SSC Recruitment Scam

গেট খোলার লোক নেই, বিপাকে ধূপগুড়ির স্কুল

জেলা

তালা বন্ধ ধূপগুড়ির জুনিয়র হাই স্কুলের গেট। ছবি সঞ্জিত দে।

সঞ্জিত দে: ধূপগুড়ি

এরাজ্যের ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা সহ শিক্ষা কর্মীদের চাকরি বাতিলের ফলে। খেত মজুর দিন মজুর শ্রমজীবী ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষক মাঝারি কৃষক  অধ্যুষিত পরিবারের সন্তানদের প্রথাগত শিক্ষার দরজা একেবারে বন্ধের উপক্রম হয়ে গেল। শিক্ষা গ্রহণের ভিত গড়ার আগেই ভেঙে গুড়িয়ে গেল সব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কোন শিক্ষার আলো দেখাব আমরা বলতে পারেন? দেশের কি ধরনের নাগরিক জীবন আসতে চলেছে ভাবলে ভয়ে শিউরে উঠতে হয়। গভীর হতাশা  ক্ষোভ যন্ত্রণা নিয়ে কথাগুলো বললেন বারঘড়িয়া গ্রামপঞ্চায়েতের বিদ্যাশ্রম কদমতলার দিব্যজ্যোতি বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলের শিক্ষক সঞ্জয় ঘোষ। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই স্কুলের ১২ জন শিক্ষক শিক্ষিকা বাতিলের তালিকায় আছেন। এদের মধ্যে ছয়জনই  বিজ্ঞান বিভাগের। একজন পুরনো শিক্ষক আছেন বিজ্ঞান বিভাগের। তাহলে ভাবুন পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনা  একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। একাদশ দ্বাদশ শ্রেণিতে একমাত্র  এডুকেশনের শিক্ষক ছিলেন তিনিও বাদ হয়ে যাওয়ায় এই বিষয়টিও স্কুল থেকে বন্ধ হয়ে গেল। এবিটিএ’র ধূপগুড়ি জোনাল সম্পাদক  সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘‘বিজেপির বরাবরের চেষ্টা ছিল শিক্ষাকে বানিজ্যকরণ করে কর্পোরেট মালিকদের হাতে তুলে দেবার। তৃণমূল ও সেই লক্ষ্য নিয়ে এগনোর জন্য চাকরি বিক্রি করা সব তথ্য ধ্বংস করে দেবার কাজ করেছে গভীর নীল নকশা নিয়ে। বিপদে থাকবে শ্রমজীবী  খেটে খাওয়া কৃষক পরিবার।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পরীক্ষা চলছে হলে গার্ড দেবার মত প্রয়োজনীয় শিক্ষক শিক্ষিকা নেই, খাতা দেখার মত কেউ নেই। পঠন পাঠন কি হবে জানা নেই।’’ এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তৃণমূল শিক্ষা সেলের অন্যতম নেতা কলকাতার বিকাশ ভবনে থাকায় তাঁর অভিমত জানা যায়নি। সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘‘আমার বাসস্থান ধূপগুড়ি ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষ পাড়ায়। সেখানে অবস্থিত একমাত্র জুনিয়র হাই স্কুলের তালা খোলার মতো কাউকেই দেখলাম না। উচ্চ আদালতের নির্দেশে চাকরি গিয়েছে শিক্ষা কর্মীর, তালা বন্ধ স্কুল। তালা খোলার কেউ আর নেই যে স্কুলে। কারণ ঘোষপাড়া জুনিয়র হাই স্কুলে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষা কর্মী ছিলেন। ধুকে ধুকে চলছিল স্কুল, ১০ দিন আগেই একমাত্র শিক্ষক রতন রায়ের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর স্কুলের ভরসা ছিল একমাত্র শিক্ষা কর্মী অমল মন্ডল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁরও চাকরি গিয়েছে বৃহস্পতিবার। তারপর থেকেই ধূপগুড়ি ঘোষপাড়া জুনিয়র হাই স্কুল বন্ধ প্রায় অবস্থা।  সকাল ১১:৩০ টা বেজে গেল তালা খোলার কেউ ছিলেন না। বিড়ম্বনা কাটাতে স্কুলের তালা খুলতে মৌখিক নির্দেশে পাঠানো হয় অন্য স্কুলের এক শিক্ষিকাকে। স্কুল পরিদর্শকের নির্দেশে তালা তো খুলেছেন, তবে এভাবে কতদিন চলবে ? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায় সরকারিভাবে আর স্কুলের তালা খোলার কোন লোক থাকলো না। বন্ধ হতে বসেছে ধূপগুড়ি ঘোষপাড়া জুনিয়র হাই স্কুলটি।

ধূপগুড়ি ঘোষপাড়া জুনিয়ার হাই স্কুলের মোট পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ৭ জন, একজন শিক্ষক ও এক শিক্ষা কর্মী দির্ঘদিন স্কুলটি চালাচ্ছিলেন। অন্য স্কুলের শিক্ষিকা সৌমিতা রায় বলেন, ‘‘আমি অন্য স্কুল থেকে এসেছি। এই স্কুলের শিক্ষক দশ দিন আগে মারা গিয়েছেন তাঁর মধ্যে উচ্চ আদালতের নির্দেশে যিনি শিক্ষা কর্মী ছিলেন তাঁরও চাকরি চলে গিয়েছে। স্কুলে তালা খোলার আর কেউ নেই। তাই মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়ে আমাকে স্কুল পরিদর্শক এই স্কুলে পাঠিয়েছেন।’’
স্থানীয় বাসিন্দ পূজা দত্ত ঘোষ বলেন, ‘‘ সকাল সাড়ে এগারোটা বেজে গেলও গেট খোলার কেউ ছিলনা। স্কুলটি হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে এই দুশ্চিন্তা হচ্ছে এখন।’’ 
এবিটিএ’র জেলা সভাপতি প্রনব দত্ত বলেন,‘‘স্কুল শিক্ষায় এক বিরাট  অন্ধকার নেমে এসেছে। আজ আমরা চাকরি চুরি বিক্রির প্রতিবাদে শিক্ষা মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এবং যোগ্য শিক্ষকদের সসন্মানে ক্লাস রুমে ফিরিয়ে দেবার দাবিতে মিছিল পথসভা করছি।

Comments :0

Login to leave a comment