রাজ্যে পালাবদলের পর একাধিক তৃণমূল নেতা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই মানুষের ক্ষোভ তীব্র হয়ে উঠছে। এবার কোচবিহারের মাথাভাঙায়। অভিযোগ আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দিতে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা নিয়েও ঘর দেয় নি পেশায় সিভিক ভলেন্টিয়ার শহিদুল মিয়া। ইনি আবার এলাকায় দাপুটে তৃণমূলের নেতা হিসেবেই পরিচিত। প্রতারিতরা টাকা ফেরতের দাবিতে বুধবার রাতে বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করতেই নিজের ঘরের খাটের তলায় আশ্রয় নেয়। তাতেও শেষ রক্ষা হয় নি! পুলিশ এসে খাটের তলা থেকে টেনে বের করে থানায় নিয়ে যায় কীর্তিমান ওই সিভিক ভলেন্টিয়াকে। প্রতারিতদের আফশোষ টাকা ফেরত পাবো তো? এলাকার বাসিন্দা সোলেমান মিয়া বলেন, ‘‘ওই অভিযুক্ত শহিদুল মিয়া পেশায় সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং বিগত শাসকদলের আস্থাভাজন স্থানীয় স্তরে একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে এলাকার প্রচুর মানুষের থেকে টাকা নিয়েও ঘর পাইয়ে দেয় নি। এতদিন ভয়ে কেউ কিছু বলতো না।’’ এদিন গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে বাড়ি ঘেরাও হলে নিজের ঘরের খাটের তলায় আশ্রয় নেয় সিভিক ভলেন্টিয়ার! সেই খবর পেয়েই মাথাভাঙা থানার পুলিশি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করে গ্রামবাসীর ক্ষোভের হাত থেকে রক্ষা করে। এলাকার আরেক বাসিন্দা সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এর আগেও গ্রামবাসীরা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। তখন পালিয়েছিল ওই কীর্তিমান। বুধবার রাতে ফের টাকা ফেরতের দাবিতে প্রতারিতরা বাড়িতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি বাড়িতে নেই। বিক্ষোভকারীদের সন্দেহ হয়, শহিদুল বাড়ির মধ্যেই আত্মগোপন করে রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে খবর পেয়ে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে শোবার ঘরের খাটের তলা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
Mathabhanga
জনরোষে খাটের তলায় মাথাভাঙ্গার তৃণমূল নেতা
×
Comments :0