USA

ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাশ, ট্রাম্পের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ল

আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)। যদিও প্রস্তাবটি মূলত প্রতীকী এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের ভেটোর মুখে পড়তে পারে, তবুও এই প্রস্তাব ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাশ হয়। ট্রাম্পের নিজস্ব রিপাবলিকান দলের চারজন সদস্যও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। এখন এটি মার্কিন সিনেটে যাবে। তবে সিনেটে পাশ হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটোর সম্ভাবনা রয়েছে।
হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সামাজিকমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘এটি মার্কিন জনগণের পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে একটি স্পষ্ট ও জোরালো বার্তা ইরানে বেআইনি যুদ্ধ বন্ধ করার সময় এসেছে।’
ডেমোক্র্যাটদের মতে, এই ভোট কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ও শান্তি সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এর আগে মে মাসের শেষ দিকে একই ধরনের একটি প্রস্তাব সিনেটে প্রাথমিক প্রক্রিয়াগত অনুমোদন পেয়েছিল। রিপাবলিকানদের স্বল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহেই সিনেটে চূড়ান্ত ভোটাভুটি হতে পারে। যদিও রিপাবলিকান নেতৃত্ব তা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও গোলাগুলি ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং শান্তি আলোচনা বিশেষ অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়ে ট্রাম্প সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
মার্কিন ওয়ার প্যাক্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, বিদেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জড়ানোর ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। সেই সময়সীমা কয়েক সপ্তাহ আগেই শেষ হয়েছে বলে ডেমোক্র্যাটদের দাবি।
তবে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির কারণে ওই সময়সীমা স্থগিত ছিল। ফলে আইন ভঙ্গের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের একাধিক ড্রোন নষ্ট করেছে এবং একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে। পাল্টা ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে খবর।
রিপাবলিকানদের একাংশের মতে, এই মুহূর্তে সেনা প্রত্যাহারের দাবি মার্কিন অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় ট্রাম্পপন্থী শিবিরের মধ্যেও অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট ইরান নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং আগামী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার রাজনীতিতে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

Comments :0

Login to leave a comment