বুক স্টলের উপর আক্রমণ যত বেড়েছে ততই বেড়েছে বুকস্টলের সংখ্যা। সাধারণ মানুষ ওদের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়েছেন বই কিনে। ফলত, বৃদ্ধি পেয়েছে বই বিক্রি।
শুক্রবার এমনটাই বললেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।
সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বামবধের আওয়াজ তুলে বই বধের ব্যবস্থা করে আসলে মানুষ বধের কাজ করেছে। যখন মানুষ দেখেছে বইয়ের স্টলে হামলা হয়েছে তখন তারা প্রতিবাদ করেছে , প্রতিরোধ করেছে। ফলত, যারা বই কেনেন তাঁরা ছাড়াও বহু নতুন মানুষ ও বই কিনেছেন। তাই বই বিক্রি বেড়েছে। এখনও সব হিসেব আসেনি। গত বছরের তুলনায় এ বছর শ-খানেক বই স্টলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ১ হাজার বুকস্টল হয়েছে রাজ্যে। আর ২৯২ টি বুকস্টলে হামলা হয়েছে।
চক্রবর্তীর প্রশ্ন, এর আগে ভু-ভারতে কখনো কি এমন ঘটনা ঘটেছে? মানুষ প্রতিরোধ গড়েছেন। ১২- ১৩ টা বুকস্টল হয়তো বন্ধ করতে পেরেছে। বাকি সব জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বুকস্টল ভেঙেছে, রাস্তায় বসে বই বিক্রি করেছে। ঝোলায় করে পাড়ায় গিয়ে বই বিক্রি করেছেন সিপিআই(এম) কর্মীরা।
তিনি জানান যে আগের বারের তুলনায় এবারের বই বিক্রির সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর ৮০ লক্ষ টাকার কিছু বেশি বই বিক্রি হয়েছিল। এবার বই বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লক্ষেরও কিছু বেশি। ৬২ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে।
চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এখনও সব জেলার তথ্য আসেনি। চূড়ান্ত হিসেব পেলে বিক্রির আঙ্ক আরও বাড়বে।’’
তিনি জানান অন্যান্য বার শুধু যাদবপুরেই ৬ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়। এবার সেই সংখ্যা ১৬ লক্ষের ও কিছু বেশি দাঁড়িয়েছে। কলেজ স্ট্রিটে ৬০-৭০ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়। এ বছর তা বেড়ে ২ লক্ষেরও কিছু বেশি হয়েছে। শিলিগুড়িতেও প্রায় ৩ গুন বেশি বই বিক্রি হয়েছে। কোন্নগর, বারুইপুরে ও বিক্রি বেড়েছে।
চক্রবর্তী বলেছেন, ‘‘যারা ‘বাম বধ’ আর ‘বই বধ’ করতে চেয়েছিল তাদের হিটলারের শেষ জীবনের পরিণতি মনে রাখতে হবে।’’
Bookstall Sujan Chkraborty
প্রতিরোধ বই কিনেও, বুক স্টলে বিক্রি লাফিয়ে বেড়ে দেড় কোটির কাছে
×
Comments :0