‘আগে সাধারণ মানুষ এই সরকারকে ভয় পেতো, এখন সরকার মানুষকে ভয় পাচ্ছে।’ যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একথা বললেন সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত। এদিন সকাল থেকেই উত্তপ্ত দিল্লি যন্তর মন্তর যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমএ বেবি, বৃন্দা কারাত, পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার সহ একাধিক শীর্ষ সিপিআই(এম) নেতাদের।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এদিন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি। সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সামিল হওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছিল সিপিআই(এম)’এর পক্ষ থেকে। বাতিল করা হয় এদিনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাও।
বৃন্দা কারাত বলেন, ‘মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে সরকার। সংবিধানকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না।’ এই লড়াইকে মানুষ বনাম সরকারের লড়াই বলে চিহ্নিত করেছেন সিপিআই(এম) নেত্রী।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন আটক করার পর তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা জানা নেই। পুলিশি ঘেরাটোপে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গাড়ি করে।
এদিন সকালে সিপিআই(এম) দপ্তর হরকিষাণ সিং সুরজিৎ ভবন ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এসএফআই, ডিওয়াইএফআই কর্মীরা একেজি ভবন থেকে মিছিল করে যন্তর মন্তর যেতে গেলে রাস্তা আটকায় পুলিশ। আটক করা হয়েছে একাধিক কর্মী সমর্থককে। রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সৃজন ভট্টাচার্য, ঐশী ঘোষরা।
অন্যদিকে দিল্লি বিমান বন্দরে নামার সাথে সাথে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমান থেকেই আটক করা হয়। এই তিনজন নেতাকে আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছে বলে খবর। সামাজিক মাধ্যমে দেখা গিয়েছে অভিজিৎ দীপকের সাথে বিমানে বচসা হচ্ছে পুলিশের।
উল্লেখ্য এই প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর করতে গিয়ে আটক হয়েছেন বহু সাংবাদিকও। যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে আটক করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদেরও।
এই আন্দোলনকে দমাতে দিল্লি জুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিসেবা। বন্ধ মেষ্টো, বাতিল হয়েছে একাধিক ট্রেন, ব্যহত দিল্লির পরিবহন। বিরোধীদের অভিযোগ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমাতে দিল্লি জুড়ে ইমার্জেন্সি চালু করেছে অমিত শাহের দিল্লি পুলিশ। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর পর্যন্ত প্রায় ১০০০ জন প্রতিবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জুনে বিহার থেকে শুরু হওয়া এসআইআর পরবর্তীতে দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে এবং খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী এসআইআর এবং ভোটার-তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার নথিভুক্ত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয়। সিপিআই(এম), সিপিআই এবং সিপিআই(এমএল)-লিবারেশন জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলি মানেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসআইআর-সহ কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ কোনও একজন কমিশনার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিযোগকে কমিশন অস্বীকার করেছে। তবে দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠি এবং তার বিষয় নিয়ে প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছিল তাকে অস্বীকারও করতে পারেনি।
এসআইআর নিয়ে আইনি বিতর্কও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট বিহারের এসআইআর-এর আইনি বৈধতা বহাল রাখলেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট করে যে ভোটার তালিকা থেকে কোনও ব্যক্তির নাম বাদ পড়ার ভিত্তিতে তাঁকে ভারতীয় নাগরিক নন বলে ঘোষণা করা যায় না।
বিরোধী দলগুলির দাবি, নাম বাদ পড়েছে এমন প্রকৃত ভোটারদের নাম দ্রুত এবং ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে দিতে হবে।
Brinda Karat
লড়াই সাধারণ মানুষ বনাম মোদী সরকার : বৃন্দা কারাত
×
Comments :0