চিন্ময় কর
একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার। অভিযোগ দায়ের হওয়া মাত্র এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেওয়ার ঘটনাও বহু। শনিবারই জেলার চার জন তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কেশিয়াড়ীতে তৃণমূলের দাপুটে মহিলা নেত্রী, রাজ্য মহিলা সেলের সাধারন সম্পাদিকা ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ সদস্য, অভিষেক ব্যানার্জীর স্নেহধন্যা কল্পনা শীট -কে, আটক হওয়া বালি মাফিয়া চক্রের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের হদিস পাওয়ার কারনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরদিকে বোম-বন্দুকের গড় করার মাস্টার মাইন্ড, নারায়নগড় ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের মকরামপুর অঞ্চল সভাপতি লক্ষী সিট-কে পুলিশ ধর্ষণ, খুন সহ সংশ্লিষ্ট আইনে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও, কারখানার শ্রমিকদের বেতন থেকে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ টাকা কেটে নেওয়ার ও অভিযোগ রয়েছে তাঁর উপর।
এছাড়া চন্দ্রকোনা থানার মনোহরপুর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল নেতা গৌতম দন্ডপাট-কে গ্রপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে তিনি, টাকার বিনিময়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কাদের লক্ষী ভান্ডার পাইয়ে দিতেন। এই মনোহরপুরে পেশায় ঠিকাদার তৃণমূল নেতা উত্তম সাউ কে গ্রেপ্তার করা হয় লক্ষী ভান্ডার চালুর প্রথম দিন থেকে পুরুষ হয়েও নিজের নামে অনুদান নেওয়ার ঘটনায়।
এছাড়া দাসপুর ১ নং ব্লকের দাসপুর গ্রামপঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান লাল্টু চক্রবর্তী গত ২১ মে এর পর থেকে এলাকা ছাড়া হয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়। হাসপাতালে গ্রুপ ডি থেকে সমবায় ব্যাঙ্ক, এসএসসি শিক্ষক, ক্লার্ক, পিওন সহ নানান পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার উপর। চাকরি না পেয়ে টাকা ফেরত চাওয়া দাসপুরের লাওদা গ্রামের বাসিন্দা রাজকুমার মাইতি কে মারধর সহ প্রাণে মারার হুমকির ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের হয়।কেউ ১০ লক্ষ, কেউ ১৪ লক্ষ টাকা দিয়েও চাকরি পায়নি বলে ও রয়েছে অভিযোগ।
নারায়ণগড়ের মকরামপুরে তৃণমূলের পার্টি দপ্তরে বোমা বিস্ফোরণে চার জনের মৃত্যুর ঘটনা চাপা পড়ে আছে। পাশাপাশি সেই দপ্তরে এক মহিলাকে সালিশি সভার নামে ডেকে তাকে ধর্ষন করার ঘটনায় জড়িত লক্ষী সীট। গুলি চালিয়ে এক আদিবাসী কে খুন করার অভিযোগ থাকলেও তৃণমূলের রাজত্বে সবই আড়াল করা হয়।
সম্প্রতি মামলাটির তদন্তে নতুন করে তৎপর হয় পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতকে শনিবার খড়গপুর আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালে সাত দিনের পুলিশ হেফাজত হয়।
অপরদিকে, কেশিয়াড়ীতে বালি মাফিয়াদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শীট!
কেশিয়াড়ীতে বালি মাফিয়াদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং বেআইনি টাকা লেনদেনের গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রাজ্য মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদিকা কল্পনা শীট। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যাও বটে। কেশিয়াড়ির দাপুটে তৃণমূল নেত্রী হিসেবে পরিচিত কল্পনা শীটকে শনিবার খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনকয়েক আগে কেশিয়াড়ি এলাকা থেকে দুই কুখ্যাত বালি মাফিয়াকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃত ওই বালি মাফিয়াদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জেরার পরেই উঠে আসে এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রীর নাম। বেআইনি বালি ব্যবসা সংক্রান্ত মামলার তদন্তে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তাঁর সরাসরি যোগসূত্র মেলার পরেই পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। শনিবার ধৃত জেলা পরিষদ সদস্যা কল্পনা শীটকে খড়্গপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে এবং এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে ধৃত নেত্রীকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। আদালত তা মঞ্জুর করেছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্তাধীন রয়েছে।
Comments :0