Hunger Index

বাংলাদেশেরও পেছনে

সম্পাদকীয় বিভাগ

স্বঘোষিত বিশ্বগুরুর নেতৃত্বে বিকশিত ভারতে উত্তরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ভারত ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে’ ১২২টি দেশের মধ্যে শততম স্থান অর্জন করেছে। এই বিপুল নজিরবিহীন সাফল্যের জন্য ভক্তগণ আনন্দে উদ্বাহু নৃত্য করতে পারেন। তবে তার আগে মাথায় রাখতে হবে ইউরোপ, আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা তো দূরের কথা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে বিশ্বগুরুর ভারত অনেকটা পিছিয়ে। একমাত্র সান্ত্বনা এক্ষেত্রে পাকিস্থান ও আফগানিস্তান থেকে যৎকিঞ্চিত এগিয়ে আছে। এর জন্য অবশ্য ভক্তরা গর্ব করতেই পারে। অবশ্য এটা ভেবে মাথা নিচু হয়ে যেতে পারে যে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমার কিন্তু ভারতকে পেছনে ফেলে অনেকটা এগিয়ে গেছে। এমন লজ্জাজনক ব্যর্থতার জন্য অবশ্য এখনও কেউ নেহরুকে দায়ী করেনি। বলা যায় না, দু’দিন বাদে কেউ হয়তো বলে বসবেন নেহরু ঠিকঠাক কাজ করেননি বলেই আজ ভারতের এই হাল।
তাহলে ১৫ বছর ধরে মোদী সরকার কোন ঘোড়ার ঘাস কাটল যে দারিদ্র ও অপুষ্টি হ্রাসে বাংলাদেশের সঙ্গেও পাল্লা দিতে পারছে না। এদিকে ভাষণে, রিপোর্টে তো সাফল্যের সীমা পরিসীমা নেই। বিশ্বের সবথেকে উচ্চ হারে নাকি ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি ঘটছে। ভারত নাকি পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হয়ে যাচ্ছে। খুন শীঘ্রই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে যাবে। মোদীর নেতৃত্বে ভারত নাকি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বিশ্বের যে কোনও দেশ ভারতকে সমীহ করে। আসলে এই সরকার প্রবল প্রত্যাশা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগায়। কিন্তু কাজে অষ্টরম্ভা। আজ একটা কথা বলে তো কাল অন্য কথা বলে পুরানোটা ভুলিয়ে দেয়। তবে খাতায় কলমে তথ্যের কারসাজি করে এবং সমীক্ষার পদ্ধতি অদলবদল করে সাফল্য দেখাতে কার্পণ্য করে না।
আর্থিক বৃদ্ধির পরিমাণ এবং হার জিডিপি’র মাধ্যমে দেখানো হয়। উচ্চবৃদ্ধির হার শুনতে ভালোই লাগে। কিন্তু তাতে আমজনতার কোনও লাভ হয় না। তাদের আয় বাড়ে না। জিনিসপত্রের দাম বাড়ে না। পরিবারের বেকার সদস্যদের কাজ জোটে না। জিডিপি বৃদ্ধির হার বা পরিমাণ সরকারের নম্বর বাড়ার জন্য জরুরি ঠিকই কিন্তু সেটা সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে কাজে লাগে না।
তার অর্থ এই নয় যে দেশে কোনও উন্নতিই হচ্ছে না বা সম্পদ তৈরি হচ্ছে না। যেটুকু হচ্ছে সেটা অসম বণ্টনের ফলে বিত্তবানদের ঘরে পুঞ্জিভূত হচ্ছে। তাই তথ্য পরিসংখ্যানে দারিদ্র দূর হলেও বাস্তবে থেকে যায় ক্ষুধা, অপুষ্টি। মোদী সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দেশে কোটিপতি ও শতকোটিপতির সংখ্যা বাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে অনেক উন্নত দেশকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের রুজি রোজগারের ব্যবস্থায়, জীবন-জীবিকার মান উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে অনুন্নত দেশের পেছনে। এই সরকার আসলে বড়লোকের সরকার। এই সরকার তেমন নীতি অনুসরণ করে যা অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি সম্পদ চলে যায় বিত্তবানদের ঘরে। সাধারণ মানুষ থেকে যান তিমিরেই। বিশ্ব ক্ষুধা সূচক সেই সত্য ও বাস্তবতাকেই তুলে ধরেছে বিশ্বের সামনে।

Comments :0

Login to leave a comment