West Bengal Elections 2026

তৃণমূলের জনসভা ডালখোলায়, নোটিশ দিয়ে বন্ধ হল স্কুলের পরীক্ষা

রাজ্য জেলা

শিক্ষাঙ্গন আজ কি শাসকদলের রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে? উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা হাই স্কুলের ঘটনায় সেই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। যেখানে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেখানে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য পরীক্ষা বাতিল—এ যেন প্রশাসনিক উদাসীনতা নয়, বরং সুপরিকল্পিত প্রভাব খাটানোরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বিদ্যালয়ে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা চলছিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার দুপুর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আচমকাই সেই পরীক্ষা বাতিল করে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। কারণ—তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)-র জনসভা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, ছাত্রছাত্রীদের আগে থেকে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। ফলে তারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে স্কুলে এসে অপমানিত ও হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়।
দুপুরের আগেই স্কুল চত্বরে ঢুকে পড়ে প্রশাসনিক বাহিনী, শুরু হয় উচ্চস্বরে মাইক বাজানো। প্রশ্ন উঠছে—একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলাকালীন কীভাবে রাজনৈতিক সভার অনুমতি দেওয়া হয়? কার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত? কেন ছাত্রদের ভবিষ্যৎকে তুচ্ছ করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হল?
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, তিনি সেদিন উপস্থিত ছিলেন না এবং ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কি প্রধান শিক্ষকের অজান্তে নেওয়া সম্ভব? না কি এর পেছনে ছিল অদৃশ্য রাজনৈতিক চাপ? এলাকায় জোর গুঞ্জন, তৃণমূল বিধায়ক গৌতম পালের তরফে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সম্পূর্ণ নীরব।
বিরোধী মহল ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সিপিআই(এম) নেতা সুরজিৎ কর্মকারের অভিযোগ করে বলেন, “শাসকদল নিজেদের স্বার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও ছাড়ছে না। আমরা ছুটির দিনেও সভার অনুমতি পাই না, আর ওরা পরীক্ষার দিন স্কুল দখল করে সভা করছে!” এই অভিযোগ নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং বাস্তব চিত্রেরই প্রতিফলন।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, শাসকদলের কাছে শিক্ষা কোনও অগ্রাধিকার নয়—বরং ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি হাতিয়ার। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ছেলেখেলা শুধু অনৈতিক নয়, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরও চরম অবমাননা। শিক্ষাঙ্গন যদি রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হয়, তবে আগামী প্রজন্ম কী শিক্ষা পাবে?
ডালখোলা হাই স্কুলের এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়, বরং বৃহত্তর এক প্রবণতার প্রতিফলন- এমনটাই মনে করছেন এলাকার অভিভাবকেরা। তাদের বক্তব্য, প্রশাসন কি সত্যিই নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, নাকি সবকিছু চুপিসারে ধামাচাপা দেবে, যেমনটা বারবার হয়ে এসেছে।
এদিকে উত্তর দিনাজপুর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক )দেবাশীষ সমাদ্দার বলেন, এভাবে কোন বিদ্যালয় সভার অনুমতি দিতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments :0

Login to leave a comment