মুক্তধারা
প্রবন্ধ
শারদোৎসব নিষিদ্ধ হলে রবীন্দ্রনাথ কোথায় দাঁড়াবেন
অয়ন মুখোপাধ্যায়
৮ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি ‘দিমাগি নকশাল’ ছিলেন? পশ্চিমবঙ্গের নতুন ভাষা-পরীক্ষকদের বিচারে ফল তো সে রকমই হওয়ার কথা। কারণ ১৯০৮ সালে তিনি একটি নাটক লিখেছিলেন। নাম দিয়েছিলেন ‘শারদোৎসব’। ‘দুর্গোৎসব’ নয়, ‘দুর্গাপুজো’ও নয়—একেবারে শারদোৎসব। তা হলে এবার বিশ্বভারতী কী করবে? পুজোর আগে বইটির প্রচ্ছদ পাল্টে শারদোৎসব কেটে দুর্গোৎসব লিখবে?
বিশ্বাস করুন, আমি নিছক ঠাট্টা করছি না। ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বামপন্থীরা পুজোর সময় বইয়ের স্টল করলে সেখানে ‘শারদোৎসব’-এর বদলে ‘দুর্গাপুজো’ লিখতে হবে। সরকার এ নিয়ে এখনও লিখিত নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবু মুখ্যমন্ত্রীর কথাটি একটি সোজা প্রশ্ন তোলে—আমি আমার উৎসবকে কোন নামে ডাকব, সরকার কি তাও ঠিক করে দেবে?
‘শারদোৎসব’ কোনো বামপন্থী আবিষ্কার নয়। বাংলা সাহিত্যে শব্দটির সবচেয়ে পরিচিত ব্যবহার রবীন্দ্রনাথের শারদোৎসব নাটক। ১৩১৫ বঙ্গাব্দে বোলপুর ব্রহ্ম চর্যাশ্রমের ছাত্রদের অভিনয়ের জন্য তিনি নাটকটি লিখেছিলেন। পরে নাটকটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি শান্তিনিকেতনের ঋতু-উৎসবের কথা বলেছেন। ফুল, ফল, হাওয়া, আলো, আকাশ, পৃথিবী—ঋতুর এই বদলকে মানুষ নিজের আনন্দের সঙ্গে মিলিয়ে নেবে, এটাই তাঁর ভাবনা। শরৎ তাঁর কাছে শুধু একটি আচার নয়; প্রকৃতি ও মানুষের মিলনের সময়।
শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ সেই ভাবনাকেই জীবনের অংশ করেছিলেন। বসন্তকে উৎসবে এনেছেন, বর্ষাকে গানে এনেছেন, বৃক্ষরোপণ ও হলকর্ষণকে সমবেত আনন্দের মধ্যে এনেছেন। তাই শারদোৎসব নামটিও আকস্মিক নয়। ‘শারদ’ সেখানে দুর্গাকে সরায় না; শরৎকে আরও বড় পরিসরে দেখে।
আগামী সংখ্যায়
Comments :0