ফের রাজ্যে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ। এবার গাইঘাটা থানা এলাকায়। শনিবার রাতে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল গাইঘাটা এলাকায়। রবিবার সকাকে ১৭ বয়সী ওই ছাত্রীর বিবস্ত্র ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে বনগাঁ হাসপাতালে পাঠিয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। এলাকায় রয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূ্রে জানা গেছে গাইঘাটা থানার রামচন্দ্রপুর এলাকায় শনিবার রাতে দূর্গাপুজা উপলক্ষে বিচিত্রা অনুষ্টান চলছিল। অভিযোগ ওই ছাত্রীকে ফোন করে অনুষ্ঠানে আসতে বলে অভিযুক্তরা। তারপর পাশেই একটি বাড়ির বাথরুম এবং রান্না ঘরের মাঝে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ধর্ষণের পর প্রমান লোপাট করেতে ওই ছাত্রীকে খুন করে ইট দিয়ে মুখ থেঁতলে দেয় বলে অভিযোগ। রবিবার সকালে ওই বাড়ির এক মহিলা ঘুম থেকে উঠে ওই ছাত্রীর বিবস্ত্র ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ দেখতে পায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে প্রহ্লাদ দাস নামে এক জনকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতের রামচন্দ্রপুর বাজারে একটি সেলুন রয়েছে। প্রাথমিক অনুমান ধলবেঁধে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই ছাত্রকে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ওই তরুনী। বাড়ি গোপালনগর থানা এলাকায়। পরাশোনার কারণে সে মামার বাড়িতেই থাকতো। মৃতের পরিবারের অভিযোগ রাতে ফোন পেয়ে অনুষ্ঠান দেখেতে চলে যায়। তারপর আর কোনও খোঁজ মেলেনি। এদিন সকালে এক প্রতিবেশীর ঘরের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় ছাত্রীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতা স্বপন ঘোষ জানালেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবের বিস্তর অমিল। এই ধর্ষণের ঘটনা বিজেপি প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রমাণ করছে। একটি দিনও বাদ যাচ্ছে না যে কোথাও না কোথাও নারী নির্যাতনের খবর হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষণ-খুন-নারী নির্যাতন রুখতে ব্যর্থ। তাই ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’ বলে হুঙ্কার দিয়ে নেমেছিলেন সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে। তিনি আইনের শাসনের বদলে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মতোই এনকাউন্টারের পথে হাঁটার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তৃণমূলের আমলে আমরা দেখেছি। এখন সেই একই ঘটনা ঘটছে। ফলে মেয়েদের অবস্থা দুঃসহ হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। দলবদ্ধভাবে যদি এর প্রতিরোধ না করা যায় তাহলে আগামী দিনে বিপদ আরও ভয়ঙ্কর হবে।
বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মতো এরাজ্যেও একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে। একেরপর এক ধর্ষণ, যৌন হেনস্তা ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ছলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার আগে জোর গলায় বলেছিলেন ‘জিরো টলারেন্স’। ‘জিরো টলারেন্স’। তিনি ‘ধর্ষণ’ শব্দটাই বাংলা থেকে তুলে দেবেন বলে ভোটের আগে হুঙ্কার দিয়েছিলেন। আর কার্যক্ষেত্রে তাঁর সরকারের মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসে ধর্ষণ থেকে নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্তার ঘটনা দিনদিন বেড়ে চলেছে। মানুষের জীবন যাত্রায় আক্রমণ নেমে আসছে। এই ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার প্রতিবাদে নামবো।
Gaighata Rape - Murder
ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ গাইঘাটায়
×
Comments :0