৬ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তর অভিযান করবে ইন্ডিয়া। বুধবার দিল্লিতে ইন্ডিয়ার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বিরোধীদের পক্ষ থেকে বলেন, ‘৬ অক্টোবর ইন্ডিয়া নির্বাচন কমিশনে দপ্তর অভিযান করবে। বিরোধী দল গুলির লোকসভা এবং রাজ্যসবার সব সাংসদরা সেদিন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন। দলীয় নেতৃত্বরাও উপস্থিত থাকবেন।’
এদিন খাড়গে বলেন, বৈঠকে সব দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত জানানো হয়েছে। উদ্ধব থ্যাকারে এবং হেমন্ত সোরেন বৈঠকে থাকতে পারেননি। তারা ভার্চুয়ালি যোগ দেন। এদিনের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
খাড়গে বলেন, কমিশনকে পুতুলের মতো ব্যবহার করছেন মোদী এবং শাহ। ওরাই কমিশনকে দিয়ে ভোট চুরি করিয়ে জয়ী হয়েছে নির্বাচনে। বিজেপি কীভাবে দেশের গণতন্ত্রকে শেষ করছে তা মানুষের কাছে তুলে ধরবেন বিরোধীরা।
এদিন একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বিরোধী মঞ্চের পক্ষ থেকে। জানানো হয়েছে আগামী ২ থেকে ৮ অক্টোবর গোটা দেশ জুড়ে প্রতিটা জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ করবেন বিরোধীরা। বিজেপি বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন ও ব্যাক্তিকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সাথে লোকসভার বিরোধী দলনেতা সহ একটি প্রতিনিধি দল দেখা করবেন। তারা রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেবেন, যেখানে বর্তমানে দেশের সাংবিধানিক সঙ্কট এবং পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে।
এছাড়া দেশের পাঁচটি জায়গায় ভোট চুরির বিরুদ্ধে বড় সমাবেশ ও মিছিল হবে বলেও জানানো হয়েছে সাংবাদিক বৈঠকে। খাড়গের কথায় পাঁচটি জায়গা এবং দিন পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
কংগ্রেস সভাপতি জানিয়েছেন বিরোধীদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করা হবে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত যেই মামলা গুলো রয়েছে তার দ্রুত নিশপত্তি করার।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘যারা দেশের গণতন্ত্রকে শেষ করছে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। বিরোধীরা মনে করছেন তারা কিছু ক্ষেত্রে সফল মানুষকে বোঝাতে যে ভোট চুরি করা হয়েছে।’
ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর কোনও নতুন প্রক্রিয়া নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর ব্যাপক পরিসর এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের জুনে বিহার থেকে শুরু হওয়া এসআইআর পরবর্তীতে দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে এবং খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী এসআইআর এবং ভোটার-তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার নথিভুক্ত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয়। সিপিআই(এম), সিপিআই এবং সিপিআই(এমএল)-লিবারেশন জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলি মানেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসআইআর-সহ কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ কোনও একজন কমিশনার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিযোগকে কমিশন অস্বীকার করেছে। তবে দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠি এবং তার বিষয় নিয়ে প্রতিবেদনে যা বলা হয়েচিল তাকে অস্বীকারও করতে পারেনি।
এসআইআর নিয়ে আইনি বিতর্কও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট বিহারের এসআইআর-এর আইনি বৈধতা বহাল রাখলেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট করে যে ভোটার তালিকা থেকে কোনও ব্যক্তির নাম বাদ পড়ার ভিত্তিতে তাঁকে ভারতীয় নাগরিক নন বলে ঘোষণা করা যায় না।
বিরোধী দলগুলির দাবি, নাম বাদ পড়েছে এমন প্রকৃত ভোটারদের নাম দ্রুত এবং ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে দিতে হবে।
INDIA Alliance
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন অভিযান ইন্ডিয়া’র
×
Comments :0