বিভাজন নিয়ে মাতামাতি করেই ভোট কাটিয়ে দেবে। এমনই ঠিকঠাক ছিল। তৃণমূল এবং বিজেপি তা চাইলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। বাংলাকে নতুন করে গড়ার আহ্বানে বামপন্থীদের প্রচার নাড়া দিয়েছে গোটা রাজ্যকে। রাজনৈতিক আবহে বিভাজনের রাজনীতির সঙ্গে টক্কর দিল রুটি-রুজি শিক্ষা, চাকরির দাবি। ফলে বিজেপি এবং তৃণমূলকেও এবারের প্রচারে বলতে হলো জীবনজীবিকার কথাও।
প্রথম দফার ভোট হয়ে গিয়েছে ২৩ এপ্রিল। ভোটে গুরুত্বপূর্ণ এসআইআর। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত দফার ভোট রাজ্যে। সেই সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যবাসী কী রায় দিলেন। ফলগণনা হবে ৪ মে জানা যাবে ওই দিনই।
বাংলার নির্বাচনে মানুষের রুটি রুজির কথা গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে বামপন্থীদের জন্যই। শ্রমিকের মজুরি, পরিযায়ী শ্রমিকের যন্ত্রণা থেকে কৃষকের ফসলের দাম বামপন্থীদের প্রচারকে জোরালো করেছে। বিভাজনের রাজনীতি ছাড়েনি বিজেপি বা তৃণমূল। প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা চলেছে এসআইআর নিয়েও। কিন্তু তাদেরও শিক্ষা বা কাজের কথা বলতে হয়েছে তাদের প্রচারে। বামপন্থীদের লড়াই রাজ্যের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরল ভোট ময়দানে।
বামপন্থীরা বাংলা বাঁচানোর বিকল্প ভাষ্য হাজির করেছে। হাজির করেছে সম্প্রীতি-ঐক্যের ভাষ্য।
বিভিন্ন অংশের মত, সরকার বিরোধী প্রবণতা এবারের ভোটে প্রবল। প্রথম দফা নির্বাচন থেকে তা বোঝা গিয়েছে। প্রথম দফার ভোটে হিংসা তুলনায় কম হলেও দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণের একদিন আগেই বেশি কিছু উত্তেজনার খবর এসেছে। হুমকি, ভয় দেখানোর রাজনীতির মুখে বামপন্থী এবং তাদের সহযোগী দলগুলির কর্মীদের একযোগে রুখে দাঁড়ানোর খবর এসেছে। বুধবার ভোট ১৪২টি আসনে। কে সরকার গঠন করবে তার নির্ধারণ করবে আগামীকালের ভোটই। তৃণমূলের গত দেড় দশক দেখলে নিশ্চিত তৃণমূল পেশিশক্তি দেখাবে। আর বিজেপি দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। বামপন্থীরা বলছেন কোনও বাহিনী নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারেন একমাত্র মানুষই।
সিপিআই(এম)’র নির্বাচনী ইশ্তেহার ঠিক করার হয়েছিল গত বছর ডিসেম্বর থেকে বাংলা বাঁচাও যাত্রা-য় পথ চলার অভিজ্ঞতা থেকে। রাজ্যের সমস্ত অংশকে ছুঁয়ে এই কর্মসূচিতে মানুষের রোজগার দৈনন্দিন সমস্যাই উঠে এসেছে। সেই কথাই জায়গা পেয়েছে ইশ্তেহারে। পরিবেশ বাঁচানোর দাবি নির্দিষ্ট হয়েছে অতীতের যে কোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায়। শুধুই সমস্যা নয়, এই সমস্যাকে কিভাবে মোকাবিলা করা যায় এর বিকল্প সমাধান কি তার কথাও বারংবার জানিয়েছে বামপন্থীরা। মাইক্রোফিনান্স থেকে পরিযায়ী শ্রমিক, নদী ভাঙ্গন থেকে তৃণমূলের দুর্নীতি, জল জমি জঙ্গল বাঁচানোর কথা বামপন্থীরা বলেছেন সাম্প্রদায়িকতাকে পরাস্ত করার বার্তা দিয়ে।
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শেষ রাতে মানুষকে প্রভাবিত করার খেলা চলে, বহু জায়গা থেকে বিভিন্ন সময়ে এসেছে এমন অভিযোগ। ভয় দেখানো চলে। সেসব জনতাকে নিয়ে রুখে দিয়ে ভোটের প্রস্তুতি বামপন্থীদের।
Election 2026 LEFT
বিভাজনের মোকাবিলার পর কাল বুথ রক্ষার লড়াইয়ে বামপন্থীরা
বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রে বামপন্থী কর্মীরা সাজিয়ে তুলছেন গ্রাম।
×
Comments :0