একদিকে নিট ইউজি এবং সিইউইটি (কুয়েট), অন্যদিকে সিবিএসই এবং এসএসসিজিডি; প্রশ্ন ফাঁস জালিয়াতি ও চরম অব্যবস্থার ফলে প্রায় এক কোটি ছাত্র-ছাত্রীর জীবনে এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি নেমে এলেও কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও স্তরেই তেমন তাপ-উত্তাপ আছে বলে মনে হয় না। একটার পর একটা এমন কেলেঙ্কারি সামনে হলে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী এবং তাঁর দপ্তর কার্যত নির্লিপ্ত। বড় বড় পদ এবং চেয়ার দখল করে দিব্যি ক্ষমতার আস্বাদ গ্রহণ করছেন। কিন্তু দায় নিতে কেউ রাজি নন। এত ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এভাবে ছেলেখেলা চলবে আর মন্ত্রী-আমলারা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরবে সেটা কোনও অবস্থাতেই চলতে পারে না। তাই দেশজুড়ে শিক্ষা জগতের সকল অংশ থেকে বিশেষ করে ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উঠেছে দায় সরকারকে নিতেই হবে এবং অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। প্রমাণ হয়ে গেছে শিক্ষামন্ত্রক চালানোর মতো যথেষ্ট যোগ্যতা ও দক্ষতা নেই। তাই নির্লজ্জের মতো পদ আঁকড়ে থেকে বছর বছর ছাত্র-ছাত্রীদের সর্বনাশ করার ছাড়পত্র দেওয়া যায় না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট হতে পারেন কিন্তু ছাত্র সমাজের কাছে তিনি ক্ষতিকারক।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো যে শিক্ষা ব্যবস্থার উৎকর্ষতার মধ্য দিয়ে আগামীর ভারতের দক্ষ নাগরিক তৈরি হবে সেই শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বাঙ্গে এমন পচন রোগ ধরা পড়ার পর মাসাধিককাল কেটে গেলেও একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রায় এক কোটি ছেলে-মেয়ের এই উদ্বেগ-হতাশার মধ্যে কিঞ্চিৎ পরিমাণের সহানুভূতি বা সমবেদনাও মেলেনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব ও আচরণ থেকে এমনটা মনে করা অস্বাভাবিক কিছু নয় যে তিনি একে গুরুত্ব দিতে নারাজ। অথচ এই প্রধানমন্ত্রীই আগে ঘটা করে ঢাকঢোল বাজিয়ে বিপুল সরকারি অর্থ উড়িয়ে ‘শিক্ষা পে চর্চা‘, ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ নামে আত্মপ্রচারের মহা সমারোহের আয়োজন করেছিলেন। এখন বোঝা যাচ্ছে সে সব আদৌ শিক্ষার উন্নতি, ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে করা হয়নি। করা হয়েছে মোদীর ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে। তিনি যদি সত্যি সত্যি ছাত্র স্বার্থে ভাবিত হতেন তাহলে এই দুঃসময়ে উদাসীন থাকতে পারতেন না। তার চেয়ে যেটা দৃষ্টিকটূ তা হলো মোদী মাসিক বেতার ভাষণ মন কি বাত। দু’দিন আগে তিনি সেই ভাষণ গোটা দেশবাসীকে শুনিয়েছেন। সারা মাস ধরে যে সব বিষয় তাঁর মনের পরিসরে বড়সড় জায়গা দখল করে নেয় সেগুলি তিনি দেশবাসীকে শোনান। অর্থাৎ সেগুলিই তাঁর মনের কথা। এবারের মনের কথায় বাংলার হিমসাগর আমের মাহাত্ম্য অনেকটা জায়গা পেলেও পরীক্ষা কেলেঙ্কারিতে মানসিক বিপর্যস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ঠাঁই মেলেনি। এর থেকে পরিষ্কার প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা চিন্তায় অগ্রাধিকারে কারা থাকে।
অবশ্য এমন অনীহা বা ঔদাসীন্য কাকতালীয় কোনও ব্যাপার নয়। এর পেছনে আছে সচেতন প্রয়াস। কারণ গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে সেটা সরকারি কর্তাদের জ্ঞাতসারেই হয়েছে। শিক্ষার বেসরকারিকরণ এবং ঘনিষ্ট সংস্থাকে মোটা টাকা মুনাফার ব্যবস্থা করে দিতেই কেলেঙ্কারি জমি তৈরি করা হয়েছে। তা না হলে বার বার একই ঘটনা ঘটলেও কালো তালিকাভুক্ত সংস্থাকে বরাত দিতে বার বার টেন্ডারের শর্ত বদলানো হবে কেন।
Dharmendra Pradhan
প্রধান কেন এখনও পদে
×
Comments :0