ক্ষমতায় আসার পাঁচ দিনের মধ্যেই গোহত্যায় লাগাম পরাতে নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
এবার থেকে পশুবলি দিতে হলে সেই ব্যক্তিকে আগাম শংসাপত্র জোগাড় করতে হবে। বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও পশুকে বলি দেওয়ার আগে শহরে পৌরসভার চেয়ারম্যান ও গ্রামীণ এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির সঙ্গে একজন পশু চিকিৎসকের কাছ থেকে শংসাপত্র আদায় করতে হবে। সেই শংসাপত্রে চেয়ারম্যান কিংবা সভাপতির সঙ্গে পশু চিকিৎসক পশুটি বলির জন্য উপযুক্ত বললে তবেই মিলবে অনুমতি।
শহরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বুধবারই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গেছে, কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুরের মতো চিহ্নিত এলাকা। তারপরই এদিনই নবান্ন থেকে জারি হয়েছে পশুবলি নিয়ে সরকারি নির্দেশিকা। যত দিন যাচ্ছে দ্রুত যোগী আদিত্যনাথের হিন্দুত্বের মডেল চালু করার দিকে কি হাঁটছে রাজ্য সরকার?
বলির ছাড়পত্র কিভাবে মিলবে?
সরকারের বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়েছে, ‘‘বলির জন্য আনা পশুর বয়স ১৪ বছর পার হওয়ার পর তা প্রজনন ও কাজ করার ক্ষেত্রে অক্ষম হতে হবে। একইসঙ্গে পশুটি বার্ধক্য, আঘাত কিংবা অন্য কোন রোগের কারণে অক্ষম হয়ে পড়েছে জানলে তবেই মিলবে হত্যার অনুমতি। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও পৌরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ সম্মতির ভিত্তিতেই দেওয়া হবে বলির শংসাপত্র।
পশু বলির তালিকায় রাখা হয়েছে, গোরু, ষাঁড়, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মোষ। সরকারের কাছ থেকে শংসাপত্র জোগাড় করে তারপর বলি দেওয়া কার্যত দুরুহ কাজ। কিন্তু এখন পশ্চিমবঙ্গ পশুহত্যা আইন, ১৯৫০’কে ব্যবহার করে কড়া ভূমিকা নিতে চলেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই নানাভাবে গোহত্যা বন্ধ করা নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা মন্তব্য পরিকল্পনা করে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন নির্দেশিকা জারি করে সরকার গোহত্যা নিয়ে ময়দানে নেমে পড়ল। সরকারি নির্দেশিকায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শংসাপত্র ছাড়া গোহত্যা হলে কিংবা নির্দেশিকা অমান্য হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। আইন না মানলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা ও ১ বছরের জেলে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
চলতি মাসের শেষে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উৎসব। পশুবলি দেওয়ার সেই উৎসবের আগেই সরকারের এই নির্দেশিকা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্য সরকার খুব সচেতনভাবে স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে দিয়ে বাংলায় এই নির্দেশিকা এদিন জারি করেছে। নির্দেশ জারি প্রকাশ্যে আসার পরই তা হু হু করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সমাজমাধ্যমে। উদ্দেশ্য একটাই, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বকরি ঈদ পালনের আগেই জনমানসে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া যায়। এমনকি, শংসাপত্র পাওয়ার পরও পৌরসভার অধীন কসাইখানায় জবাই করতে হবে। গ্রামের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের ঠিক করে দেওয়া এলাকার মধ্যেই জবাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকাতে সরকারের ঠিক করে দেওয়া বলি দেওয়া এলাকায় প্রবেশ করতে কোনও বাধা দেওয়া হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এরাজ্যে বকরি ঈদের আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের গরিব যুবক গোরু, মোষ নিয়ে দূরদূরান্তের জেলা থেকে হাটে বিক্রি করতে আসেন। এখন তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব বর্ধমান জেলায় গত দু’দিনে বর্ধমান থানার পুলিশ গোরু নিয়ে আসার সময় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ২৭টি গোরু আটক করে। এদিনও ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে ৫ টি গোরু উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত সোমবার ২২ টি গোরু আটক করেছিল পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ৫ টি গোরু নিয়ে তেলিপুকুরের দিক থেকে আসছিল লাল ও করিম। তাদের দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তাদের আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গোরুর মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ কোনও কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি বলে পুলিশের দাবি। ঘটনার বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের বুধবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতদের পাঁচদিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃত দু’জনকে তিনদিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম।
Cow Killing Bengal
পশু হত্যা নিয়ে রাজ্যে জারি নয়া নির্দেশিকা
×
Comments :0