Air India Crash

বিমান দুর্ঘটনার এক বছর, চুরান্ত রিপোর্ট নিয়ে ধোঁয়াশা

জাতীয়

২০২৫ সালের ১২ জুন, ঠিক এই দিনটিতেই আমেদাবাদে ভেঙে পড়ে এআই ১৭১ ফ্লাইট। ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৬৫ জনের মৃত্যু হয়। বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে শুক্রবার। চূড়ান্ত তদন্ত এখনও বাকি রয়েছে। ভারতের সবচেয়ে ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি এখনও সমাধান থেকে অনেক দূরে। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ও অনুদান বাবদ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। তবে বিমান সংস্থাটির প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ তদন্তকারীরা এখনও দুর্ঘটনার প্রযুক্তিগত এবং পরিচালনগত দিকগুলো খতিয়ে দেখছেন। এয়ার ইন্ডিয়ার দাবি, দুর্ঘটনায় নিহতদের ৯৬ শতাংশকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আহতদের ৯৪ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। টাটা গ্রুপের এআই-১৭১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টও এন. চন্দ্রশেখরন কর্তৃক ঘোষিত ১ কোটি টাকার এককালীন অনুদান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ৯১ শতাংশের মধ্যে বিতরণ করেছে। তবে, কিছু পরিবার ও ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী আমেরিকান বিমান চলাচল বিষয়ক আইনজীবী মাইক অ্যান্ড্রুস সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘‘পরিবারগুলো এয়ার ইন্ডিয়ার কাছ থেকে দাবিগুলো এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। কিছু পরিবারকে এমন নিষ্পত্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে বলা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে দাবি করার অধিকার হারানোর নিশ্চয়তা দেয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যদি এই ধরনের নিষ্পত্তিপত্র গ্রহণ করা হয়, তবে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের আগেই বোয়িং আইনি পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারে।’’ গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানির কন্যা রাধিকা মিশ্রও প্রশ্ন তুলেছেন। নিহতদের বেশ কয়েকটি পরিবার ব্ল্যাক বক্সের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানায়। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রদানের জন্য অনুরোধ করে। যদিও এয়ার ইন্ডিয়া পরিবারগুলকে চাপ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে যে চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য কোনো সময়সীমা নেই। দাবিদাররা এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন।
এয়ার ইন্ডিয়া আরও জানিয়েছে , তদন্তটি এএআইবি দ্বারা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন কবে প্রকাশ করা হবে সে সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।  এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি তারা দুর্ঘটনা স্থল থেকে উদ্ধার করা জিনিসপত্র পরিবারগুলোর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। দুর্ঘটনার পর ২২,০০০-এরও বেশি জিনিসপত্র শনাক্ত ও নথিভুক্ত করা হয়েছিল। নিহত ১৮৭ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের জিনিসপত্র ভারত ও লন্ডনে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা স্থল থেকে পঁচিশটি ডিজিটাল ডিভাইসও উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৬টি আধিকারিকদের তদন্তের পর পরিবারগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
গত বছরের ১২ জন আমেদাবাদে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই  সমস্ত আনন্দ মুহূর্তেই কান্নায় রূপ নেয়। রানওয়ে ছেড়ে ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মাটিতে ধপ করে নেমে এসেছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮। তারপরও সতর্ক হয়নি আমেদাবাদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। লন্ডনের উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়। দুঃস্বপ্নের ঝুঁকি নিয়েই উড়ে যায় ‘ড্রিমলাইনার’। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাইলটের ‘মে ডে কল’ এবং আকাশে ওড়ার আগেই বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে মেঘানিনগরে এক মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের ছাদ ঘেঁষে ভেঙে পড়ল বিমানটি। বিকট শব্দ, সঙ্গে দাউদাউ আগুনে জ্বলে ওঠে চারপাশ। ওইদিন দুপুর মাটি থেকে তখন বিমানটি মাত্র ৮২৫ ফুট উঁচুতে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সব থেকে বৃহৎ বিমান-দুর্ঘটনা। বিমানে ২৩০ জন যাত্রী এবং ১২ জন বিমানকর্মী ছিলেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্রিটিশ নাগরিকের বেঁচে যাওয়ার খবর মিলেছিল। বাকি সকলেরই মৃত্যু হয়েছিল। বিমানে ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি। শুধু বিমান যাত্রী নয়, যে হস্টেলের উপর বিমানটি ভেঙে পড়েছে, সেখানকার পাঁচ আবাসিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। জখম হয়েছিলেন অনেকে। শুক্রবার আমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার একবছর। শুক্রবার নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া। ভারত ও বিদেশের অফিস এবং বিমানবন্দরগুলোতে কর্মরত কর্মীরা দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেছেন। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান এআই-১৭১ দুর্ঘটনার আজ  এক বছর পূর্ণ হলো। এই দুর্ঘটনা নিয়ে কেবল একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে এক বছরের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা শিগগিরই প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।

Comments :0

Login to leave a comment