Maxwell

অতিমানবীয় ম্যাক্সওয়েল

খেলা

অতিমানবিক। বহু ব্যবহারে শব্দটি জীর্ণ বা ক্লীশে। যাই হোক, কিন্তু ফের টেনে আনতে হচ্ছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের জন্য। এদিন তিনি যা করে দেখালেন, যারা চাক্ষুষ করেছেন, শুধু তাঁরাই জানবেন। ম্যাক্সির দানবীয় ব্যাটিংশৈলী! উফফফ... যা জন্ম-জন্মান্তরে ভোলা সম্ভব নয়। তেমনই ক্রিকেট লিখিয়েদের পক্ষে এমন ইনিংস বর্ণনা সম্ভব নয়। সবারই অপার বিস্ময়ে ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। এটুকু বলা যেতে পারে, ২১ টি চার ও ১০ ছক্কায় সাজানো ১২৮ বলে ২০১ রানের ম্যাক্সওয়েলের ম্যাচ জেতানো ইনিংসটা শুধু বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা ইনিংস নয়, একদিনের ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাও বটে। কারণ পরিস্থিতি ছিল ভীষণ কঠিন। তার ওপর ইনিংসের মাঝে পিঠের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হাল ছেড়ে দেননি। এটাই অজি রক্ত। শেষ অবধি, দলকে জিতিয়ে তবে মাঠ ছাড়লেন গ্লেন। ‘ওয়ান্স ইন এ লাইফটাইম’ একটি ইনিংস খেললেন ম্যাক্সি। কেন তাঁকে বলা হয় ‘বিগ শো?  মঙ্গলবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ‘বিগ শো’ নামটি সার্থকতা পেল। এতদিন ভিভ রিচার্ডসের ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে করা ১৭০ বলে ১৮৯ রানের ইনিংসটিকে শ্রেষ্ঠ বলা হতো। এদিন ম্যাক্সি ভিভকেও ছাঁপিয়ে গেলেন। 
এই ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া জিতবে অতিবড় ক্রিকেট প্রেমীও ভাবেননি। সেই ম্যাচ ২০ বল বাকি থাকতে তিন উইকেটে জিতল অস্ট্রেলিয়া। এই কারণে খেলাটা এত সুন্দর। অনিশ্চয়তার। রোমাঞ্চের। এবার পরিস্থিতিটা বর্ণনা করা যাক, অস্ট্রেলিয়া ২৯২ রান তাড়া করতে নেমে ৬২ রানে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে ধুঁকছিল একটা সময়। ডেভিড ওয়ার্নার, ট্র্যাভিস হেড, মিশেল মার্শ, স্টিভ স্মিথদের মতো ম্যাচ উইনার সব প্যাভিলিয়নে। ব্যাটাররা কেউ ম্যাক্সিকে সঙ্গে দিতে পারেননি। দিয়েছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স তাঁর কাজ ছিল শুধু স্ট্রাইক রোটেট করা। তিনি সেটাই করে গেলেন বাকি ম্যাচে। আর ম্যাক্সওয়েল নাভিন উল হক, রশিদ খানদের একাই বুঝে নিলেন। কামিন্স দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন ম্যাক্সিকে।  দু’বার জীবন দান পাওয়ার পর, যা মারলেন, যেভাবে মারলেন সব গিয়ে ঠাঁই পেল বাউন্ডারির বাইরে। আলাদাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করছিলেন তিনি। ‘অবিশ্বাস্য’ লাগছিল তাঁর ব্যাটিং দেখে। ‘জ ড্রপিং’ হিটিংয়ে একের পর এক আফগানিস্তান বোলারদের ধ্বংস করে গেলেন। এই নাভিন, আজমত, রশিদরাই অসি ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলে দিয়েছিলেন। তাঁদেরকেই সাধারণ লাগছিল ম্যাক্সওয়েলের সামনে। প্রায় জিতে গিয়েছিল আফগানিস্তান। মুজিব উর রহমান শর্ট ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে তাঁর ক্যাচটি না ফেললে বেঁচে থাকতো কাঁবুলিওয়ালা দেশের সেমিফাইনালের স্বপ্ন। সমস্ত বিভাগে কার্যত অজিদের পিছনে ফেলে দিয়েছিল আফগানরা। কিন্তু ম্যাক্সির কাছেই হেরে গেল হাসমুতুল্লাই শাহিদ দল। মঙ্গলবার রাতে রশিদরা চোখ বুজলেও দেখতে পাবেন তাঁদের সামনে ব্যাটিং করছেন ম্যাক্সওয়েল।  তাঁর জন্য ইব্রাহিম জাদরানের নজির গড়া শতরানটা দাম পেল না।
ম্যাচ শেষে ম্যাক্সওয়েল বললেন, ‘আমার আরও ভালো ইনিংসটা যদি সুযোগহীন হতো। জীবন দান পেয়ে যে দলকে জেতাতে পেরেছি, তার জন্য গর্বিত মনে হচ্ছে । এই জয় আমাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেবে।’ আফগান অধিনায়ক শাহিদীর কথায়, ‘হতাশ। অবিশ্বাস্য লাগছে আমাদের। ম্যাচটা আমাদেরই নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু একটা ক্যাচ ফেলাই, ম্যাচটা হেরে গেলাম আমরা। ম্যাক্সওয়েল দুরন্ত খেলেছে। একবার সুযোগ দিলেও, পরে আমাদের বোলাররা অনেক চেষ্টা করেছে ম্যাক্সিকে ফেরানোর পারেনি।’ প্রত্যক্ষদর্শী অসি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সংযোজন, ‘হাস্যকার! কিভাবে বর্ননা করবো জানি। তবে এটুকু বলতে পারি শ্রেষ্ঠ জয় আমাদের।’ তাঁর (৬৮ বলে ১২) ইনিংসটা থাকলেও এই জয় সম্ভব ছিল না অসিদের পক্ষে। প্রথম দু’ম্যাচ হারা অস্ট্রেলিয়া জয়ের ডাবল হ্যাটট্রিক করলো। 
সংক্ষিপ্ত স্কোর— আফগানিস্তান ৫০ ওভারে ২৯১/৫ (ইব্রাহিম অপরাঃ ১২৯, রশিদ অপরাঃ ৩৫, হ্যাজেলউড ২/৩৯)
অস্ট্রেলিয়া ৪৬.৪ ওভারে ২৯৩/৭ (ম্যাক্সওয়েল অপরাজিত ২০১, রশিদ ২/৪৪)
 

Comments :0

Login to leave a comment