মনিরুল হক: উলুবেড়িয়া
পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে আর বেশি দেরি নেই। হাওড়া গ্রামীণ এলাকার মৃৎশিল্পী পাড়াগুলিতে এখন দিন-রাত চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। কিন্তু ব্যস্ততার মধ্যেও শিল্পীদের মুখে স্বস্তির হাসি নেই। মাটি, গঙ্গামাটি, বাঁশ, সুতলি, পাটের চুল থেকে শুরু করে প্রতিমা তৈরির প্রায় সমস্ত উপকরণের দাম বেড়েছে।
উলটোদিকে, পুজো উদ্যোক্তাদের একাংশ বাজেট কমিয়ে ছোট প্রতিমার দিকে ঝুঁকছেন। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লেও প্রতিমার দাম সেভাবে বাড়াতে পারছেন না শিল্পীরা। সংসার চালাতে গিয়ে লাভের অঙ্ক কমিয়েই অর্ডার নিতে হচ্ছে তাঁদের।
উলুবেড়িয়ার বিরশিবপুর নারকেলতলার মৃৎশিল্পী রনজিত ধাড়া জানান, মরসুমের শুরুতে বাজার একেবারেই ভালো ছিল না। অনেক উদ্যোক্তাই বড় প্রতিমা করতে সাহস দেখাননি। ফলে ছোট প্রতিমার অর্ডারই বেশি এসেছে। শেষের দিকে বাজার কিছুটা ঘুরলেও উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে প্রতিমার দামের সামঞ্জস্য হচ্ছে না।
শিল্পীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এক কেজি সুতলির দাম আগে প্রায় ১২০ টাকা থাকলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৫০ টাকা। বাঁশ কিনতে হচ্ছে ২২০-২৩০ টাকা করে। মাটির দামও বেড়েছে। আগে এক ‘ভক্সেল’ গাড়ির মাটি প্রায় ২৫০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন তার দাম ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে।
নদীর মাটির দামও অটোপিছু প্রায় ২,৫০০-৩,০০০ টাকা। বর্ষা দ্রুত নেমে যাওয়ায় মাটি ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত মাটি তুলতে পারেননি। মাটি তোলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও পুলিশের নজরদারির কারণেও জোগানে সমস্যা হচ্ছে বলে শিল্পীরা জানাচ্ছেন।
প্রতিমার সাজসজ্জার অন্যতম উপকরণ পাটের চুলের দামও বেড়েছে। শিল্পীদের দাবি, আগে এক বুরুশ পাটের চুলের দাম ৫০০ টাকার কাছাকাছি ছিল। এখন তা প্রায় ১,৫০০ টাকা। তার সঙ্গে রয়েছে পরিবহণের খরচ এবং শ্রমিকদের পারিশ্রমিক।
রনজিত ধাড়ার কথায়, ‘উপকরণের দাম অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে প্রতিমার দাম পাচ্ছি না। সব খরচ বাদ দিলে লাভ বলতে প্রায় কিছুই থাকছে না। একপ্রকার ঘর থেকে টাকা দিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। শ্রমিকদেরও টাকা দিতে হবে। এই দুর্মূল্যের বাজারে তাঁদেরও সংসার আছে।’
শিল্পীদের বক্তব্য, পুজোর উদ্যোক্তাদেরও বাজেটের চাপ রয়েছে। তাই প্রতিমার দাম বাড়ালে অর্ডার অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বাজার ধরে রাখতে অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের লাভের অংশ কমিয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাঁদের।
আরেক মৃৎশিল্পী শঙ্কর ধাড়ার কথায়, পুজোর মরসুমে কাজ থাকলেও এবার মূল চ্যালেঞ্জ বেশি প্রতিমা তৈরি করা নয়, বরং বাড়তে থাকা উৎপাদন খরচের মধ্যে পেশাটিকে টিকিয়ে রাখা।
Comments :0