CPIM Book Stall Attacks

পরপর হামলা হামলা রুখে ভান্ডানি মেলায় চালু বুক স্টল

জেলা

ধূপগুড়ির ঐতিহ্যবাহী ভান্ডানি মেলায় প্রগতিশীল বইয়ের স্টলে পরপর দু’বার হামলা। সিপিআই(এম) কর্মীদের পাশাপাশি মেলায় আসা সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে প্রথমবার হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফের হামলা চালিয়ে স্টলটি ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ ও রাজনৈতিক মহল সরব হয়েছেন। শনিবার মেলা সংলগ্ন ভান্ডানি পার্টি অফিসে ফের পূর্ণাঙ্গ বুক স্টল চালু করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভান্ডানি মেলায় দীর্ঘদিন ধরেই মেলা কমিটির অনুমতি নিয়ে প্রগতিশীল সাহিত্য ও বইয়ের প্রদর্শনী এবং বিক্রির স্টল বসানো হয়। এবারও সেই নিয়ম মেনেই স্টল তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কৃষ্ণা রায়ের নেতৃত্বে বিজেপি - আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী স্টলে হামলা চালায়। স্টল ভাঙচুর, বইপত্র তছনছ করার পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত মহিলা কর্মীদের উপর চড়াও হওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার আকস্মিকতায় মেলায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সিপিআই(এম) কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা সরে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু অভিযোগ, গভীর রাতে ফের হামলা চালিয়ে স্টলটি ভেঙে দেওয়া হয়। পরপর এই হামলার ঘটনায় মেলা প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়ায়।
মেলা কমিটির উদ্যোক্তারাও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য,নিয়ম মেনে অনুমতি নিয়ে তৈরি একটি সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল বইয়ের স্টলে হামলা মেলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য,শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশের পরিপন্থী।
শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণে ফের বুক স্টল চালুর জন্য জায়গা পাওয়া নিয়ে প্রশাসন ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে টালবাহানা করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর উদ্যোক্তারা শনিবার মেলা সংলগ্ন ভান্ডানি পার্টি অফিসে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ বুক স্টল চালু করেন। সেখানে পার্টি কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ বইপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্টলটি যাতে ফের আক্রান্ত না হয়, সে জন্য পাহারার কাজেও এগিয়ে আসেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
সিপিআই(এম) ধূপগুড়ি পশ্চিম এরিয়া কমিটির সদস্য নিরঞ্জন রায় বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে মেলা কমিটির সমস্ত নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রগতিশীল চিন্তা ছড়িয়ে দিতে আমরা এই সাহিত্য ও বইয়ের স্টল করে আসছি। রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রগতিশীল চিন্তার প্রসারকে ভয় পেয়েই এই পরিকল্পিত আক্রমণ। উপপ্রধান কৃষ্ণা রায়ের নেতৃত্বেই স্টল ভাঙার ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে আমাদের অভিযোগ। সাধারণ মানুষ যেভাবে পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, তাতে হামলাকারীদের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।”
উৎসবের মরশুমে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থী ও প্রগতিশীল বইয়ের স্টলে হামলার অভিযোগের মধ্যেই ভান্ডানি মেলার এই ঘটনা নতুন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিসরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রগতিশীল সাহিত্য ও বইয়ের স্টল চালু রাখার পক্ষে সরব হয়েছেন এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।

Comments :0

Login to leave a comment