Herd of elephants at Jalpaiguri village

পাকা ধানের খোঁজে জলপাইগুড়ির লোকালয়ে হাতি

জেলা

জঙ্গলে খাদ্যাভাব, ঘাসের জমি উধাও! ধান পাকতেই লোকালয়ে পাঁচ হাতির দল, আতঙ্ক মন্থনি সরকারপাড়ায়।।

সাতসকালে লোকালয়ে পাঁচটি হাতির দল ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল মন্থনি সরকারপাড়া এলাকায়। ভোরের কুয়াশা কাটতেই মাঠের পাকা ধানের জমিতে খাবারের সন্ধানে হাতির দলকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। আচমকা জনবসতির মধ্যে হাতির উপস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। 
তবে এই ঘটনা শুধুমাত্র হাতির লোকালয়ে ঢুকে পড়ার নয়, বরং বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল ও সংলগ্ন বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর খাদ্য এবং বাসস্থানের সংকট নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। 
বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল ও শিকারপুরের বনাঞ্চল হাতির চলাচলের জন্য পরিচিত। এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বনভূমির একাংশে ক্রমশ চা বাগান, কৃষিজমি এবং বসতবাড়ি গড়ে ওঠায় হাতির স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র ও চলাচলের পথ সংকুচিত হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা। তার সঙ্গে জঙ্গলের ভিতরে হাতির প্রয়োজনীয় খাদ্যের ঘাটতি তৈরি হলে খাবারের সন্ধানে ধানখেত কিংবা লোকালয়ের দিকে চলে আসার প্রবণতা বাড়তে পারে।
ধান পাকলেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বনাঞ্চল সংলগ্ন গ্রামে হাতির হানার আশঙ্কা বাড়ে। কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রমে ফলানো ফসল হাতির খাবারে পরিণত হয়। নষ্ট হয় জমির ফসল, অন্যদিকে মানুষ ও হাতি—উভয়ের জীবনই ঝুঁকির মুখে পড়ে। ফলে এই সংঘাতকে শুধুমাত্র হাতির উপদ্রব হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল কারণ আড়ালেই থেকে যায়।
বনাঞ্চলের যে অংশগুলি সরকারি নথিতে গ্রাসল্যান্ড বা তৃণভূমি হিসেবে চিহ্নিত, সেগুলির বাস্তব অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। হাতির খাদ্য ও বিচরণক্ষেত্রের উপযোগী তৃণভূমি সংরক্ষণ, দেশীয় খাদ্যোপযোগী গাছের নিয়মিত রোপণ এবং পরিচর্যা, জঙ্গলের জলাশয় ও প্রাকৃতিক খাদ্যভাণ্ডার পুনরুদ্ধার করা জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা বলছেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেই গাছের বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বনাঞ্চলের ভিতরে খাদ্য ও আশ্রয়ের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ধারাবাহিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

Comments :0

Login to leave a comment