CPI-M Kolkata Dengue Malaria Awareness Campaign

বাড়ছে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার দাপট, কলকাতায় সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছে সিপিআই(এম)

কলকাতা

কাশীপুর বেলগাছিয়া এলাকায় স্বাস্থ্য বিধি প্রচারে সিপিআই(এম) কর্মীরা।

ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার দাপট সারা রাজ্যের মতো বাড়ছে কলকাতাতেও। কলকাতা কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ। বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতার প্রচারে নামল সিপিআই(এম)। প্রচার চালাচ্ছে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনও। আগামীকাল, শুক্রবার, যাদবপুর এলাকায় হবে সচেতনতা প্রচারে পদযাত্রা।
কলকাতায় ডেঙ্গুর দাপট দেখা যাচ্ছে যথেষ্টই। বর্ষার শুরুতে কলকাতার উত্তর প্রান্তে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছিল। উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর এলাকার এক বেসরকারি চিকিৎসকের কথায়, জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর চেয়ে বেশি এসেছেন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রুগীরা। প্রাথমিক ভাবে তাঁদের কর্পোরেশনের ওয়ার্ড স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেই রিপোর্টেই ম্যালেরিয়ার জীবাণু। অন্য বছর এই সময় ডেঙ্গুর প্রভাব বেশি থাকে। তিনি জানাচ্ছেন, সেপ্টেম্বরের পর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত বেশ কয়েকজন রুগী পেয়েছেন। সচেতনতার অভাব রয়েছে। তার সঙ্গে প্রশাসনের তরফে সচেতনতার প্রচারে ঘাটতি থাকছে।
সম্প্রতি কাশীপুর-বেলগাছিয়া জুড়েই বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত সংখ্যা। এলাকার সিপিআই(এম)-র তরফে ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতার প্রচার করা হচ্ছে। সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার জানিয়েছেন যে কলকাতার অন্য এলাকাতেও সচেতনতা প্রচার চলছে। এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনও। 
সিপিআই(এম) কলকাতা জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য প্রতীপ দাশগুপ্ত বলেছেন, "এই এলাকায় অনেক বস্তিতে বেড়েছে ডেঙ্গু- ম্যালেরিয়া সংক্রমণ। আমরা সিপিআই(এম)-র তরফে মানুষের কাছে সচেতনতার প্রচার করছি। কিন্তু এই কাজ করার কথা কর্পোরেশনের। বোর্ড ভেঙে যাওয়ার ফলে পৌর প্রশাসক সেই কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা মানুষকে সেই কথাও বলছি।"
সরকারি তথ্য অনুযায়ী সারা রাজ্যে ইতিমধ্যেই রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। উদ্বেগ বাড়িয়েছে গত পাঁচ দিনের পরিসংখ্যান। আক্রান্তের সংখ্যায় তালিকার শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। সেখানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজারের কাছাকাছি। এরপরেই রয়েছে কলকাতা, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেখানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে।
বুধবার, ৭ অক্টোবর, কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলিকে নিয়ে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোধ সংক্রান্ত বৈঠক করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। সেই বৈঠকেই উঠে এসেছে  যে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকেই উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। 
বৈঠকেই অভিযোগ উঠেছে যে বাড়ি বাড়ি বা পাড়ায় পাড়ায় কার্যকরী নজরদারি হচ্ছে না। জমা জল আছে কিনা, বাড়ির কারও জ্বর হয়েছে কিনা জানার যে উদ্যোগ থাকার কথা পৌর প্রশাসনের, তা থাকছে না। 
বৈঠকের পর স্বাস্থ্য দপ্তর নির্দেশ দিয়েছে যাতে কর্পোরেশন ও পৌরসভার কর্মীরা পুজোর আগে যাতে বাড়তি নজরদারি চালান তা নিশ্চিত করতে হবে। তিন থেকে পাঁচদিন জ্বর না কমলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে এনএসওয়ান অ্যান্টিজেন অ্যালাইজা এবং আইজিএম পরীক্ষা প্রয়োজন মতো যাতে করানো হয় দেখতে হবে। 
বর্ষার পর থেকে কলকাতা কর্পোরেশনের জল নামানোর পাশাপাশি নজরদারি থাকে স্বাস্থ্য বিধি সংক্রান্ত সচেতনতা প্রচারেও। চলতি বছর জনগণনার কাজে কর্পোরেশনের কর্মীদের ব্যবহার করা জন্য নিয়মমাফিক কাজে ঘাটতি থেকেছে বলে অভিযোগ।  
কলকাতা নাগরিক সম্মেলন, পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির মতো সংগঠন সম্প্রতি কলকাতা কর্পোরেশন অভিযান করে। নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি দাবি ছিল ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। 
জনস্বাস্থ্য কমিটির কলকাতা জেলা সম্পাদক ডাঃ গোপাল দাস জানিয়েছেন যে বেহালা এবং লেক গার্ডেন্সে প্রাবল্য বেশি থাকায় সচেতনতার প্রচার চালানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘কাশীপুর এবং সংলগ্ন এলাকা এই দুই রোগের হটস্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানেও জনস্বাস্থ্য বিশেষ সচেতনতার প্রচারে নামবে।’’ তিনি জানান যে শুক্রবার, যাদবপুর এলাকায় ৯৬ এবং ৯৯ ওয়ার্ডে সচেতনতা বাড়াতে পদযাত্রা হবে। প্রশাসনকে ডেপুটেশনও দেওয়া হবে।

Comments :0

Login to leave a comment