STORY | JIMLI R KAKTA | SOURISH MISHRA | NATUNPATA | 4th YEAR | 30 MAY 2026

গল্প | ঝিমলি আর কাকটা | সৌরীশ মিশ্র | নতুনপাতা | ৪র্থ বর্ষ | ৩০ মে ২০২৬

নতুনপাতা/মুক্তধারা

STORY  JIMLI R KAKTA  SOURISH MISHRA  NATUNPATA  4th YEAR  30 MAY 2026

গল্প | ঝিমলি আর কাকটা

         সৌরীশ মিশ্র

নতুনপাতা | ৪র্থ বর্ষ | ৩০ মে ২০২৬

 

রবিবারের বিকেল।
অনাদিবাবু তাঁর বছর সাতেকের নাতনি ঝিমলিকে নিয়ে বসে আছেন ওনাদের বাড়ির দোতলার টানা লম্বা বারান্দাটায়।
ছুটির দিন। তাই বাড়ির সামনের রাস্তাটায় লোকজনের চলাচল আজ খুবই কম। দু'এক জন মাঝেমধ্যে যাচ্ছে। কেউ হেঁটে, কেউবা সাইকেলে। এই রাস্তাটায় মোটরগাড়ি কমই চলে।
ছোট্ট ঝিমলি দাদুর সঙ্গে নানান গল্প করছে।
হঠাৎই ঝিমলি তিড়িং করে যে বেতের চেয়ারটায় ও বসেছিল তা থেকে লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে উঠল, "দ্যাখো, দ্যাখো, দাদু। কাকটা কেমন আমাদের শিউলিগাছটার ডাল ভাঙছে। অ্যাই, হুশ্, হুশ্..." 
ঝিমলির হুশ্ হুশ্-এ উড়ে গেল কাকটা। তবে, উড়ে খুব একটা দূরে যায় না। শিউলিগাছটা থেকে উড়ে গিয়ে বসে কাছের একটা সজনেগাছের ডালে। তারপর ওখান থেকেই ঘাড় ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে দেখতে থাকে এদিক-ওদিক।
কাকটা ওদের শিউলিগাছটা থেকে উড়ে গেছে দেখে নিশ্চিন্ত ঝিমলি ফের তার চেয়ারটায় এসে বসল। 
"শুধুশুধু তাড়ালে ওকে দিদিভাই?" নাতনি চেয়ারে থিতু হতেই বলে উঠলেন অনাদিবাবু।
"শুধুশুধু! কেমন ডালগুলো ঠোঁট দিয়ে ভাঙছিল, দেখলে না! ডালগুলো ও ভাবে ভাঙলে যদি আমাদের শিউলিগাছটা মরে যায়?"
"ও তো শুকনো ডালগুলো ভাঙছিল! ঐ ডাল ভাঙলে গাছ মরে যায় নাকি! তাছাড়া লক্ষ্য করে দেখবে, মাঝেমধ্যেই কতো শুকনো ডাল এমনিতেই ভেঙে যায় জোড় হাওয়াতে বা নিজে থেকেই। তাতে কি গাছ মরে যায়?"
ঝিমলি ছোটো হলে কি হবে ওকে কেউ কিছু বুঝিয়ে বললে ও বোঝার চেষ্টা করে সে কথা। দাদুর কথাগুলো শুনে তার এখন মনে হচ্ছে, তাইতো, দাদু তো এক্কেবারে ঠিক কথাই বলছে। এই তো ক'দিন আগে বিকেল নাগাদ যে ঝড়টা হোলো তাতেও তো এই গাছটার অনেকক'টা ডালই ভেঙে গিয়েছিল। কই, তাতে গাছটার তো কোনো ক্ষতি হয় নি। বরং ঝড়ের সাথে যে ভীষণ বৃষ্টি হোলো সেই জল পেয়ে অনেক নতুন নতুন পাতা এসেছে অনেক ডালেই।
নাতনি যে তাঁর কথাগুলো নিয়ে ভাবছে, তা ঝিমলিকে দেখেই বুঝে যান অনাদিবাবু। তাই তিনি ফের বলে উঠলেন, "আর দিদিভাই, কেন ও ভাঙছিল ঐ ডালগুলো সেটা জানো?"
"না তো। কেন দাদু?" দাদুর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে ঝিমলি।
"ঐ ডালগুলো দিয়েই তো ওরা বাসা করবে। ঐ বাসাতে ওরা ডিম পাড়বে। সেই ডিম থেকে একসময় বাচ্চা হবে। ঐ বাচ্চাগুলোও থাকবে ঐ বাসাতেই।"
দাদুর মুখের দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে কথাগুলো শুনে যাচ্ছিল ঝিমলি। অনাদিবাবুর কথা শেষ হতে কয়েকক্ষণ কি যেন ভাবে ছোট্ট ঝিমলি। তারপর দাদুকে বলে, "আমার বড্ড ভুল হয়ে গেছে দাদু। আর ওকে আমি কক্ষনো তাড়াবো না, দেখো। আমি আসলে ভেবেছিলাম, আমাদের শিউলিগাছটা যদি মরে যায়। আর, আমি তো জানতাম না, ও ওদের ছানাদের জন্য বাড়ি করছে। আমার ভুল হয়ে গেছে দাদু। আমার ভুল হয়ে গেছে..."
নাতনি, ওনার বলা কথাগুলো বুঝতে পেরেছে দেখে ভালো লাগে অনাদিবাবুর। তিনি নাতনিকে কাছে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দেন একটু।
আর ঝিমলি, দাদুর আদর খেয়েই ফের ছুটে চলে যায় বারান্দাটার রেলিং-এর কাছে। তার দু'চোখ এদিক-ওদিক খুঁজছে কি যেন! হঠাৎ সামনের সজনেগাছটার একটা ডালে তার চোখ আটকে যায়। ওখানে তখনও বসে আছে সেই কাকটা। ও যে ঐ কাকটাকেই খুঁজছিল। ঝিমলি চেঁচিয়ে-চেঁচিয়ে ফের বলতে থাকে কাকটাকে, "শোন্, আমি আর তোকে তাড়াবো না কক্ষনো। তুই যতো খুশি ডাল নিতে পারিস্, বুঝলি?"
কাকটা কি বুঝলো কে জানে! কিন্তু, অবাক কাণ্ড, ঝিমলির কথা শেষ হতেই কাকটা ফের উড়ে এসে বসল শিউলিগাছটায়। আর মুহূর্তে আবার ব্যস্ত হয়ে পড়ল ঠোঁট দিয়ে একটা শুকনো ডাল ভাঙতে! 
আর ঐ দেখে, ছোট্ট ঝিমলি আনন্দেতে হাততালিই দিয়ে উঠল।

 

Comments :0

Login to leave a comment