Iran India Agriculture

ইরান-মার্কিন যুদ্ধে সঙ্কটে ভারতীয় কৃষি

সম্পাদকীয় বিভাগ

দেবাশিস মিথিয়া

ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ইতিহাসে ২০২৬ সালের শুরুটা এক বিতর্কিত অধ্যায় হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ২৭ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং তার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই, ২ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক সমঝোতা দেশের সংরক্ষিত বাজার ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘ দু’দশকের আলাপ-আলোচনা আর সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে চূড়ান্ত হওয়া এই দুই বাণিজ্য চুক্তির মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গ, আর আমেরিকার সাথে সমঝোতাটি মূলত একটি আংশিক চুক্তি, যাকে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ‘ট্রায়াল রান’ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের মতো কৃষিপ্রধান দেশে, যেখানে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ জীবনধারণের জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই বাণিজ্য চুক্তিগুলোর  প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক অঙ্কের মধ্যে আটকে থাকবে না ;  এর  সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। যদিও ভারত সরকার এই সব চুক্তিকে রপ্তানি বৃদ্ধির সুবর্ণ সুযোগ হিসাবে প্রচার করছে। ইইউ’র প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যে শুল্ক হ্রাস এবং আমেরিকার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিসংখ্যানকেই সরকার সাফল্যের খতিয়ান হিসাবে তুলে ধরছে। অথচ, এই চুক্তির ফলে আমেরিকার দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি এবং জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) পশুখাদ্যের অনুপ্রবেশ  এখন ভারতীয় কৃষকদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তির পরতে পরতে রয়েছে অস্বচ্ছতা। চুক্তির সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হতেই দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এই আন্দোলনের অগ্রভাগে রয়েছে ‘ফোরাম ফর ট্রেড জাস্টিস’। এটি মূলত ভারতের কৃষক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবেশবাদী গোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজকর্মীদের একটি শক্তিশালী জোট। এই ফোরাম দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে এবং সাধারণ  মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ‘ওয়াচডগ’ হিসাবে কাজ করে চলেছে। 'ফোরামের' আশঙ্কা— শুল্ক ছাড়ের মোহে ভারত সরকার কৃষি, উৎপাদন ও পরিষেবার মতো সংবেদনশীল খাতগুলোকে ইউরোপ-আমেরিকার জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছে, যা ভারতের নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতাকে দারুণভাবে সঙ্কুচিত করতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক চুক্তিতে কৃষি ও দুগ্ধ খাতের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে চুক্তি প্রসঙ্গে  ভারত সরকারের দাবি— তারা ধান, গম এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মতো অতি-সংবেদনশীল খাতগুলোকে শুল্ক হ্রাসের আওতামুক্ত রেখে দেশীয় প্রান্তিক চাষিদের জন্য একটি ‘সুরক্ষা কবচ’ তৈরি করেছে। এর বিনিময়ে ভারত, ইউরোপীয় ওয়াইন, স্পিরিট, বিয়ার, পাস্তা এবং মিষ্টির ওপর থেকে আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে রাজি হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তির প্রকৃতি অনেক বেশি বাজার-মুখী। এই চুক্তিতে তুলা, সয়াবিন তেল, ডাল এবং বিভিন্ন ফলের (আপেল, বাদাম, আখরোট) ওপর থেকে শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, জেনেটিক্যালি মডিফায়েড মার্কিন পশুখাদ্যের জন্য ভারত ইতিমধ্যেই তার বাজার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। সরাসরি দুধ আমদানিতে কড়াকড়ি থাকলেও হুই প্রোটিন বা ল্যাকটোজের মতো নির্দিষ্ট পণ্যে নমনীয়তার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নির্দিষ্ট কিছু দুগ্ধজাত পণ্যের (যেমন: হুই প্রোটিন বা ল্যাকটোজ) আড়ালে যদি সস্তা মার্কিন মিল্ক পাউডার বা মাখন ভারতীয় বাজারে ঢুকে পড়ে, তবে আমুলের  মতো শক্তিশালী সমবায় আন্দোলনগুলো ধসে যাবে এবং দুগ্ধ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত  ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
