বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে চন্ডীতলা থানার সামনে আক্রান্ত তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। সোনারপুরে অভিষেক ব্যানার্জির ওপর হামলার প্রতিবাদে চন্ডীতলা থানায় বিক্ষোভ দেখাতে যান তৃণমূল সাংসদ। সেই সময় তৃণমূল সাংসদকে লক্ষ করে উড়ে আসে ইঁট। তৃণমূল সাংসের মাথায় লাগে সেই ইঁট। মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে কিছুক্ষন পড়ে থাকেন কল্যাণ। তারপরই গুটি কয়েক কর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তিনি। বিক্ষোভ দেখানোর সময় তৃণমূল সাংসদকে দেখে মনে হয়নি তিনি গুরুত্বর আহত। সাংসদকে ঘিরে ওঠে চোর চোর স্লোগানও।
তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেন থানার আইসি পরিকল্পিত ভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। থানার সামনে বসে তৃণমূল সাংসদ সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। কিন্তু প্রতিবাদ করুন। বাংলা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে। স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করুন, যে যেখানে রয়েছেন। আমাদের দলে কিছু লোক রয়েছেন, যারা কবিতা লেখেন। বিজেপির চামচাগিরি করেন। তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করুন।’ তিনি আরও বলেন, এক জন সিআইএসএফ জওয়ানের জন্য বেঁচে গিয়েছি। রাজ্য পুলিশের হাতে বাঁচব না। কল্যাণের কথা থেকে একটি জিনিস স্পষ্ট। তৃণমূলের একটা বড় অংশ বিজেপির সাথে মিশে গিয়েছে।
হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে প্রান্তিক খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে যখন ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, বামপন্থীদের উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনের ওপর তাদের আস্থা বাড়ছে তখন চুপশে যাওয়া তৃণমূলকে বাঁচাতে তৎপর বিজেপি। গতকালের ঘটনা প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ‘‘ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। কিন্তু প্রতিবাদ করুন। বাংলার মানুষ প্রতিবাদ করুন। বাংলা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে। স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করুন, যে যেখানে রয়েছেন। আমাদের দলে কিছু লোক রয়েছেন, যাঁরা কবিতা লেখেন। বিজেপির চামচাগিরি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করুন।’’ থানার সামনে অবস্থানরত কল্যাণের সঙ্গে এক পুলিশ আধিকারিক কথা বলতে এলে তিনি বলেন, ‘‘এক জন সিআইএসএফ জওয়ানের জন্য বেঁচে গিয়েছি। রাজ্য পুলিশের হাতে বাঁচব না। এমপিদের প্রিভিলেজ রয়েছে, তা কি পুলিশ জানে!’’
সেলিম বলেন, কিন্তু মোদ্দা কথা হচ্ছে আজকে যা হলো, অভিষেক ব্যানার্জি ঘরে ঢুকে গিয়েছিল, ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিল। তার প্রতি মানুষের ঘৃণা রয়েছে রাগ আছে ক্ষোভ আছে। কিন্তু ডিম ছোঁড়া বা ‘চোর চোর‘ বলে চিৎকার করা কোন উদ্দেশ্যে।
সেলিম বলেন, আসলে যে তৃণমূল গুরুত্ব হারিয়েছে তাকে আবার গুরুত্বপূর্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ আরএসএস বলে দিয়েছে। আরএসএস’র মুখপত্র ‘স্বস্তিকা‘ পত্রিকায় গত সপ্তাহে লেখা হয়েছে সিপিআইএম থেকে সাবধান। কারণ বামপন্থীদের নেতৃত্বে, লাল ঝান্ডার নেতৃত্বে গরিব মানুষ সংখ্যালঘু মানুষ মহিলা হকার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। তাই তৃণমূলকে বাঁচিয়ে তুলতে হবে। দরকার হলে জেড ক্যাটেগরি সিকিউরিটি বা বাহিনী তা দিতে হবে। আমরা অন্যান্য রাজ্যের ইতিহাস থেকে জানি এ রাজ্যের ইতিহাস জানি। এর পেছনে পরিকল্পনা থাকতে পারে। যাতে তৃণমূল এবং মমতা ব্যানার্জি অভিষেক ব্যানার্জি আবার খোলস থেকে বেরিয়ে আসে। তৃণমূল যাতে ভয় কাটিয়ে রাস্তায় নামে। কিন্তু পুলিশের ঘেরাটোপ না থাকলে পাহারা না দিলে তা সম্ভব নয়। সেই জন্যই বিজেপি তেমন ব্যবস্থা করবে।
Kalyan Banarjee TMC
চন্ডীতলায় আক্রান্ত কল্যাণ, নিজেদের প্রাসঙ্গিক প্রমান করতে মরিয়া তৃণমূল
×
Comments :0