party congress

দৃঢ় প্রত্যয়ী পার্টিকর্মীরা সাম্প্রদায়িকতা রুখতে লড়াই চলবে শেষ পর্যন্ত

জাতীয়

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি-আরএসএস’র সাম্প্রদায়িক-কর্পোরেট আঁতাতের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করে এগচ্ছে সিপিআই(এম), তা ২৪তম কংগ্রেসের পেশ করা খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাব এবং গত পার্টি কংগ্রেসে গৃহীত রাজনৈতিক-কৌশলগত লাইনের খসড়া পর্যালোচনা রিপোর্টের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তুলে ধরছেন বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা। এই লড়াই করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, এমনকি শহীদও হয়েছেন। আবার সাফল্যও এসেছে, বিজেপি ও তার জোটসঙ্গীকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা। শুধু শারীরিক আক্রমণই নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কীভাবে বিষাক্ত আক্রমণ নামিয়ে আনছে সঙ্ঘ পরিবার, তা উঠে এসেছে আলোচনায়। বহুমুখী এই আক্রমণ মোকাবিলা করতে গিয়ে গত পার্টি কংগ্রেসে গৃহীত রাজনৈতিক লাইন অনুসারে বিজেপি-আরএসএস’র বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ব্যাপকতম ঐক্য গড়ে  তোলার কাজে সাফল্য-ব্যর্থতার চিত্রও উঠে এসেছে আলোচনায়। তবে এই ভয়ঙ্কর শক্তিকে মোকাবিলা করতে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ও ঘোষণা করেছেন প্রতিনিধিরা।  
বুধবার মাদুরাইয়ের তামুক্কম কনভেনশন সেন্টারে ২৪তম কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনের পর প্রতিনিধি অধিবেশনে এই দুটি রিপোর্ট পেশ করেছিলেন সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির কো-অর্ডিনেটর প্রকাশ কারাত। বৃহস্পতিবার দিনভর আলোচনা চলেছে। শুক্রবারও এই দুটি রিপোর্টের ওপর আলোচনা চলবে। তারপর আলোচনার জবাবি ভাষণ দেওয়া হবে। যে সমস্ত রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে, উত্তর প্রদেশ, আসাম, ত্রিপুরা, গুজরাটে কীভাবে সংখ্যালঘুদের  ওপর ‘বুলডোজার-রাজ’ নামিয়ে আনা হচ্ছে, তা এই রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরা আলোচনায় তুলে ধরেছেন। আসামের প্রতিনিধি আলোচনায় বলেন, হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার শুধু সংখ্যালঘুদের ওপরেই নয়, যে কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপরেও তীব্র আক্রমণ নামিয়ে আনছে। একদিকে, গোরক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজে তীব্র সাম্প্রদায়িক বিভাজন করছে, অন্যদিকে নাগরিকত্বের ইস্যুতে সংখ্যালঘুদের ‘ডি-ভোটার’ করার চক্রান্ত করছে। এই আক্রমণের শিকার শুধু সংখ্যালঘু মানুষ নন, গরিব মানুষও। এর বিরুদ্ধে পার্টি ও গণসংগঠনগুলি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার কাজ করছে। 
উত্তর প্রদেশে শুধু সাম্প্রদায়িক বিভাজন নয়, গণতন্ত্র এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের ওপর কীভাবে আক্রমণ নামিয়ে আনছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার তা উঠে এসেছে প্রতিনিধিদের আলোচনায়। ছয় মাস অন্তর এসমা জারি হচ্ছে শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন দমন করার জন্য। নারীদের ওপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার নেমে আসছে। ধর্ষণ, খুন, নারী নির্যাতন বেড়েই চলেছে। বুলডোজার শুধুমাত্র সংখ্যালঘুদের চিহ্নিত করেই চালানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিজেপি দুষ্কৃতীর বাড়িতে বুলডোজার আক্রমণ হয়নি। কুম্ভমেলার মাত্রাতিরিক্ত প্রচারের আড়ালে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিধিরা বলেছেন, আসাম ও উত্তর প্রদেশে বিজেপি নেতা-কর্মীরাই কেবল নন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য রাখছেন। ওড়িশার প্রতিনিধি বলেছেন, বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর রাজ্যে সাম্প্রদায়িক হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।  
বিজেপি-শাসিত এবং বিজেপি’র জোটসঙ্গীদের দ্বারা পরিচালিত রাজ্যগুলিতে কীভাবে জল-জঙ্গল-জমি কর্পোরেটদের হাতে নির্বিচারে তুলে দেওয়া হচ্ছে তা উল্লেখ করেছেন প্রতিনিধিরা। এমনকি, পশ্চিমবঙ্গের চা বাগানগুলির ৩০ শতাংশ জমি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। গোটা দেশে জল-জমি-জঙ্গল কর্পোরেট লুটের ঘটনার ব্যতিক্রম নয় পশ্চিমবাংলা।  
অন্যদিকে, কেরালার প্রতিনিধিরা রাজ্যে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকারের সাফল্য তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি’র সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মোকাবিলার কথা বলেছেন। সিপিআই(এম) এই শক্তিকে মোকাবিলা করার কারণে গত কয়েক বছরে ওই রাজ্যে একটিও সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেনি।

Comments :0

Login to leave a comment