দুগ্ধ খাতের ক্ষেত্রে অন্য এক বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়েছে। মার্কিন খামারে দুধের উৎপাদন বাড়াতে গবাদি পশুকে আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয়। বিষয়টি ভারতের সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবাবেগের একদম বিরোধী। তাই ভারত সরকার নিরামিষাশি গোরুর দুধের শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করার শর্ত দিলেও আমেরিকা একে ‘অবৈজ্ঞানিক বাধা’ হিসাবে চিহ্নিত করে তা সরানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। 
দুগ্ধ খাতের এই ধর্মীয় বিতর্কের মধ্যেই  পশুখাদ্য আমদানির অর্থনৈতিক দিকটিও বেশ উদ্বেগজনক। সরকারের মনে করছে, সস্তা দামে জিএম পশুখাদ্য আমদানি করলে পোল্ট্রি ও দুগ্ধ উৎপাদন খরচ কমবে। তবে ‘ফোরাম ফর ট্রেড জাস্টিস’ এই যুক্তির  প্রতিবাদ করে বলছে, এই সাময়িক সুবিধা আসলে ভারতের কোটি কোটি ভুট্টা ও সয়াবিন চাষিদের দীর্ঘমেয়াদি ধ্বংসের নামান্তর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ভরতুকি প্রাপ্ত কৃষিপণ্যের সাথে ভারতের ক্ষুদ্র চাষিরা অসম প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।  তুলা ও সয়াবিন তেলের ওপর শুল্ক কমানোর ফলে দেশীয় চাষিরা তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন । বিশেষ করে মহারাষ্ট্র ও মধ্য প্রদেশের সয়াবিন চাষিরা—  যাঁরা দীর্ঘকাল ধরে ‘অভাবী বিক্রির’ শিকার।
বিশ্ব বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলো  ‘অশুল্ক বাধা’ (নন-টারিফব্যারিয়ার)-কে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। দেশগুলোও একদিকে শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে অন্যদিকে  অত্যন্ত কঠোর “বিজ্ঞান-ভিত্তিক মানদণ্ড” আরোপ করে রাপ্তানিকারক দেশগুলোর রপ্তানির পথে নতুন দেওয়াল তুলে দিচ্ছে। সহজেই অনুমান করা যায়,  ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ সংক্রান্ত জটিল নিয়মাবলী’ ভারতীয়র প্তানিকারকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
এই নিয়ম অনুযায়ী চাষের প্রতিটি ধাপে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের মাত্রা  অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা হয়। যা মেনে চলা ভারতের  সাধারণ ক্ষুদ্র চাষিদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কারণ, ভারতের কোটি কোটি প্রান্তিক চাষি, আজও মান্ধাতা আমলের পদ্ধতিতে চাষ করেন, তাঁদের পক্ষে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি সার্টিফিকেশন জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব । ফলে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা কাগজে-কলমে থাকলেও,  এই ‘অশুল্কবাধা’র কারণে ভারতীয় কৃষিপণ্য রপ্তানি অযোগ্য বলে বাতিল হতে পারে। এই নতুন বাণিজ্যিক সমীকরণ দেশের কৃষিতে কর্পোরেট দাপট বাড়ার  আশঙ্কাকে উসকে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে  সাধারণ কৃষকরা সরাসরি লাভের বদলে বড় বড় এগ্রি-বিজনেস সংস্থাগুলোর দয়া বা চুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। সরকার যদি কৃষকদের বিশ্ববাজারের উপযোগী না করে কেবল ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ নীতিতে বাজার খুলে দেয়, তবে তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে সঙ্কট তৈরি করবে। 
আরেকটি বড় বিষয় হলো বীজের অধিকার হরণ। ২০২৬ সালের বাণিজ্য চুক্তি দুটো  কৃষকদের বীজ সংরক্ষণের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চলেছে, যা ভারতীয় কৃষির হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য।  আশঙ্কা - এই বাণিজ্যিক চুক্তির অংশ হিসাবে ভারতকে UPOV 1991-এর মতো অত্যন্ত কঠোর আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দিতে বাধ্য করা হবে, যেখানে কৃষকের নিজস্ব বীজ ব্যবহারের অধিকার নেই। এর ফলে কৃষকরা বীজের জন্য বহুজাতিক কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন এবং ভারতের চিরন্তন কৃষি সংস্কৃতি ও বীজের সার্বভৌমত্ব চিরতরে বিলুপ্ত হবে।
এই বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো যখন চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ইরান-আমেরিকা সংঘাত বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট আমূল বদলে দিয়েছে। এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব ভারতের কৃষি-বাণিজ্য ও প্রান্তিক কৃষকদের জীবনে পড়তে বাধ্য। প্রথমত, লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের বিমা খরচ ও কন্টেইনার ভাড়া আকাশচুম্বী হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্ক হ্রাসের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতের মশলা, ফল বা সামুদ্রিক খাবার রপ্তানিকারকদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, আকাশছোঁয়া পরিবহণ ব্যয়ের ধাক্কায় সেই মুনাফার অঙ্ক এখন কার্যত অর্থহীন। একদিকে ইউরোপের কঠোর স্বাস্থ্যবিধি, অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে আকাশছোঁয়া পরিবহণ খরচ— এই দুইয়ের চাপে বিশ্ববাজারে ভারতীয় কৃষিপণ্যের রপ্তানির ভবিষ্যৎ এখন  অনিশ্চিত। দ্বিতীয়ত, এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভারত যদি রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি তেলের নিশ্চিত উৎস ছেড়ে চড়া দামে আমেরিকান তেল ও গ্যাস আমদানির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বাধ্য হয়, তবে তার সরাসরি কোপ পড়বে কৃষকদের ওপর। জ্বালানির দাম বাড়লে সেচ, ট্রাক্টর এবং পণ্য পরিবহণের খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্কট সারের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে ডিএপি বা ইউরিয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় সারের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। একদিকে সরকার মার্কিন সয়াবিন বা ডাল আমদানির রাস্তা খুলে দিয়ে দেশীয় ফসলের বাজার দর কমিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে চাষের খরচ বাড়ছে— যা  কৃষকদের ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটে ফেলেছে।
এই সঙ্কটের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয় যখন আমরা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই)-এর পর্যবেক্ষণগুলো দেখি। তাদের মতে, ২০২৬ সালের ভারত-আমেরিকার মধ্যে আংশিক বাণিজ্য চুক্তিটি অত্যন্ত ভারসাম্যহীন এবং অস্বচ্ছ। চুক্তির যৌথ বিবৃতিতে সয়াবিন তেল বা ফলের মতো নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের পাশাপাশি “অতিরিক্ত আরও কিছু কৃষি পণ্যের” ওপর শুল্ক কমানোর কথা থাকলেও সেই তালিকায় আর কী কী পণ্য রয়েছে, তা বিস্তারিত জানান হয়নি। জিটিআরআই আরও উল্লেখ করেছে - আমেরিকা গত বছর ভারতের ওপর যে অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক চাপিয়েছিল, তা সরিয়ে কেবল স্বাভাবিক হারে (১৮%) ফিরে আসার বিনিময়ে ভারতের বাজারের স্থায়ী বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। অর্থাৎ একটি অন্যায্য শুল্ক প্রত্যাহারের বদলে ভারত তার নিজস্ব কৃষি বাজারের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছে।
অনেক অর্থনীতিবি বলছেন, এই বাণিজ্যিক বিচ্যুতি আসলে ‘নব্য-উপনিবেশবাদ’-এরই এক আধুনিক সংস্করণ। ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে ‘অর্থনৈতিক নীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা’ -র মতো যেসব ধোঁয়াশাপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা অদূর ভবিষ্যতে ভারতকে মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের লেজুড় করার স্পষ্ট ইঙ্গিত। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা চাইবে ভারত যেন তাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে নিঃশর্ত সমর্থন দেয়। ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো অতীতে এই ধরনের শর্তযুক্ত চুক্তিতে জড়িয়ে নিজেদের নীতিগত স্বাধীনতা হারিয়েছে— ভারতের সামনেও এখন সেই একই অন্ধকার ভবিষ্যৎ। এই বিশাল ও জটিল চুক্তির মূল খসড়া এখনো জনসমক্ষে না এনে গোপন রাখা কেবল গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার পরিপন্থীই নয়, বস্তুত এটি ভারতের নীতিনির্ধারণের সার্বভৌমত্বকে সঙ্কুচিত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
পরিশেষে বলা যায় কৃষি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মানে কেবল আমদানি-রপ্তানির পরিসংখ্যান বা ডলারের হিসাব নয়; এটি কোটি কোটি কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনি আর বেঁচে থাকার লড়াই। ভারতের মতো জনবহুল ও বৈচিত্রময় দেশে বাণিজ্যনীতি হওয়া উচিত অন্তর্ভুক্তিমূলক, যাতে উন্নয়নের সুফল কর্পোরেটদের বদলে সরাসরি প্রান্তিক কৃষকের দরজায় পৌঁছে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শুধু কেনাবেচা নয়, বরং এটি দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

Comments :0

Login to leave a comment