Rahul Gandhi

আপনারা ভারত মাতাকে বিক্রি করছেন : রাহুল

জাতীয় আন্তর্জাতিক

‘ভারত মাতাকে বিক্রি করেছেন আপনারা’ লোকসভায় দাঁড়িয়ে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শর্ত মেনে নিয়ে ভারত সরকার এই চুক্তিতে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে। ট্রেজারি বেঞ্চের প্রবল স্লোগান এবং বাধার মাঝেই রাহুল দাবি করেন, বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ক্ষমতায় থাকলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চাকর হিসেবে নয়, বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে কথা বলতো।
রাহুল বলেন, ‘আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত, আপনারা ভারত মাতাকে বিদেশের হাতে বিক্রি করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘এই প্রথম দেশের কৃষক এবং কৃষিক্ষেত্র এক ভরম সঙ্কটের মুখে পড়েছে। চুক্তির মাধ্যমে দেশের কৃষকদের পিষে মারার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।’
বিরোধী দলনেতা তার বক্তৃতায় প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন, যা তার মতে ভারত সরকারের দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল।
রাহুলের মতে, বর্তমান বিশ্বে ভারতীয়দের ব্যক্তিগত তথ্য বা ‘ডেটা’ সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রাম্পকে বলতাম আপনার ডলার রক্ষা করার জন্য ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের ডেটা ব্যবহার করতে হলে আপনাকে সমমর্যাদায় কথা বলতে হবে। আমরা আপনাদের চাকর নই যে যা বলবেন তাই মেনে নেব।’
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, নতুন চুক্তির অধীনে ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। এই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে রাহুল বলেন, ভারত কেন নিজের জ্বালানি নিরাপত্তার সাথে আপস করবে? দেশের স্বার্থে যে কোন দেশের থেকে তেল কেনার অধিকার ভারতের থাকা উচিত এবং বিরোধীরা কখনই এই বিষয়ে নতিস্বীকার করত না।
মার্কিন কৃষকদের সুবিধা করে দিতে গিয়ে ভারতীয় কৃষকদের বলি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের যেমন নিজের কৃষকদের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে, আমাদেরও ভারতীয় কৃষকদের রক্ষা করতে হবে। আলোচনার টেবিলে আমাদের অবস্থান এমন হওয়া উচিত যাতে ভারতকে পাকিস্তান বা অন্য কোন দুর্বল রাষ্ট্রের সমপর্যায়ে না ফেলা হয়।’
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আগে শুল্ক ছিল ৩ শতাংশ এখন তা ১৮ শতাংশ হয়েছে। একদিকে আমেরিকা যখন শুল্ক বাড়াচ্ছে তখন ভারত শুল্ক মুকুব করে শূন্য করে দিয়েছে। আমেরিকার আমদাবি ৪৬ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে হবে ১৪৬ মার্কিন ডলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হবে।’

Comments :0

Login to leave a comment