Md Salim

এসআইআর আসলে জনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, চলবে লড়াই: শিলিগুড়িতে সেলিম

রাজ্য জেলা

শিলিগুড়ির অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম। ছবি: রাজু ভট্টাচার্য

অনিন্দিতা দত্ত: শিলিগুড়ি

গতবার বলেছিল মুসলমানদের তাড়িয়ে বাকিদের নাগরিকত্ব দেবে। এবার আরএসএস-বিজেপি এসআইআর’র সবাইকে নাকাল করছে। নির্বাচনের মুখে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সিপিআই(এম) বামপন্থীরা প্রথম দিন থেকে এসআইআর’র বিরোধিতা করছে। ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই চলবে।
শুক্রবার শিলিগুড়িতে সিপিআই(এম) জেলা দপ্তর অনিল বিশ্বাস ভবনে একথা বলেন পার্টির রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা সম্পাদক সমন পাঠক। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে বামফ্রন্টের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কেও জানিয়েছেন তিনি। ১২ ফেব্রুবারি ধর্মঘটকে সমর্থনের আহ্বান জানান সেলিম।
সেলিম বলেন, গত নির্বাচনে সিএএ, এনআরসি করার সময় এরা বলেছিল মুসলমানদের তাড়ানো হবে। আর বাকিদের নাগরিকত্ব দেবে। এবারে এসআইআর-এ মতুয়া, নমঃশূদ্র, নেপালি, আদিবাসী প্রান্তিক মানুষ, মহিলা, সংখ্যালঘু, উদ্বাস্তু কাউকে ছাড়েনি। আমরা ভোটাধিকার রক্ষা, ফরম পূরনের জন্য সহায়তা কেন্দ্র চালিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন যে রাজ্যের বাসিন্দা মোস্তারি বানু মামলা করেছিলেন জানুয়ারিতে। সেই মামলারই শুনানি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জি কৃতিত্ব কেড়ে নিয়ে নিজের খবর করতে সওয়াল করতে গিয়েছেন। আগামী সোমবার, ৯ তারিখে শুনানি হবে। সেখানে মোস্তারি বানু নিজে থাকবেন আমাদের সঙ্গে। সেলিম বলেন, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে যাবতীয় অযৌক্তিক কাজ হচ্ছে। বিএলও, এআরও, ডিও, সিও এরা সবাই রাজ্য সরকারের অফিসার। তারা মানুষের স্বার্থে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। কারন বিজেপি—তৃণমূল এই সমস্ত অফিসারদের লোভ, ভয় দেখিয়ে কুক্ষিগত করেছে। যেমনভাবে পুলিশ প্রশাসন নেতার নির্দেশে কাজ করে। বিডিও, এসডিও, ডিএম যে আমলাতন্ত্র রয়েছে তাকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবৈধ কাজ করতে সাহায্য করা হচ্ছে নবান্ন থেকে। হয়রানির জন্য মমতা ব্যানার্জি বিজেপি’র সমান দায়ী। 
তিনি বলেন, বিজেপি যে সাধারণ মানুষের ওপর যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তার প্রমান পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর আক্রমন। আসামে আমরা দেখেছি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই সব উসকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাজেট দেখলে দেখা যাবে আদানি-আম্বানিরা আরো বেশি স্ফীত হবে। যে সঙ্কটে বেকার ছেলেমেয়ে, কৃষক, শ্রমিক, ক্ষেতমজুররা আছেন তাদের জন্য বাজেটে কিচ্ছু নেই। ১২ তারিখে দেশব্যাপী শিল্প ধর্মঘটকে সর্বাত্মক সফল করার আহ্বান জানান তিনি। সেলিম বলেন, মাধ্যমিকের কথা মাথায় রেখে পরিবহন শিল্প ছাড়া বাকি সমস্ত শিল্প ক্ষেত্রে এই ধর্মঘটকে সর্মথন জানিয়েছি। পরীক্ষার্থীদের যাতে অসুবিধার মধ্যে পড়তে না হয় সেইজন্য বামপন্থী ছাত্র, যুব, রেড ভলান্টিয়ারা রাস্তায় থাকবেন। 
নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশ্নে সেলিম বলেছেন, আমাদের জোট মানে বামফ্রন্ট। অন্যদের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়। গত ২০১৬, ২০২১, ২০২৪’র নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে সেই আসন সমঝোতা হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির ঝোঁক তৃণমূলের দিকে। উনি ছয়মাস আগেই ঘোষণা করেছেন ২৯৪টি আসনে কংগ্রেস একা লড়বে। এটা কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত। আমরা বামফ্রন্ট ২৯৪টি আসনের জন্যই আমাদের বুথ কমিটি থেকে অ্যাসেম্বলি কমিটি প্রস্তুত করার কাজ করছি। সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে শিলিগুড়িতে এসে শুক্রবার  উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে জ্যোতি বসু সেন্টার ফর সোস্যাল স্টাটিজ অ্যান্ড রিসার্চের পক্ষ থেকে জলপাইগুড়িতে বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ শিলিগুড়ির সমাবেশে খসড়া প্রকাশ করা হয়। সেলিম জানান, সেই খসড়া ভিত্তিতে বহু মানুষ মত জানিয়েছিলেন। 
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে বেকারত্ব, কাজ, প্রকৃতি, কৃষি, জৈব বৈচিত্র, যোগাযোগ, শিল্প, চা, বাগান সহ জনজীবন যেভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য এক জায়গায় করা হয়েছে। 
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ইডি, সিবিআই, দিল্লি পুলিশ, রাজ্য পুলিশ আলাদা কিছু নয়। শাসকদলের ইচ্ছা প্রতিফলিত হয় তাদের কাজকর্ম। অভয়া কান্ডের ঘটনায় কেউই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেনি। তদন্তের কথা বলে মেডিক্যাল সেক্টর দুর্নীতি, মর্গের মৃতদেহ নিয়ে কামাই, ওষুধের সাপ্লাই এসবের পেছনে সবাই লেগে পড়েছে। এটা শুধুমাত্র ভয় দেখানো। যাতে করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা না বলে। 
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ভাতা বহু রাজ্যেই দেওয়া হয়। কিন্তু ভাতা দিয়ে সরকার নিজের দায়িত্ব থেকে সরতে পারে না। রাজ্যে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় লাটে উঠেছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বেহাল অবস্থা। লক্ষ্মী ভান্ডার, ভাতার নামে বেসরকারি শিক্ষা, প্রাইভেট টিউশন, বেসরকারি পরিবহন, বেসরকারি হাসপাতালের খরচ সেই জনসাধারণের ওপরই সরকার চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, কোন সরকারই এই ভাতা বা অনুদান বন্ধ করতে পারবে না। কিন্তু দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment