ভোটের মুখে পাওয়া না পাওয়া,আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতির হিসেব মেলাচ্ছে কোচবিহারের রুগ্ন হয়ে পরা একটার পর একটা তাঁতীপাড়া। অভিজ্ঞতার নিরিখেই এবার ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রতিনিধি বাছবে দিনহাটা, তুফানগঞ্জের তাঁতি পাড়ার ভোটারেরা।
দিনহাটা আর তুফানগঞ্জের তাঁতি পাড়ার অলিতে গলিতে এখন আর চির চেনা "ঠকাঠক" শব্দ কান পাতলেও শোনা যায় না। দিনহাটার ঝুড়িপাড়া থেকে সাহেবগঞ্জ রোডের কিংবা তুফানগঞ্জের তাঁতি পাড়ায় তাঁতিদের হাতের জাদু দেখানোর দিন এখন অস্তাচলে যেতে বসেছে।
সুদিন ফেরানোর স্বপ্ন দেখানো শুরু হয়েছিল সেই ২০১১ সালে। মুখ্যমন্ত্রী হবার আগে কোচবিহারে এসে মমতা ব্যানার্জি তাঁত হাবের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। তারপরে বিজেপি এসে ২০১৬ সালে কেন্দ্রের টাকায় তাঁতের হাল ফেরাতে গোছা গোছা ফর্ম ফিলাপ করালো। কেউই কিছুই করে নি। উলটে গত ১৫ বছরে জেলায় বড় জোর ২০% তাঁত কোন রকমে টিকে আছে। মৃতপ্রায় শিল্প আদৌ বাঁচবে তো? এটাই এখন বড় প্রশ্ন তাঁতি পাড়ায়।
দিনহাটার তাঁত শিঁল্পী অরুন সরকার বলেন, আমার বাবার আমলে নদীয়ার সঙ্গে টেক্কা দিয়ে আমাদের এখানকার শাড়ি, লুঙ্গি,গামছা বাজারের দখল নিত। এখন সেসব অতীত। মেখলা,ডোকনা,আনারকলির মত উত্তর পূর্ব ভারতের জনপ্রিয় পোষাক বুনে কেউ কেউ এখনও টিকে আছে।অরুন সরকারের উদাস গলাই বলে দিচ্ছে তাঁতকে ঘিরে আর স্বপ্ন দেখার দিন ফুরিয়েছে।
তুফানগঞ্জের দীপক দাসের বাড়িতে এক সময়ে ১৫ টা তাঁত চলতো। দশ জন শ্রমিক কাজ করতো। এখন মাত্র দুটো তাঁত আছে। দীপক দাস তাঁত চালান আবার পেটের টানে টোটো নিয়েও বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। দীপক দাসের কথায়, " প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী পরে বিজেপির বিধায়ক মালতী রাভা অনেক প্রতিশ্রুতি দিল। কেউ কিচ্ছু করলো না। একটু সরকারি সাহায্য পেলে বেঁচে যেত জেলার প্রায় হাজার তিনেক তাঁতি পরিবার খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারতো।"
দিনহাটার সত্যেন বর্মন কাকার থেকে ছেলেবেলায় সুতো রঙ করা থেকে তাঁত চালানো শিখেছে। এখন বয়স ষাটের দোড়গোড়ায়। দুই ছেলেই এখন ভিন রাজ্যে কাজ করে। অনিশ্চয়তার এই পেশায় ওরা আসতে চায় না। সত্যেন বর্মন বলেন," কিছুটা সরকারী সাহায্য আর বাজার গড়ে দিলে আরেকবার তাঁতকে আগের সোনালী যুগ ফিরিয়ে দেওয়া যেত।"
তুফানগঞ্জ আর দিনহাটার মেখলা আনারকলি আর ডোকনা আসামের পাইকারেরা এসে নিয়ে যায়। উত্তর-পূর্ব ভারতে জেলার এসব সম্ভারের সুনাম যথেষ্ট। তুফানগঞ্জের বামফ্রন্টের সিপিআই(এম) প্রার্থী ধনঞ্জয় রাভা বলেন, মেখলা,ডোকনা আর আনারকলিকে ঘিরে অনায়াসে লাভজনক কুটির শিল্প হবার সম্ভবনা রয়েছে তুফানগঞ্জ ও দিনহাটায়। বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলে রুগ্ন হয়ে পড়া তাঁতকে ফের পুনরজ্জীবন দেওয়া হবে। তাতে তাঁত ছেড়ে যারা ভিন রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন তারা আমার গ্রামে ফিরবেন। গ্রামীন অর্থনীতির হাল ফিরবে।
এক দশক আগে তুফানগঞ্জের উমেশ দাস ভিন রাজ্য অরুনাচল প্রদেশে চলে গেছিলেন রংমিস্ত্রীর কাজ নিয়ে। ফোনে জানালেন, অবশ্যই ফিরতে চাই তাঁতে। যদি সরকার পাশে দাঁড়ায়। আমাদের হাল ফেরাতে আন্তরিক হয়। নইলে তাঁত শিল্পীর পরিচয় হারিয়ে রঙমিস্ত্রী হয়েই জীবন কাটবে।
Cochbihar Weavers
দুই সরকার স্বপ্ন দেখালেও হয়নি বাস্তবায়ন, সুদিন ফেরানোর দাবি তাঁতীদের
×
Comments :0