনৈতিক পরিকল্পনামাফিক। মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘‘বাংলার উপর যে হামলা ওরা করেছে তার প্রত্যুত্তর জনগণ ওদের দেবে। নিজেদের মুখ বাঁচানোর জন্য কিছু গদি মিডিয়াকে কাজে লাগিয়েছে। সেই মিডিয়ার উপরও আমরা নজর রাখছি। আমরা সব সময় সত্যানুসন্ধান করতে দেব। কিন্তু বিজেপি’র শেখানো অসত্য কথা ছড়ালে মানহানির মামলা করার দায়িত্ব আমার।’’
মমতা বলেন, ‘‘বাংলায় বিজেপির হাজারটা এজেন্সি কাজ করে। একাধিক সামাজিক মাধ্যমেও কাজ করে বিজেপি। সেখানে এআই'র সাহায্যে মিথ্যা তথ্যও ছড়ায়।’’  এদিকে চক্রবর্তী বলেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী 'লাল ডাইরির' কথা বলেছিলেন। সেই লাল ডাইরি তো ধামাচাপা পরেই গেলো এবার 'সবুজ ফাইল' বেরিয়ে এসেছে। উনি বলেছিলেন সিপিএম'র ফাইল খুলবেন। কিন্তু দেখা গেলো নিজেই এখন ফাইলবন্দি করে পালিয়ে গেলেন। এটা সরকারি কাজে বাধা দেওয়া।’'

Comments :0

Login to leave a comment