রাজ্য সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মেদিনীপুরে পথে নামলেন ২০১৬ সালে চাকরি পাওয়া যোগ্যরা। শনিবার সকালে তারা মেদিনীপুর শহর এর কালেক্টরেট চার মাথার মোড় অরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারিদের সরকার এবং এসএসসির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাদের দাবি যারা যোগ্য তাদের চাকরি সরকারকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আন্দোলনকারিরা প্রশ্ন তোলেন এক বছর সময় পাওয়ার পরেও কেন সরকার এবং এসএসসি যোগ্য অযোগ্য ভাগ করতে পারলো না?
যোগ্যদের পাশাপাশি এদিন মেদিনীপুরে পথে নামে এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআই কর্মীরা। মিছিল করে তারা মেদিনীপুর শহরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অবরোধ করেন।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০১৬ সালে এসএসসির প্যানেল বাতিল হয়েছে। ২৫,৫৭২ জন শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মী তাদের কাজ হারিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলেছে এই এসএসসি দুর্নীতি মামলা। চাকরি প্রার্থীদের হয়ে প্রথম মামলা লড়েন সিপিআই(এম) সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। সেই মামলার জেরে সামনে আসতে থাকে একের এক দুর্নীতি এসএসসি নিয়োগ নিয়ে। এই মামলায় আদালত এসএসসিকে নির্দেশ দিয়েছিল যোগ্য এবং অযোগ্যদের তালিকা জমা দিতে। কিন্তু সেই তালিকা জমা দেওয়া হয়নি। উল্টে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ওএমআর শিট। শিক্ষা আন্দোলনের সব অংশ যোগ্য এবং অযোগ্য কারা, তা বাছাই করে রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার দাবি তুলেছিল। যাতে যোগ্যদের চাকরি না যায়। সেই সময় নীরব থেকেছে সরকার। সেই তালিকা যদি আদালতের কাছে জমা পড়ত তবে এদিন যোগ্য চাকরি প্রার্থীদের চাকরি যেত না।
এই গোটা দুর্নীতির দায় নিজের দিক থেকে ঝেড়ে ফেলার সব রকম চেষ্টা করেছেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি দাবি করেছেন এসএসসি’র কোনও কাজে সরকার নাকি নাক গলায় না। অথচ এই দুর্নীতিকে ঢাকা দিতে সুপার নিউমেরিক্যাল পোস্টের অনুমোদন দিয়েছিল রাজ্য মন্ত্রিসভা, যার মাথায় মমতা। প্রশ্ন এখানেই, দুর্নীতির দায় মেনে নিয়েই তো সরকার সেই সময় এই পদ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা’হলে আজ কেন উলটো কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?
Comments :0