MANDA MITHAI — SOUMAYDEEP JANA — EASTER SUNDAY — NATUNPATA | 2026 APRIL 5, 3rd YEAR

মণ্ডা মিঠাই — সৌম্যদীপ জানা — গুড ফ্রাইডে থেকে ইস্টার রবিবার : প্রভু যীশুর ঐশ্বরিক প্রত্যাবর্তন — নতুনপাতা — ২০২৬ এপ্রিল ৫, বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

MANDA MITHAI  SOUMAYDEEP JANA  EASTER SUNDAY  NATUNPATA  2026 APRIL 5 3rd YEAR

মণ্ডা মিঠাই

নতুনপাতা

গুড ফ্রাইডে থেকে ইস্টার রবিবার : যীশুর প্রত্যাবর্তন

সৌম্যদীপ জানা

২০২৬ এপ্রিল ৫, বর্ষ ৩

 

 

মানবসভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসে এমন কিছু দিন আছে, যেগুলি শুধু ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়—বরং মানুষের চেতনা, বিশ্বাস এবং আত্মার গভীরে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে। গুড ফ্রাইডে এবং তার পরবর্তী ইস্টার রবিবার তেমনই দুটি দিন, যা প্রায় দুই হাজার বছর ধরে মানবজাতির মনে এক গভীর তাৎপর্য বহন করে আসছে।

আজকের এই গুড ফ্রাইডে—নামেই ‘গুড’, অথচ ইতিহাসের দৃষ্টিতে এটি এক গভীর বেদনার দিন। এই দিনেই যীশুখ্রীষ্ট, যিনি প্রেম, ক্ষমা ও মানবতার বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন, তাঁকে ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়। সেই সময়ের কিছু ক্ষমতালোভী ও সংকীর্ণ মানসিকতার মানুষের চক্রান্তে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। তাঁর অপরাধ ছিল একটাই—তিনি মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের পথ দেখিয়েছিলেন, এবং ঈশ্বরের রাজ্যের কথা বলেছিলেন।

ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সেই মুহূর্ত শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি মানবতার এক কঠিন পরীক্ষা। যীশু তাঁর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ক্ষমার বাণী উচ্চারণ করেছিলেন—যা আজও আমাদের চেতনাকে আলোড়িত করে। এই কারণেই গুড ফ্রাইডে শুধুমাত্র শোকের দিন নয়, এটি ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের এক অনন্য প্রতীক।

এরপর আসে নীরবতার দিন—হলি স্যাটারডে। এই দিনটি যেন অপেক্ষার, ধ্যানের, এবং আত্মসমীক্ষার সময়। প্রকৃতি যেন স্তব্ধ হয়ে থাকে, মানুষ নিজের অন্তরে ফিরে তাকায়। জীবনের দুঃখ, ব্যর্থতা ও অন্ধকারের মধ্যে থেকেও আশা হারিয়ে না ফেলার শিক্ষা এই দিন আমাদের দেয়।

আর তারপরই আসে সেই মহিমান্বিত মুহূর্ত—ইস্টার রবিবার। খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন যীশুখ্রীষ্ট পুনরুত্থিত হন। মৃত্যু জয় করে তিনি ফিরে আসেন, প্রমাণ করেন যে সত্য, ন্যায় ও ভালোবাসাকে কখনো ধ্বংস করা যায় না। ইস্টার তাই শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি নতুন জীবনের, নতুন আশার, এবং পুনর্জাগরণের প্রতীক।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাগুলি খ্রিস্টানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। গুড ফ্রাইডেতে তারা উপবাস পালন করেন, গির্জায় প্রার্থনা করেন এবং যীশুর ত্যাগকে স্মরণ করেন। ইস্টার রবিবারে তারা আনন্দে উদযাপন করেন পুনরুত্থানের উৎসব—যা জীবনের জয়গান।

কিন্তু এই ঘটনাগুলির তাৎপর্য শুধুমাত্র ধর্মের সীমায় আবদ্ধ নয়। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে গুড ফ্রাইডে আমাদের শেখায়—ত্যাগ ছাড়া সত্যিকারের উন্নতি সম্ভব নয়। জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোকে গ্রহণ করে এগিয়ে চলাই মানুষের প্রকৃত শক্তি। আর ইস্টার শেখায়—অন্ধকারের পরেই আলো আসে, হতাশার পরেই জন্ম নেয় নতুন আশা।

বর্তমান পৃথিবীতে, যেখানে হিংসা, বিভাজন ও স্বার্থপরতা প্রায়শই আমাদের চারপাশকে গ্রাস করে, সেখানে গুড ফ্রাইডে ও ইস্টারের বার্তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই দিনগুলি নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয়। কোথাও নীরব শোভাযাত্রা, কোথাও প্রার্থনা সভা, আবার কোথাও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষ এই ঐতিহাসিক ঘটনাগুলিকে স্মরণ করে।

ভারতবর্ষেও বিভিন্ন প্রান্তে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে এই দিনগুলি পালন করেন। তবে শুধু একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, এই দিনগুলির সার্বজনীন বার্তা—ভালোবাসা, ক্ষমা, ত্যাগ ও পুনর্জাগরণ—সমস্ত মানুষের জন্যই এক অমূল্য শিক্ষা হয়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত, গুড ফ্রাইডে ও ইস্টারের মূল বার্তা একটাই—জীবনে যতই অন্ধকার আসুক না কেন, সত্য ও ভালোবাসার আলো কখনো নিভে যায় না। ত্যাগের মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় নতুন জীবন, আর বিশ্বাসের শক্তিতেই মানুষ জয় করে সকল প্রতিকূলতাকে।

এই দিনগুলির স্মরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমাদের মধ্যেই আছে সেই শক্তি, যা অন্ধকার ভেদ করে আলোয় পৌঁছাতে পারে।
 

 

----------------------

Comments :0

Login to leave a comment