বিজেপি’র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি এবং মোদী সরকারের সাম্প্রদায়িক ও জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে জনমত যত বাড়ছে এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যত জোরালো হচ্ছে ততই উদ্বেগ বাড়ছে আরএসএস’র। শাসন ক্ষমতা দখল করে রাজনৈতিক হিন্দুত্বের আগ্রাসী প্রয়োগের মাধ্যমে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণ নিয়েও চিন্তায় আছে আরএসএস। বিজেপি, আরএসএস’র রাজনৈতিক শাখা হিসাবে আরএসএস’র মতাদর্শ অনুসরণ করে কাজ করে। মোদী সরকার আদতে আরএসএস’রই লক্ষ্য পূরণের বাহন। এখন সেই সরকারের কাজ-কর্ম নিয়ে যদি জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে, নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ যদি প্রকাশ্যের আন্দোলনের চেহারা নিতে থাকে তাহলে সরকারের ভবিষ্যৎ বা স্থায়িত্ব নিয়েই সংশয় এসে যায়। বিশেষ করে সাম্প্রতিককালে সিজেপি’র ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির আহ্বানে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা যেভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে এবং দেশজুড়ে যেভাবে আলোড়ন তুলেছে সেটা শুধু মোদী-শাহ’দের রাতের ঘুম ছুটিয়েছে তা নয়, দুশ্চিন্তায় ফেলেছে আরএসএস কর্তাদেরও। তারা বুঝেছেন পরিস্থিতি মোটেই সুবিধার নয়। তাই এর মোকাবিলায় ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে।
প্রথমত দমন পীড়ন, বাক্ স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধিতা ও প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে চুড়ান্ত স্বৈরাচারী কায়দায়। সংবিধানকে কার্যত ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে স্বৈরাচারী শাসন চালু হয়েছে প্রতিবাদ বন্ধ করার জন্য। কিন্তু তাতে যে ক্রমবর্ধমান সরকারবিরোধী মানসিকতা দমানো যায় না বরং বাড়ে সেটা তারা অনুভব করছে। এই অবস্থায় প্রতিবাদী ছাত্র-যুব সমাজকে কলঙ্কিত করতে মিথ্যা ভাষ্য সাজিয়ে গুছিয়ে প্রচার শুরু হয়েছে। সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যম ইতিমধ্যেই সাম্প্রতিক আন্দোলনকে বিদেশি মদতপুষ্ট এবং বিদেশি শত্রুর ষড়যন্ত্র বলে দাগিয়ে দেবার চেষ্টা করছে। এটা অবশ্য সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব পরিকল্পনা নয়। সঙ্ঘ-বিজেপি’র উপর মহল থেকেই এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাই নেতা-মন্ত্রীরা সকলেই এক সুরে কথা বলছেন।
সাম্প্রতিককালে নেপাল ও বাংলাদেশে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে সরকারের পতন ঘটেছে। তার আগে গণবিক্ষোভের মুখে পতন হয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকারের। বর্তমান ফ্রান্সে চলছে ছাত্র বিক্ষোভ। সেখানের সরকার বিপদে আছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও অনুরূপ ছাত্র বিক্ষোভ বাড়ছে। এমন আবহে মোদীরাও ভীত সন্ত্রস্ত। এখানেও এমন অবস্থা ঘটে তাহলে মোদী সরকারের পতন অনিবার্য হতে পারে। তাই সরকার বাঁচাতে সরকারের পক্ষে জেন জি’দের বিক্ষোভ প্রতিবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সঙ্ঘ কর্তা। তিনি এই আন্দোলনে দেশ বিরোধী, হিন্দু বিরোধী এবং আরএসএস বিরোধী বলে দাগিয়ে দিতে চাইছেন। হিন্দু ধর্মীয় আবেগ এবং জাতীয়তাবাদী আবেগ কাজে লাগিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ঢালাও সমর্থন হ্রাসের চেষ্টা করছেন। মোদীও ছাত্র-যুব সমাজকে দিমাগি নকশাল বলে জনবিচ্ছিন্ন করতে চাইছেন।
Editorial
আসরে সঙ্ঘ
×
Comments :0