Salim

ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে লড়াই গোটা বাংলার মানুষের লড়াই : সেলিম

রাজ্য বাংলা বাঁচানোর ভোট

‘এসআইআরের নাম করে ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এই লড়াই শুধু তাদের লড়াই নয়। এই লড়াই বাংলার মানুষের লড়াই। যারা ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ তাদের জবাব দেবে।’ কলকাতা প্রেস ক্লাবের আয়োজীত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে একথা বললেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই ইসলামপুরে নিহত সিপিআই(এম) কর্মী নুর আজমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান সেলিম। তিনি বলেন, ‘কমিশন ভোট নিয়ে কড়াকড়ি করছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী সাঁজোয়া গাড়ি টহল দিচ্ছে। কিন্তু একজন মানুষ খুন হয়ে গেলো কমিশন, রাজ্য প্রশাসন এখনও কোন পদক্ষেপ নিলো না। জমি লুঠ করার জন্য, বেআইনি কাজ করার জন্য ইসলামপুর পুলিশ জেলা তৈরি করেছিল। তৃণমূল নেতার দুষ্কৃতিদের দ্বারা খুন হয়েছেন নুর আজম।’
সেলিম বলেন, ‘এসআইআরের নাম করে মানুষকে নোটবন্দির সময়ের মতো লাইনে দাঁড় করিয়েছে কমিশন। নোটবন্দির সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিল কালো টাকা সব উদ্ধার হয়েছে। তারপর দেখা গিয়েছে তৃণমূলের নেতার বান্ধবীর বাড়ি থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা। হাওয়ালার মাধ্যমে বিজেপি এবং তৃণমূলের নেতাদের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।’
সিপিআই(এম) এবারের নির্বাচনের ডাক দিয়েছে ‘বাংলা বাঁচানোর’। সেই প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ’১৫ বছরে তৃণমূলের অপশাসন বাংলার রাজনীতি, সংস্কৃতিকে শেষ করেছে। তৃণমূলে আই-প্যাককে প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করেছে। দল ভাঙানোর কাজেও তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে গণতন্ত্রকে শেষ করা হয়েছে। বামফ্রন্ট সরকারে মানুষের হাতে ক্ষমতা দিয়েছিল। তৃণমূল সেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। আমরা বলছি এই বাংলাকে বাঁচাতে হবে। নীল সাদা রঙ করে বাংলার ঐতিহ্যকে ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না।
সেলিম বলেন, ‘বিজেপি – তৃণমূল উভয় চেষ্টা করেছিল ধর্মের নামে ভোট করাতে। কিন্তু তারা তাতে ব্যার্থ হয়েছে। সিপিআই(এম) এর বাংলা বাঁচাও যাত্রা প্রমান করেছে মানুষের দাবি রুটি, রুজি কোন ধর্ম নয়। আজ তৃণমূল বিজেপি বামপন্থীদের চাপে বাধ্য হয়েছে ধর্মের নাম ছেড়ে রুটি রুজির কথা বলতে।’
এসআইআরে প্রায় ১২ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। সেলিম এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমরা মৃত এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা প্রথম থেকেই বলে আসছি। বার বার কমিশনে জানানো হয়েছে সিপিআই(এম)’এর পক্ষ থেকে। কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন দেখা যাচ্ছে কমিশন ধর্মের নামে, জাতের নামে, এলাকা ধরে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। এই বাংলায় ১৮ বছরের ভোটাধিকার প্রথম পঞ্চায়েত এবং পৌরসভায় এরাজ্যে চালু করেছিল বামফ্রন্ট।’
সেলিম বলেন, ‘এরাজ্যে তৃণমূলের প্রশ্রয় বেড়েছে আরএসএস। ২০১১ সালের আগস্ট মাসে হুগলিতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সভার অনুমতি দেয়নি তৎকালিন প্রশাসন বলেছিল আইন শৃঙ্খলার অবনতি হবে। সেইদিনই মালদহের ইংরেজ বাজারে মোহন ভগবত সভা করেছিল, তার আয়োজন করেছিল তৃণমূল।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপি, আরএসএস প্রথম থেকেই কমিউনিস্টদের শত্রু বলে চিহ্নিত করেছে। বাইরে থেকে অস্ত্র এসেছিল জ্যোতি বসুর সরকার ফেলার জন্য। এরাজ্যে তৃণমূলের জন্ম সিপিআই(এম)’কে হারানোর জন্য। বিজেপিকে হারাতে নয়। মমতা নিজে বলেছে বিজেপি তাদের স্বাভাবিক বন্ধু।’

Comments :0

Login to leave a comment