kamarhati Shootout

কামারহাটিতে কর্মী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার তৃণমূলেরই ৩

রাজ্য

খুনের ঘটনাস্থলে তদন্তে পুলিশ। ছবি - অভিজিৎ বসু।

পুকুর ভরাট, লোকের জমি দখল করে অবৈধ জমি কারবার, বহুতল তৈরীর দালালি, ইমারতী সরবরাহ করার দখলদারি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ২ গোষ্ঠীর বিরোধের জেরে খুনের ঘটনা হয়েছে কামারহাটি পৌরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে। নিহত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর নাম আনায়াতুল্লাহ রোহান(৩২)। স্থানীয় পৌর প্রতিনিধির গোষ্ঠীর লোক বলেই সে পরিচিত ছিল। বরানগর লাগোয়া রাজিব নগরের রামকৃষ্ণ নগর ক্যানাল রোডে মঙ্গলবার রাতে খোলা স্থানে বসে মদ্যপান করার সময় তার মাথার পেছনে গুলি করা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলের কাছেই নিহতের বাড়ি। তাঁর মা জানিয়েছেন, মাথার পেছনেই ক্ষত চিহ্ন ছিল। বুধবার ভোরে এলাকার বাসিন্দারা তাকে জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তাকে পার্শ্ববর্তী বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে আনা হয়। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত তৃণমূল কর্মীকে যেখানে পড়ে থাকতে দেখা গেছিল সেই স্থানে ছড়ানো ছিটানো ছিল মদের বোতল এবং আনুষাঙ্গিক খাদ্য দ্রব্যের পাত্র। ঘটনাস্থলে  বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা, সিআইডি দল এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এসে তদন্ত শুরু করেছেন। মদের বোতল ও অন্যান্য পাত্র  এবং চাপ চাপ রক্ত পড়ে আছে ঘটনাস্থলে। এ সম্পর্কে পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৭ টা ১৫ মিনিট নাগাদ  বেলঘোরিয়া থানা সাগর দত্ত হাসপাতাল থেকে তথ্য পায় যে আনায়াতুল্লাহ রোহান নামে একজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এসেছেন। সুনির্দিষ্ট মামলা শুরু হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন জানা গেছে যে বেলঘোরিয়া থানা এলাকার রামকৃষ্ণ নগর ক্যানাল রোডে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে এটি ঘটেছে। মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তদন্ত চলছে। পরবর্তী সময় জানা গেছে, পুলিশ সুশান্ত রায় নামে অপরাহ তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। নিহত তৃণমূল কর্মী রোহানের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত এই সুশান্ত রায়। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, ঘটনার আগে নিহত তৃণমূল কর্মী দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে, তার সাথে যারা ছিল, ঘটনার পর পুলিশকে তারা জানালো না কেন? 
পরে জানা যায় এই ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সেই তিনজনের মধ্যে একজন ঋজু অন্যজন অভিজির দাস। এই ধৃত অভিজিৎ দাসের স্ত্রী সোনিয়া দাস  এই ঘটনার বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন। তিনি বলেন,তাঁর  স্বামী গতকাল ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং তিনি জানিয়েছেন, রেহানকে গুলি করেছে রিজু।   তাঁর স্বামী অর্থাৎ অভিজিৎ দাস কে হুমকি দিয়েছিল যদি এই ঘটনার কথা সে কাউকে বলে তাহলে রেহানের মতোই অবস্থা হবে অভিজিৎ দাসের। ভয়ে সেই রাতে অভিজিৎ দাস বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে সমস্ত ঘটনা জানায়। পুলিশ তদন্তে নেমে বুধবার  সকালে  অভিজিৎ দাস কে তুলে আনে। এরপরই অভিজিৎ দাসের স্ত্রী বলেন তার স্বামী নিরপরাধ।
অঞ্চলের বাসিন্দারা  জানিয়েছেন, নিহত তৃণমূল কর্মী প্রথমে উত্তর দমদমের নিমতায় বসবাস করত। পরবর্তীকালে রাজীব নগরের সে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করে। তার বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর তৃণমূল কর্মীদের সাথে, অবৈধ কারবারের দখলদারি, ভাগাভাগি ইত্যাদি নিয়ে এর আগে প্রকাশ্যেই বেশ কয়েকটি মারপিট গন্ডগোলের  ঘটনা হয়েছে।
উল্লেখ্য একমাস আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে অপর একটি গুলি চালনার  ঘটনায় ,কামারহাটি পৌরাঞ্চলের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে একজন তৃণমূল কর্মী গুলবিদ্ধ হয়। কামারহাটি পৌরাঞ্চলের বাসিন্দারা  বলছেন, এখন দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের সাথে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ খুনখারাবির ঘটনা কামারহাটি পৌরাঞ্চলে প্রায়শই হচ্ছে। অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তৃণমূলীদের। 

Comments :0

Login to leave a comment