অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য তথ্য সংগ্রহের নামে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। আলিপুরদুয়ারে ইউসিআরসি কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় যোগ দিতে এসে তিনি রাজ্য সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
সুজন চক্রবর্তী বলেন, “অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে সরকার শুধু ডেথ সার্টিফিকেট চায়নি, বাকি প্রায় সব তথ্যই চেয়েছে।” তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রতিশ্রুতি আড়াল করতেই নতুন করে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের কথা সামনে আনা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়ে সরকার নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, আবেদনপত্রে পরিবারের সদস্যদের নাম, ঠিকানা, আধার নম্বর, প্যান কার্ডের তথ্য, বাড়ি একতলা না দোতলা, পরিবারের কাছে চারচাকা বা দুচাকা যানবাহন রয়েছে কি না—এমন নানা তথ্য চাওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “এটা কি শুধুই সরকারি সুবিধা দেওয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহ, নাকি বৃহত্তর ডেটা সংগ্রহের প্রক্রিয়া? এই তথ্য ভবিষ্যতে বিক্রির কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে কি?” তাঁর মতে, যদি প্রকৃত উদ্দেশ্য সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়, তাহলে শুধুমাত্র উপভোক্তার তথ্য নিলেই যথেষ্ট। পরিবারের সকল সদস্যের তথ্য চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এনআরসি’র মতো নানা প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যও ঘুরপথে সংগ্রহ করা হতে পারে। এদিন হকার উচ্ছেদ ও কলোনি উচ্ছেদের প্রসঙ্গেও সরব হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হকার উচ্ছেদের নামে গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা বিপন্ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের জীবিকার ওপর আঘাত নামিয়ে আনা হচ্ছে। রেল স্টেশনের হকারদের আস্তানা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, বিভিন্ন কলোনিতে নোটিশ পাঠিয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”
রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলা হয়েছিল। দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি দেখা যাচ্ছে বলে তাঁর দাবি। সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী যা বলতেন, বাস্তবে তার উল্টো পথে হাঁটতেন। বর্তমান সরকারও কি সেই একই পথে হাঁটছে?” তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমরা উচ্ছেদ মানব না। গরিব মানুষের বাসস্থান ও জীবিকার ওপর আঘাত এলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে।”
শনিবার তিনি বক্সা টাইগার রিজার্ভ এলাকার সান্তালা বাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সাথে উচ্ছেদ নিয়ে কথা বলেন।
Sujan Chakraborty
মানুষের বাসস্থান জীবিকায় আঘাত নামলে আন্দোলন চলবে, সুজন চক্রবর্তী
×
Comments :0