NTA

অযোগ্যতা ফের প্রমাণ হলো

সম্পাদকীয় বিভাগ

মোদী সরকারের তৈরি এনটিএ (ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি) আরও একবার প্রমাণ করে দিল স্বচ্ছভাবে সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা গ্রহণ করার যোগ্যতা বা দক্ষতা নেই। অনেক ঢাকঢোল বাজিয়ে ‘এক দেশ এক পরীক্ষা’ নীতি ঘোষণা করে মোদী সরকার রাজ্যে রাজ্যে স্বতন্ত্র মেডিক্যাতল প্রবেশিকা পরীক্ষার ব্যবস্থা তুলে দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। তার জন্য নতুন করে তৈরি করা হয় এনটিএ। এটি বেসরকারি সংস্থা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত এবং কার্যত নিয়ন্ত্রিত। অনেকটা পিএম কেয়ারের মতো। সরকারি নয় বকলমে চালায় সরকার। এই এনটিএ’র হাতেই তুলে দেওয়া হয় যাবতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার দায়িত্ব।
প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আজ পর্যন্ত একটি পরীক্ষাও স্বচ্ছতার সঙ্গে গ্রহণ করে ছাত্র-ছাত্রী তথা পড়ুয়াদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি। প্রতি বছরই এক বা একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে সেই সব অভিযোগের সত্যতার প্রমাণও মিলেছে। আগে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেবার পর কখনো পরীক্ষা বাতিল হয়েছে আবার কখনো কেলেঙ্কারিকে মান্যতা দিয়ে পড়ুয়াদের প্রতি অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশ জুড়ে শোরগোল হলেও প্রতিবাদ-বি‍‌ক্ষোভের ঝড় বইলেও প্রধানমন্ত্রী যথারীতি নীরব ও অবিচল। তার কাছে বিষয়টির যেন কোনও গুরুত্বই নেই। লক্ষ লক্ষ ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ, তাদের স্বপ্ন নিয়ে এমন ছেলেখেলা সত্যিই ভাবা যায় না।
আগে সব রাজেই রাজ্য ভিত্তিক মেডিক্যাভল প্রবেশিকা হতো। তাতে কখনো কোনও একটি রাজ্যে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও দু’-এক লক্ষ পরীক্ষার্থী তার শিকার হতো। এখন রাজ্যের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে অতি কেন্দ্রীকরণের ফলে দেশের সব পরীক্ষার্থী তার শিকার হচ্ছে। বিকেন্দ্রীকৃত যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে বাতিল করে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের হিন্দুত্ববাদী নেশাই এই বিপদ ডেকে এনেছে। তাছাড়া আগে পরীক্ষা ব্যবস্থা সরকারি সংস্থা পরিচালনা করতো। মোদীরা সেটা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিয়ে পেছন থেকে বকলমে নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, প্রশ্ন ফাঁসের মতো কেলেঙ্কারি হলেও সরকার গা বাঁচাবার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে একযোগে পরীক্ষার ব্যবস্থা হবার ফলে সফল হবার জন্য কোচিংয়ের চাহিদা বেড়েছে। সেখানে বিপুল টাকার বিনিময়ে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে বহু পরিবার সর্বস্ব খরচ করছেন। এই কোচিং ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ক্ষমতাসীন রাজনীতিক, আমলারাও। তাতে প্রশ্ন ফাঁস করার রাস্তা সহজ হয়েছে। আর এই কোচিং মাফিয়া চক্রের রমরমা প্রধানত বিজেপি শাসিত রাজস্থান। সেখান থেকে গুজরাট, বিহার, মহারাষ্ট্র হয়ে জাল বিস্তার করে সারা দেশে।
এবার কোচিং মাফিয়ারা গ্রেস পেপার হিসাবে যেটা বাজারে ছেড়ে সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকায় এক একটি কপি বিক্রি করেছে তাতে মোট ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৬০০ নম্বর পাবার প্রশ্ন ছিল। এটা ছড়িয়েছে রাজস্থান থেকেই। প্রশ্ন ফাঁস করে ঠিক কত হাজার কোটি কামিয়েছে মাফিয়া এবং তাদের আমলা-রাজনীতিক সহযোগীরা তা হয়তো কোনোদিনও জানা যাবে না। তবে প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাদের পরিবার পরিজনের স্বপ্ন ভঙ্গের জবাব তো মোদী সরকারকে দিতে হবে। নিজেদের অযোগ্যতা ও অপদার্থতা স্বীকার করে এখন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা বন্ধ করে রাজ্যের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া দরকার। ক্ষমতা কেন্দ্রীভবনের নেশার বলি কিছুতেই সাধারণ পড়ুয়ারা হতে পারে না।

Comments :0

Login to leave a comment