উৎপল মজুমদার: মালদহ
ভাঙন পরিস্থিতি দেখতে রবিবার
মালদহে এলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। তবে ভাঙন কবলিত এলাকায় সরেজমিনে না গিয়ে আকাশ পথে পরিস্থিতি দেখেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। এদিনই প্রশাসনিক বৈঠকও করেন মনোজ আগরওয়াল।
তবে সংবাদমাধ্যমে তিনি যা যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন তাতে বিগত ১২-১৩ বছরে ভাঙন রোধে কেন্দ্রীয় সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কোন উল্লেখ নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর আমন্ত্রণে রাজ্যে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া। মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলার বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে মালদহে একটি সর্বদলীয় সভা করে সমগ্র বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে ফিরে গিয়ে ভাঙ্গন রোধে কেশকার কমিটি গঠন করেন স্থায়ী ভাঙ্গন রোধের লক্ষ্যে। খেলার কমিটি স্থায়ী ভাঙ্গন রোধে ফারাক্কা ব্যারেজের আপ ও ডাউন স্ট্রিমে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের গঙ্গার দুই পাড় বাঁধানো সহ বেশ কিছু সুপারিশ করেন। যদিও দেবেগৌড়া সরকার ক্ষণস্থায়ী হওয়ায় বিষয়টি রূপায়িত হয়নি। বরং কেন্দ্রে বিজেপি সরকার হওয়ার পর যখন উমা ভারতী সেচমন্ত্রী হন তখন সিদ্ধান্ত নিয়ে নদীর দুই পাড়ে বাঁধানোর বিষয়টিকে কার্যতঃ বাতিল করে দেন। ফলে নদী ভাঙনের ফলে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মানুষ প্রতি বছর নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। রাজ্যে বিগত তৃণমূল সরকারের ১৫ বছর ও কেন্দ্রের ১২/১৩ বছরের বিজেপি সরকার কার্যত উদাসীন ছিল ভাঙন রোধের কাজে। ফলে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে।
এদিকে সিপিআই(এম) মালদহ জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দেবজ্যোতি সিন্হা বলেছেন, ভাঙনের কারণে গঙ্গা ও ফুলহরের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটারে দাঁড়িয়েছে। ভূতনি ও রতুয়ার বিলাইমারির কাছে, এই দূরত্ব কয়েক বছর আগেও ২ কিলোমিটার ছিল। ভবিষ্যতে বিপদ বাড়বে কাহালা বাহারাল মথুরাপুর নাজিরপুর ও নূরপুর সহ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের। এমনকি শহর ও বন্যার বিপদে পড়তে পারে। ওদিকে গোপালপুরে গঙ্গা নদী থেকে বাঁধের দূরত্ব মাত্র ৫০মিটার। নদীর জল বাড়লেই বিপদ আসন্ন। স্থায়ী সমাধান চাই।
দেবজ্যোতি সিন্হা বলেছেন, ভাঙন যেদিকে এগোচ্ছে তাতে ফরাক্কা ব্যারেজ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। ফলে কলকাতা বন্দরের সমস্যা হবে। সমস্যা হবে উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগেরও। আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে ফরাক্কা ব্যারেজের। ফলে এই বিপদের প্রভাব খুবই বড়। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারও দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না। সে কথা মাথায় রেখে স্থায়ী সমাধানের দিকে এগতে হবে সরকারকে। কিন্তু সে কাজ হচ্ছে না।
সিপিআই(এম)’র নির্দিষ্ট দাবি তিনটি। এক, ড্রেজিং করে গঙ্গাকে পুরনো গতিপথে ফিরিয়ে নিতে হবে। তা না হলে চরের মাটি কাটার ব্যবস্থা করতে হবে। ফরাক্কা ব্যারেজের কারণে ব্যাপক পলি জলে। বাধা পেয়ে বদলে যাচ্ছে নদীর গতিপথ। ফরাক্কা ব্যারেজ তৈরির সময়েই এই আশঙ্কা আলোচনায় এসেছিল।
দুই, রাজ্য বাজেটে ড্রেজিংয়ে কিছু বরাদ্দ হলেও মাথায় রাখতে হবে যে এ কাজে খরচ আছে। কিন্তু ভাঙন আটকাতে হবে এখনই। তার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কংক্রিট ঢালাই করতে হবে। বাংলাদেশ বা নেদারল্যান্ডসের মতো দেশে এমন উদাহরণ রয়েছে।
তিন, রাজ্য একা পারবে না। ১৯৮৯ সালেই গঙ্গা জাতীয় নদী হিসেবে চিহ্নিত হয়। এখন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্প নিয়েছে। বরাদ্দও করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্র বারাণসীতে সৌন্দার্যায়ন, গঙ্গার ঘাট বাঁধানো হচ্ছে। অথচ, মালদহ-মুর্শিদাবাদে বিপুল মানুষের জন্য এই প্রকল্পের টাকা খরচ করে স্থায়ী সমাধানের দিকে এগনো হচ্ছে না। কেন্দ্রকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ঘোষণা করে কাজে হাত দিতে হবে।
দেবজ্যোতি বলেন, আইআইটি’র ইঞ্জিনিয়ারদের এনে প্রাথমিক সমীক্ষা করে ৩৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কথা জানিয়েছিল রাজ্য। দ্রুত এ কাজে হাত দিতে হবে।
Comments :0