যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রামনবমী পালন করার জন্য উপাচার্যকে চিঠি দিল রাজভবন। রাজ্যপালের প্রতিনিধি কাজী মাসুম আখতার এই চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এর আগে একাংশের এমন অনুরোধ বিশ্ববিদ্যালয় খারিজ করে দিয়েছিল। উল্লেখ্য, এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপিতে দেশে এবং রাজ্যে অশান্তি ছড়াতে দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছর ধরেই।
প্রশ্ন উঠেছে, কিভাবে রাজ্যপালের প্রতিনিধি এই চিঠি লেখেন ? যখন রামনবমীর মিছিল নিয়ে আদালত রুট ঠিক করে দিচ্ছে , তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই উৎসব কেন ??
এই বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া, গবেষণার জায়গা। এই জায়গাকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা যায় না। আর রামনবমী আগে ছিল এই রাজ্যের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের অংশ, এখন বিজেপি-আরএসএস তাকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত করেছে।’’
গতকাল মাসুম আখতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি মেইল করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা রবিবার ক্যাম্পাসে রামনবমী পালন করতে চায়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের অনুমতি দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রাজ্যপালকে লেখা মেইলে আখতার দাবি করেছেন যে রাজ্যপালের প্রতিনিধি হিসাবে পড়ুয়ারা তাঁর কাছে আবেদন করেন যাতে এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি সহ উপাচার্য অমিতাভ দত্তের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বললে অধ্যাপক দত্ত জানিয়ে দেন যে এই ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
আখতার তার মেইলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সরস্বতী পুজো, ইফতার করার অনুমতি দেওয়া হলে কেন রামনবমীর অনুমতি দেওয়া হবে না। এই বিষয় আচার্য তথা রাজ্যপালের হস্তক্ষেপের দাবিও তিনি করেছেন।
অধ্যাপক বিশ্বাসের কথায়, ‘‘আচার্য তথা রাজ্যপালের উচিত নজর রাখা যাতে এই ধরনের কোন অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে না হয়। হিংসা ছড়াতে পারে এমন কোন অনুষ্ঠান না হওয়াই শ্রেয়। রামনবমীকে কেন্দ্র করে বিজেপি-আরএসএস গোটা দেশে উগ্র ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যা গোটা দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই দিক থেকে দেখতে গেলে যাদবপুরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের কর্মসূচি কাম্য নয়।’’
উল্লেখ্য শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চাকায় যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ার আহত হওয়ার ঘটনায় যখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি সেই সময় শিক্ষামন্ত্রীর শাস্তির দাবি না তুলে যাদবপুর দখলের দাবি তোলে বিজেপি‘র ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে বিক্ষোভও দেখায়।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী জিগিরের বিরোধী শিক্ষামহল বলছে যে যাদবপুরের মানোন্নয়ন নয়, আরএসএস’র লক্ষ্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থীদের ঐতিহ্যে আঘাত হানা। যাদবপুরের মুক্ত চিন্তার চেতনার বিকাশের ধারাকে রুদ্ধ করা।
Raj Bhavan pressures to celebrate Ram Navami
রামনবমী করতে যাদবপুরকে চাপ রাজভবনের, ক্ষোভ

×
Comments :0