Nipah Bengal

নিপা থেকে সুস্থ হয়েও ‘সেকেন্ডারি‘ সংক্রমণে মৃত্যু নার্সের

রাজ্য

নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত তরুণী নার্সের বাঁচার লড়াই শেষ হল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:৩০ নাগাদ। বারাসতের বেসরকারী হাসপাতালে এই নার্স ধীরে ধীরে নিপা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। বেশ কয়েকদিন ধরে ভেন্টিলেশন সাপোর্টেরও আর প্রয়োজন হচ্ছিল না। কিন্তু গত ১০ ফেব্রুয়ারি নতুন করে অন্য কোন জীবাণুর সংক্রমণ হয়। শেষ দু’দিন ধরে তাঁর আবার ভেন্টিলেশন সাপোর্টের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ভেন্টিলেশন ও প্রয়োজনীয় সমস্তরকম জীবনদায়ী ওষুধপত্র প্রয়োগ করবার পরেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি দেখা যাচ্ছিল না। 
চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেছেন, "এই নার্সের মৃত্যু নিপা ভাইরাসের কারণে কিনা নিশ্চিত নয়। প্রথমবার তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু পরে হাসপাতালে ‘সেকেন্ডারি ইনফেকশন‘ বা হাসপাতাল থেকে নতুন করে সংক্রমিত হন তিনি। সম্ভবতঃ তার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’’ ডাঃ গোস্বামীর ব্যখ্যা, যে কোনও হাসপাতালে অনেক রকমের রোগী থাকেন। অনেক রকমের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের সংক্রমণ থাকে। তা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাছাড়া, দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে থাকার কারণে ওই নার্সের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে গিয়েছিল। ফলে খুব সহজেই সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয়। সেখান থেকেই বিভিন্ন অর্গ্যান ফেলিওরের ফলে মৃত্যু হবার সম্ভাবনা থাকে।’’
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দুজন স্বাস্থ্য কর্মী নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তারপরই নড়েচড়ে বসে রাজ্যস্বাস্থ্য দপ্তর। ওই দুজনের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১৯০ জনকে হোম কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়। বলা হয়েছিল কোন উপসর্গ দেখা দিলে তাঁদের পরীক্ষা করা হবে। এই ১৯০ জনের মধ্যে যে ক’জনের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল তাদের প্রত্যেকেরই পরীক্ষা করা হয়, কিন্তু রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তাহলে কি এই ১৯০ জনের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই? ডাক্তার সুবর্ণ গোস্বামী জানাচ্ছেন প্রতিটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার ‘ইনকিউবিশন পিরিয়ড‘ অর্থাৎ শরীরে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করা থেকে প্রথম উপসর্গ দেখার সময়কাল, প্রতিটির আলাদা আলাদা হয়। নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৪৫ দিন এই সময়কাল থাকতে পারে। জনস্বাস্থ্য নিয়মাবলী অনুযায়ী সর্বাধিক ইনকিউভেশন পিরিয়ড-এর দ্বিগুণ সময়কাল ধরে নতুন কোন সংক্রমণ হল কিনা তার উপর নজর রাখতে হয়। তাই এখনই বলা সম্ভব নয় এই ১৯০ জনের আর নিপা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ৯০ দিন সময় পেরোলে তা নিশ্চিতভাবে বলা যেতে পারে। 
মৃত নার্সের সঙ্গে আরও একজন স্বাস্থ্যকর্মী নিপায় সংক্রমিত হয়েছিলেন। তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। সেই স্বাস্থ্য কর্মীর কি আর শারীরিক জটিলতা বা আবার সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? ডাক্তার গোস্বামী বলেছেন, ‘‘তার থেকে আর অন্য কারোর নিপা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার বা তার নিজেরও সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। কিন্তু বিভিন্ন অতীতের মেডিকেল রিপোর্ট থেকে দেখা গেছে নিপা ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হওয়া রোগীদের প্রায় ২০ শতাংশর মধ্যে নার্ভের সমস্যাজনিত জটিলতা থেকে যেতে পারে। এই বিষয়েও স্বাস্থ্যদপ্তরকে আগামী অন্তত একবছর নজরদারি রাখতে হবে।’’

Comments :0

Login to leave a comment