GENERAL KNOWLEDGE | BHARATPATHIK RAMMOHUN | TAPAN KUMAR BAIRAGYA | NATUNPATA | 4th YEAR | 22 MAY 2026 | RAJA RAMMOHUN ROY 254

জানা অজানা | ভারতপথিক রাজা রামমোহন রায় | তপন কুমার বৈরাগ্য | নতুনপাতা | ৪র্থ বর্ষ | ২২ মে ২০২৬ | রাজা রামমোহন রায় ২৫৪

নতুনপাতা/মুক্তধারা

GENERAL KNOWLEDGE  BHARATPATHIK RAMMOHUN  TAPAN KUMAR BAIRAGYA  NATUNPATA  4th YEAR  22 MAY 2026  RAJA RAMMOHUN ROY 254

জানা অজানা | ভারতপথিক রাজা রামমোহন রায়

                  তপন কুমার বৈরাগ্য

নতুনপাতা | ৪র্থ বর্ষ | ২২ মে ২০২৬ | রাজা রামমোহন রায় ২৫৪

 

বাংলার সমাজসংস্কারের ক্ষেত্র সর্বপ্রথম যিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করেন তিনি হলেন রামমোহন রায়।আজ থেকে ২৫৪বছর
আগে রাজা রামমোহন রায় হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে
জন্মগ্রহণ করেন।তিনি ১৭৭২খ্রিস্টাব্দের ২২শে মে জন্মগ্রহণ করেন।তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে সতীদাহপ্রথা রোধে।
সতীদাহ প্রথা ছিল হিন্দু অল্পবয়সী বিধবাদের অকালে পুড়িয়ে
মারা।কি নিষ্ঠুর এই প্রথা!ভাবলে গা শিউরে ওঠে।রামমোহনের
জন্মের আগে থেকেই বাংলায় সতীদাহ প্রথা ছিল।ভারতীয় হিন্দু
সমাজে স্বামীর মৃত্যুর পর জ্বলন্ত চিতায় তার অল্প বয়সী স্ত্রীকে
পুড়িয়ে মারা হতো।আগুন থেকে সদ্য বিধবা মহিলা যাতে বেড়িয়ে
না আসতে পারে তার জন্য তাকে নিষ্ঠুর সমাজপতিরা ঘিরে রাখতো।শুধু তাই নয় এই সব সমাজপতিদের ছিল অমানবিক আচরণ।
রামমোহন এই প্রথা নিজের চোখে বেশ কিছু দেখেছিলেন।
তার অন্তর বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছিল।তখনকার ব্রিটিশ সরকার
সতীদাহ প্রথার বিরোধী ছিলেন।কিন্তু হিন্দু সমাজ যাতে রুষ্ট না 
হয় তার জন্য ব্রিটিশ সরকার চোখ থাকতেও অন্ধ ছিল। সতীদাহ
প্রথার বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে শুরু করেন রামমোহন রায়।
১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন।উদ্দেশ্য 
শিক্ষিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।শিক্ষিত মানুষের বিবেকের
জাগরণ হয়।রাজা রামমোহন রায় মনুসংহিতা সহ বিভিন্ন হিন্দু
ধর্মের গ্রন্থ থেকে তুলে ধরেন বিভিন্ন উক্তি।যার মাধ্যমে তিনি দেখান
সতীদাহপ্রথা হিন্দুধর্ম ও শাস্ত্রবিরোধী।তিনি লোকশিক্ষার মাধ্যমে
বাংলার জনগণকে সতর্ক করে তোলেন।জনগণ জেগে ওঠেন।
তিনি সতীদাহ প্রথা বন্ধের জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে একটা
আবেদন পত্র লেখেন।তখনকার বড়লাট ছিলেন লর্ড উইলিয়াম
বেন্টিঙ্ক।তিনি সবেমাত্র তখন ভারতের  বড়লাট হয়ে এসেছেন।
রাজা রামমোহন রায় বাংলার বিশিষ্ট নাগরিকদের স্বাক্ষরসংবলিত
সেই আবেদনপত্র লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের কাছে জমা দেন।
বিশিষ্ট মানুষদের  স্বাক্ষর সংবলিত এই আবেদন পত্রে বেন্টিঙ্ক সাড়া দিয়ে ১৮২৯খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা ডিসেম্বর ১৭নং রেগুলেশন আইনের মাধ্যমে সতীদাহপ্রথা নিষিদ্ধ করেন।এটা ছিল রামমোহনের এক বিরাট জয়।এরপর সুদীর্ঘকালব্যাপী চলা এই নিষ্ঠুর বর্বর প্রথার অবসান হয়।
গোপালকৃষ্ণ গোখলে রাজা রামমোহন রায়কে ভারতীয়
রেনেসাঁর জনক বলে অভিহিত করেন।মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর
তাকে রাজা উপাধি দেন।স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভারত
পথিক উপাধিতে ভূষিত করেন।

 

 

Comments :0

Login to leave a comment