বিশ্বগুরু যতই দেশের ভেতর ৫৬ ইঞ্চি ছাতি ফোলান না কেন বন্ধু ট্রাম্পের শুল্ক হামলার মুখে তিনি কার্যত বেকায়দায়। তার উপর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তিনি লাগাতার যেভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন তাতে বিশ্বমঞ্চে ভারতের মান-মর্যদা সবই ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর রুশ তেল কেনার উপর আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা জারি করলে মোদীরা বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করেছিলেন ভারত দেশের স্বার্থে কোথা থেকে তেল কিনবে সেটা ভারতের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপ মেনে নিতে রাজি নয়। কিন্তু ভারতের বাজার মার্কিন পণ্যের জন্য খুলে না দেওয়ায় ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনার জরিমানা হিসাবে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক ট্রাম্প চাপিয়ে দেবার পর বুক ফুলিয়ে বিরোধিতা করতে পারছেন না মোদীরা, উলটে ট্রাম্পের দাবি মেনে ধাপে ধাপে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাতে শুরু করেছেন। বদলে তেল, গ্যাস, সামরিক সরঞ্জাম আমেরিকা থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি কেনার জন্য একটার পর একটা চুক্তি করছেন।
কিন্তু তাতেও খুশি নন ট্রাম্প। তার স্পষ্ট হুমকি একফোঁটা তেলও কেনা যাবে না রাশিয়া থেকে। সেই লক্ষ্যে কড়া আইন পাশ করিয়েছেন। রাশিয়া থেকে যে দেশ তেল ও ইউরেনিয়াম কিনবে তাদের পণ্য ও পরিষেবার উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হবে। ট্রাম্পের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে থরহরি কম্প শুরু হয়েছে মোদী সরকারের বুকে। বুঝে গেছেন ট্রাম্পের হাত থেকে নিস্তার পাবার উপায় নেই। বড়াই যতই করুন আসলে ভারতের অর্থনীতির যা চরিত্র এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে যতটা মার্কিন নির্ভরতা তাতে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতার প্রশ্নে ভারতের অবস্থান খুবই দুর্বল। নিম্ন প্রযুক্তি নির্ভর ভারতীয় পণ্য প্রতিযোগিতার প্রশ্নে অনেকটাই পিছিয়ে। তাই ট্রাম্পের শুল্ক হামলার মুখে অন্যান্য অনেক দেশের থেকে অনেক বেশি বেসামাল অবস্থা ভারতের। গণনা পদ্ধতি ও তথ্য পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচ অর্থনীতির বৃদ্ধির হার বেশ উচ্চ দেখানো গেলেও বাস্তবে সেটা একান্তই টলমলে। বাজারে চাহিদা খানিক বেড়েছে ঠিকই কিন্তু বেসরকারি লগ্নি নেই বললেই চলে। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না। শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি লগ্নি লাগাতার তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ভারত-মার্কিন শুল্ক সঙ্কটের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা শেষের কোনও দিশা না থাকায় ভারতে লগ্নির ঝুঁকি কেউ নিচ্ছে না। সকলেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
শুল্ক যুদ্ধে ভারত বেকায়দায় থাকলেও চীন কিন্তু তাদের রপ্তানি নতুন নতুন দেশে বাড়িয়ে নিয়েছে। আমেরিকায় রপ্তানি কমলেও ২০২৫ সালে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত যথারীতি এক লক্ষ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়ে গেছে। বেয়ার অর্থের দৌলতে চীন যে পালটা ধাক্কা দিতে পেরেছে তাতে আমেরিকা বাধ্য হয়েছে চীনের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে। ভারতের কিন্তু তেমন কোনও সুযোগ নেই। এদিকে চীনের থেকে যে বিনিয়োগ পাবার সম্ভাবনা ছিল সেটাও মোদীরা ২০২০ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে। দেশের শিল্প বাণিজ্য মহল থেকে বারবার দাবি ওঠার পরও মোদীরা অতি দেশপ্রেম দেখিয়ে চীনকে বর্জন করেছেন। এখন বুঝতে পাড়ছেন এই দুঃসময়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করা দরকার।
India China
স্বাগত চীনও
×
Comments :0