এক মাস সময় দিতেও রাজি নয় রেল। নির্দয় ভাবে দমদম ভাঙা হলো হকারদের স্টল। বুলডোজার আনা হলো মালগাড়িতে। আনা হলো সাঁজোয়া গাড়ি, যেন যুদ্ধক্ষেত্র।
আর গভীর রাত পর্যন্ত অসম লড়াইয়ে অদম্য থাকল সিআইটিইউ, সঙ্গে ছিলেন হকাররা। যাঁদের অনেকেই মহিলা।
আগে থেকেই খবর ছিল হতে পারে উচ্ছেদ। দমদম স্টেশনে রাত হওয়ার সাথে সাথেই রাত জাগছিলেন হকাররা। সঙ্গে ছিলেন সিআইটিইউ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের সদস্যরা। গার্গী চ্যাটার্জি, সোমনাথ ভট্টাচার্য, সহ শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্বরা হাজির ছিলেন। রাত হতেই সেখানে উপস্থিত হন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য ময়ূখ বিশ্বাসও। প্রায় হাজারের বেশি রেল হকার সিআইটিইউ কর্মী সমর্থক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন দমদম স্টেশনে।
শুধু দমদম স্টেশনেই নয়, বুলডোজার এনে একের পর এক দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া চলছে উত্তরপাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকাতেও।
স্টেশন সুপারিনটেনডেন্টের সঙ্গে কথাও হয় প্রাথমিকভাবে। গার্গী চ্যাটার্জি সহ নেতৃবৃন্দ তাকে জানান একমাস অতিরিক্ত সময় দেওয়া হোক হকারদের। স্টেশনে এমন হকার রয়েছেন যার মা ক্যান্সার আক্রান্ত আবার এমনও হকার রয়েছেন যার সদ্যোজাত শিশু রয়েছে। হঠাৎ করে উচ্ছেদ চালালে তাদের পরিবার চলবে কিভাবে। সিআইটিইউ নেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন রেলের মনোভাব সবচেয়ে বেশি আগ্রাসী। তারা যে কোনও মূল্যে উচ্ছেদ করতে চাইছে। যখন দমদম স্টেশনে উচ্ছেদের পরিকল্পনা চলছে ঠিক সেই সময় এসে পৌঁছান প্রাক্তন সাংসদ ও প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা তড়িৎবরণ তোপদার। তিনিও রেল কর্তৃপক্ষকে বলেন এর আগে বহু সময় থাকার উচ্ছেদ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে কিন্তু রেলের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের সাথে কথা বলে উচ্ছেদের জন্য সময় মিলেছে। আপনারাও এই হকারদের একমাস সময় দিন। কিন্তু কিছুতেই রাজি হয়না তারা। এই সময়ের মধ্যেই বুলডোজার নিয়ে এসে জড়ো করা হয়। ডাকা হয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেও। প্রশাসন নিয়ে আসে সাজোয়া গাড়ি।
উপস্থিত হকাররা জানাচ্ছেন শেষ নির্বাচনে তারা অনেকে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন কিন্তু তাঁদের এই বিপর্যয়ের সময় একজনও বিজেপি নেতাকর্মী তাদের পাশে নেই। তাদেরই একজন গার্গী চ্যাটার্জিকে সাহসের সঙ্গে বলেন, আজ অনেক লড়াই করে ও দোকান রক্ষা করতে পারলাম না। কিন্তু পাশে থেকে রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আপনাদের এই লড়াই কোনও দিনও ভুলবো না। নেতৃবৃন্দ বলেছেন রুটি রুজি হারানো হকারদের হয়ে সংগ্রাম জারি রাখবেন।
Comments :0